আব্বাস সিদ্দিকী – ভারতের রাজনীতিতে মজলুম মানুষের নতুন দিশারী !

আব্বাস সিদ্দিকী – ভারতের রাজনীতিতে মজলুম মানুষের নতুন দিশারী !

soumitro dastidar-

আমাদের সাজানো গোছানো সংসারে কোথা থেকে যেন এক অন্য গ্রহের বাসিন্দে ঢুকে পড়তেই চারদিকে একেবারে গেল গেল রব উঠে গেছে।

গ্রাম্য চেহারা, চলনে বলনে ঠিকঠাক আধুনিক, স্মার্ট নয়। টিভি চ্যানেলে অত সাজিয়ে গুছিয়ে কথাও বলতে পারে না। তার ওপর আবার এক পীরজাদা। তাকে মেনে নেওয়া কি আর বাবু ভদ্দরলোকদের পক্ষে চাড্ডিখানি কথা! তাই যা হবার তাই হয়েছে। আব্বাস সিদ্দিকী নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।
এমনিতে সব ঠিকঠাক চলছিল। যেমন চলে। ওই যে কে যেন লিখেছিলেন, আপাত শান্তি কল্যাণ হয়ে আছে। আব্বাস কে নিয়ে আলোচনায় যাবার আগে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের চালচিত্র একটু বলে নেওয়া যেতেই পারে। কারণ যেভাবে স্রেফ আব্বাস কে কাঠগড়ায় তুলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাম্প্রদায়িকতাকে আড়াল করা হচ্ছে সেটা নিতান্তই ভাবের ঘরে চুরি করা এটা পরিষ্কার করা হোক।

Abbas Siddiki, Abbas siddiqi

স্বাধীনতার পরে পরেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় অংশ, যারা এদেশে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন তাদের প্রায় সবাই রাতারাতি কংগ্রেসের মধ্যে ঢুকে কোনরকমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মনোযোগী হলেন। তবে এই অংশটা অপেক্ষাকৃত সমসংখ্যক। এবং মুসলিম সমাজের শিক্ষিত স্বচ্ছল অংশ। কংগ্রেসের কিছু গোষ্ঠীর আপত্তি থাকলেও বিরোধী গোষ্ঠীকে কোনঠাসা করার স্বার্থে মুসলিমদের দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে শীলমোহর দেয় কংগ্রেসের প্রভাবশালী অংশ। তবে বিনিময়ে মুসলমানদের একধরনের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে হয়। কোথাও তাকে প্রকাশ্যে বাজনা বাজানো বা ঈদের উৎসবে বাড়াবাড়ি না করা, মহরমের তাজিয়া বের না করা এইরকম হরেক শর্ত মেনে এরাজ্যে থেকে যাবার অনুমতি মেলে। দল হিসেবে নয় এ সিদ্ধান্ত ছিল কংগ্রেসের মধ্যেকার হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর। সেই সময়ে প্রবল উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির জোয়ারে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কোন বিকল্প রাস্তাও মুসলিম সম্প্রদায়ের ছিল না। একের পর এক মহল্লা থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে বাধ্য হয়ে ঘেটো বন্দী জীবন মেনে নিয়ে চোখের সামনে বিপুল ওয়াকফ সম্পত্তির লুট হওয়া থেকে প্রিয় বসত বেদখল হওয়া সবই অসহায় চোখে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না। ৪৭ সাল থেকে ৫০- এই তিন বছর তবু মানিয়ে গুছিয়ে চলার আপ্রান চেষ্টা সত্বেও ৫০ এর পরে মুসলিম সমাজের এলিট অংশের পাকাপাকিভাবে এ দেশ ছাড়তে বাধ্য হবার পর গরীবস্য গরীব যে মুসলিম জনগোষ্ঠী এদেশে থাকলেন তারা অর্থনীতিক দিক দিয়ে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন। ১৯৭১ সাল অবধি ছবিটা এক। তার ওপর আবার ছিল কথায় কথায় পাকপন্থী বলে হেনস্থা, গুপ্তচর সন্দেহে জেলে পোরা। তীব্র অন্ধকার সময়ের পরে একটু আধটু আলো ফুটতে থাকে ৭১ সালের পর থেকে। ৭৭ সালে বামেদের ক্ষমতায় আসার পরে বর্গা অপারেশন, জমি বন্টনের কিছু সুফল মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও খানিকটা পেলেন। তার আগে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের আমলেও বাঙ্গালী মুসলমানের প্রতি কংগ্রেস কিছুটা সদয় ছিল। এই দুই যোগফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন খানিকটা ধাতস্থ হয়ে শিক্ষা ও নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নতিতে মন দিলেন। বেসরকারী উদ্যোগে আল আমিন ও অন্যান্য কিছু মিশন গড়ে ওঠায় শিক্ষায় আগ্রহী হতে লাগলেন মুসলিম পরিবারগুলো। সরকারী চাকরীতে কোনদিনই মুসলমানের কোন জায়গা ছিলনা। বহুচর্চিত ‘তোষণ’ কালেও ছবিটা কিছু পাল্টায় নি। অর্থনৈতিক দিকে পিছিয়ে পড়া মুসলিম তরুনেরা দলে দলে ভিন রাজ্যে ছুটতে লাগলেন টাকা রোজগার করতে। পাশাপাশি জেলায় জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের অজস্র তরুনেরা ডাক্তার ইঞ্জিনিয়র অধ্যাপক স্কুল শিক্ষক আরো নানা পেশায় সফল হয়ে স্বাধীনতার পরে এই কয়েক বছরের মধ্যে নতুন এক মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজের গোড়া পত্তন করলেন। এই প্রেক্ষিত এড়িয়ে গিয়ে আব্বাস সিদ্দিকীর উত্থান ধরতে পারবেন না।আজ যে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে শ্যামাপ্রসাদীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদের এমন লাল চোখ তার কারণ কিন্তু নতুন উঠে আসা এক ঝলমলে মুসলিম সম্প্রদায়ের উঠে আসার উদ্বেগে।

আজকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অধিকাংশের এই মুসলিম বিদ্বেষের অন্যতম কারণ এই অপর সমাজের এগিয়ে যাওয়া। এ একধরনের থ্রেট। তাদের সুরক্ষিত নিরাপদ বলয়ে অপরের ঢুকে পড়া মানতে না পারার পাশাপাশি দরিদ্র অসহায় যে মুসলিমদের আমরা দেখতে অভ্যস্ত তারা আমার আপনার পাশে বসে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়র অধ্যাপক হয়ে সহকর্মী হবে এটাও মানা সহজ নয়। এ এক সাইকি, মনস্তত্ত্ব। দেশভাগের আগে থেকেই যে সম্ভ্রান্ত অভিজাত পরিবারের লোকজন ওপার থেকে এপারে আসছিলেন তাদের অনেকেই ‘ওদের মাতব্বরি’ মেনে চলতে পারবেন না বলে দেশ ছেড়েছিলেন। এ বোধহয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফল। সামন্ত কাঠামোয় প্রজার কখনোই সমানাধিকার চাওয়ার হক নেই। আর বলাই বাহুল্য বছরের পর বছর ধরে প্রজাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই গরীব মুসলমান।আপাত গণতন্ত্রের আড়ালে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমনে সামন্ততান্ত্রিক মন শুধু থেকেই গেছে বলা ভুল হবে। দিনকে দিন বাড়ছে। আর একটা সমস্যা পাশাপাশি থেকেও কেউ কাউকে না চেনা। চিনতে না চাওয়া। ফলে অজ্ঞতা জন্ম দিয়েছে প্রচুর ভুল ধারনার। তাতে ইন্ধন যুগিয়ে বিজেপি ও অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী দল পরিস্থিতি আরো জটিল করে দিয়েছে। অজ্ঞতার জায়গা নিচ্ছে তীব্র ঘৃনা বিদ্বেষ।

যতই অস্বীকার করি না কেন আব্বাস সিদ্দিকী রাজনীতি করবে, নিজেদের হক দাবী করবে বলা মাত্র এই যে গেল গেল রব তার পিছনে নিঃসন্দেহে আছে ইসলাম ফোবিয়া। ব্যক্তি আব্বাস ভালো কি খারাপ তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।তবে জেনে বা না জেনে ও যে এক অচলায়তনে ঘা মেরেছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ক্ষমতার পরিসরে এক অজ্ঞাত কুলশীলের আগমন মানতে তথাকথিত অনেক প্রগতিশীলদেরই সমস্যা হচ্ছে। সেই দলে শুধুই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির লোকজন নেই। আমি আপনি চেনা অচেনা অনেকেই আছি। আসলে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অনেকেই ধর্ম নিরপেক্ষ সাজি। ধর্ম নিরপেক্ষ হই না। সব দলেই ঘটা করে সংখ্যালঘু সেল আছে। আমরা কত চিন্তিত ওদের নিয়ে এটা বোঝাতে। আমরা ঠিক করে দেব মুসলিম সম্প্রদায়ের ভালমন্দ। বিনিময়ে ভোট চাইব। আমরা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন পালন করব। আমরাই রবীন্দ্র নজরুল দিন করব। ওরা দু একজন মঞ্চে বসে আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষতার সার্টিফিকেট দেব। কিন্তু কোথাও কোন সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের পলেসি বা নীতি নির্ধারনে ভুমিকা নেওয়া চলবে না।

খেয়ালই করিনি কখন এরাজ্যের মুসলিমদের মধ্যে বিপুল পরিবর্তন ঘটে গেছে। সারাজীবন যে কৌম সমাজের কল্পনা করে এসেছি তা কবেই বদলে গেছে। অথচ আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠেরা বদলাইনি। আমাদের কাছে এখনও বাঙ্গালী মুসলমানের চিত্রকল্প সেই দাঁড়ি টুপি, বিরিয়ানি, সুফি গান, লুঙ্গি, বোরখা, হিজাব আর সিনেমা সিরিয়ালে এই যে কত্তা যাই কত্তা। এক সমাজের মধ্যে কত যে ভাগ কেউ তার খোঁজ রাখি না। কবছরে মুষ্টিমেয় বাঙ্গালী মুসলমান সমাজ বদলে গেছে এটা যেমন সত্য। তেমনি তিরিশ শতাংশ মুসলমানের মধ্যে এখনও গরীব মানুষ অনেক বেশি এটাও অস্বীকার করা যাবে না। শহরের এলিট বৃত্তের বাইরে বিশাল গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে তাদের যাপনচিত্র কেমন তা জানিই না। ঈদের পরের দিন ছোট করে কাগজে ছাপা হয় এবারের ঈদ শান্তিপুর্ন ভাবে পালিত হয়েছে। যেন অশান্তি হওয়াটাই দস্তুর। এবার তার ব্যতিক্রম ঘটল।

কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ছবি দেখছিলাম যে এক মুসলিম যুবতী বিজেপিতে যোগ দেবার পরে মঞ্চে বসে থাকা নেতাদের পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করতে যেতেই উন্মত্ত চিৎকার উঠল জয় শ্রীরাম রাম। চোখ মুখ দেখেই বুঝতে অসুবিধে হয় না এ কোন ব্যক্তির কারণে এই উন্মাদনা নয়। এই তীব্র আওয়াজ একটি সম্প্রদায়ের কোন একজনের সমর্পনের জন্য।

এটাইতো আর এস এসের ঘোষিত ডকট্রিন। থাকলে থাকো। দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে আমাদের বশ্যতা মেনে থাকো। আব্বাস সিদ্দিকী বুঝে অথবা না বুঝে এই উন্মত্ত হুঙ্কারের সামনে ভয়ে কুঁকড়ে যাওয়া, পড়ে পড়ে মার খাওয়া এক সম্প্রদায়কে পিঠ সোজা, মাথা উঁচু করে বাঁচতে বলেছেন বলেই চারপাশে এমন ধুন্ধুমার লেগে গেছে।নিত্য দিন খোলাখুলি সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াচ্ছেন যারা তারা সবাই ধোয়া তুলসীপাতা। আর জন্মসূত্রে একজন পীর বংশের হওয়ার ‘দোষে ‘সে হয়ে গেল সাম্প্রদায়িক। এই আব্বাস সিদ্দিকীই মাত্র কয়েক বছর আগে প্রকাশ্যে ২১ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস পালন করেছিল আমরা কেউ তা জানতেও চাইনি। একদিন এই ফুরফুরার দাদা হুজুর আবু বক্কর সিদ্দিকী বাঙ্গালী মুসলমান সমাজে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে তাকে সার্বজনীন করেছিলেন সেটাও আমরা অধিকাংশ মনে রাখিনি। মুসলিম লীগে যোগ দিয়েও তাদের অনেক আচরণ পছন্দ না হওয়ায় দাদা হুজুর সংগঠন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন।

আব্বাস সিদ্দিকী তিনটি মহল থেকে সবচেয়ে নিন্দে কুড়োচ্ছেন। এক বিপুল সংখ্যক উগ্র, ছদ্ম হিন্দুত্ববাদী। দুই, মুসলিম সমাজের পীরবাদের সমালোচকেরা ও এলিট, পিছিয়ে থাকা সমাজের এগিয়ে থাকা অংশ। তিন, কিছু বামপন্থী রাজনীতির লোকজন। প্রথম দল ও তৃতীয় দলের মধ্যে খুব একটা চীনের প্রাচীর নেই।

স্বীকার করবে না কিন্তু এদের অধিকাংশই মুসলিম কোটায় বিশ্বাস করেন। বাইরে থেকে মুসলিম সমাজ দেখেন। ভেতরের খোঁজ রাখেন না। কেন আমার মুসলিম বন্ধু নেই! আমি তার বাড়িতে ঈদের দিন যাই না এদের মুসলিম প্রেম এটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রাজমোহন গান্ধীর একটা বই আছে মুসলিম মাইন্ড বা মুসলিম মন। বইটা পড়লে সৌখিন প্রগতিবাদীদের উপকার হতে পারে।
মুসলিম এলিটদের ছোট্ট একটা অংশ আহা উহু করছেন। কিছুটা বৃহত্তর হিন্দু সমাজ যদি আব্বাসের মতো এক অর্ধ শিক্ষিত গ্রাম্য তরুণকে প্রকাশ্যে সমর্থন করলে যদি জাতিচ্যুত করেন এই আশঙ্কায়।
একবার বলেছি আবারও মনে করিয়ে দেব ব্যক্তি আব্বাস সিদ্দিকী বা তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট না হয়ে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অন্য কেউ কোন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতেন তাহলেও একইরকম গেল গেল রব উঠতো। এখনও অবধি যেটুকু যা দেখেছি তাতে মনে হয় না আব্বাস সিদ্দিকী কোনদিন লাল মওলানা ভাসানী হতে পারবে। এখনও সে নিতান্তই অপরিণত। সংসদীয় রাজনীতিতে চোরা পথ অসৎ হাতছানি কম নয়। সেসব মোকাবেলা করে আব্বাস সিদ্দিকী অন্তত এখন যা বলছেন তাতে অটল থাকতে পারেন তাহলে পশ্চিমবঙ্গের গরীবস্য গরীব মুসলিম ও নিম্ন বর্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের যে লাভ হবে এটা নিশ্চিত।

মওলানা ভাসানী বলতেন মানুষের ধর্ম একটাই। শোষক ও শোষিত। জালিম ও মজলুম। সত্যিকারের মজলুম নেতা হতে গেলে আব্বাস সিদ্দিকী কে বহু যোজন পথ হাঁটতে হবে। ধর্মের লোক হয়েও আব্বাস এখন পর্যন্ত ভোটের পাশাপাশি ভাতের কথা বলেছেন।গরীবের কথা বলেছেন। আব্বাস প্রথম এই পশ্চিমবঙ্গে পিছিয়ে পড়া একটা সম্প্রদায়ের মানুষকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন গরীবের কাছে বেঁচে থাকাই একটা ধর্ম। আব্বাস সেই মানুষদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যারা নিত্য দিন স্রেফ দুমুঠো খাবার, একটা রেশন কার্ড, একটা ওবিসি সার্টিফিকেট বা একশো দিনের কাজের জন্য নেতাদের পায়ে হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতে বাধ্য হন। আব্বাস সিদ্দিকী তাদের শুধু বলেছেন নিজেদের অধিকারে বাঁচো। বাঁচতে শেখো। কারুর দয়া ভিক্ষায় নয়।

আব্বাসের দলের ইস্তাহারে শুধুই অধিকারের সবিস্তার ব্যাখ্যা। এই জায়গায় আব্বাস আর বামপন্থা এক হয়ে যায়। ব্রিগেডের খোলা মাঠে হাজার লাখো মানুষের সামনে সমস্ত রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।

অদ্ভুত এক দ্বিচারিতা আমাদের মধ্যে। কথায় কথায় আমরা কফির কাপে তুফান তুলি লাতিন আমেরিকার রেডিক্যাল থিওলজিস্টদের নিয়ে। অথচ আব্বাস সিদ্দিকী প্রশ্নে অসহিষ্ণু হয়ে গালমন্দ করে উঠি। ভোটে বা ভবিষ্যতে কি হবে না হবে জানি না। কিন্তু এইমুহুর্তে, স্বাধীনতার দীর্ঘ দিন বাদে আব্বাস সিদ্দিকীর মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভাষাহীন জনতার মুখে নতুন করে লড়াই সংগ্রামের ভাষা ফিরে এলো তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই ।

সৌমিত্র দস্তিদার
ভারতীয় লেখক, সাংবাদিক, তথ্যচিত্র নির্মাতা ও রাজনীতিক।

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It