আমরা কি ভাইস্যা আসছি?

আমরা কি ভাইস্যা আসছি?

আজাদ (আজাদ খান ভাসানী) ভাই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। ‘আমরা কি ভাইস্যা আসছি?’ আপাত দৃষ্টিতে খুব সাধারন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও প্রশ্নটির গভীরতা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে? 

একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের প্রতি সরকারের যে আচরণ তার প্রেক্ষিতে ভাইস্যা আসার অনুভুতি হওয়া স্বাভাবিক? একেবারে ভাইস্যা না আসলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কোন সরকারের আইন প্রণেতারা জনগণের প্রশ্ন তোলার অধিকার কি হরণ করতে পারে? জনগনের নূন্যতম অধিকার গুলো খর্ব করতে পারে? আসেন প্রশ্নগুলো তোলার চেষ্টা করি।

যেই দেশে জনগণ নিজের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার অধিকার হারিয়ে বসে আছে সেই দেশের জনগণকে যে সরকার বানের জলে ভাইস্যা আসার মতোই মনে করে তা নিশ্চই বলে দিতে হয়না। এমনকি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে যেখা শুধুমাত্র সাধারন জনগণ নয় বরং সাংসদদের মত প্রকাশের অধিকারকেও বন্ধ করে একটা স্বৈরতান্ত্রিকতার চর্চা স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আসছে সেটাকেই বা কিভাবে দেখা যায়।

গত এক বছরব্যাপী চলমান করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের প্রতি সরকারের যে অবহেলা এবং যে ঔদ্ধত্য আমরা দেখে আসছি তাকেই বা কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? গতবছর লকডাউনে শ্রমিকদের সাথে সরকার এবং মালিক পক্ষের যে আচরণ, পাটকল বন্ধ করে দেওয়া, চিনিকলগুলোকে অস্তিত্বের সংকটে ঠেলে দেওয়া তাকেই বা আমরা কিভাবে বিচার করব? লকডাউনের সময় নিম্নবিত্ত মানুষের খাবারের সংস্থান না করেই বরং পুলিশ দিয়ে পেটানো এবং মুভমেন্ট পাসের নামে প্রহসন কি আমাদের বোধের উদয় করতে সক্ষম হয়েছে কিংবা সেই ৩৪ টি লাশ যার কারণ সাংসদের মালিকানাধীন কার্গো! বাঁশখালিতে শ্রমিকের বুকে চলা গুলি আমাদের কি বার্তা দেয়। কি বার্তা দেয় কারাগারে মৃত্যু বরণ করা শহিদ মোশতাক? 

নরেন্দ্র মোদীর আগমনের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলনে নেমেছিলেন সেইসব মানুষকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে হত্যা এবং এখন অবধি চলমান নিপীড়ন?

এতোক্ষণ প্রশ্ন গুলো তুলিছিলাম আসেন এইবার একটু আমাদের শিশুদের পাঠ্য পুস্তকের ভেতর দিয়ে ঘুরে আসি। প্রথম শ্রেনী থেকে দশম শ্রেনীর বইগুলোর পেছনে বড় বড় করে লিখে দেওয়া হয়েছে, 

শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ,
শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নামক এই ভূখন্ডটি আপনার-আমার তো নেইই, নেই আমাদের বাপ-দাদাদেরও এমনকি আমাদের সন্তানদেরও অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হল নির্লজ্জ ভাবে। এখনও কি আমাদের টনক নড়বেনা?

ধর্ম বনাম বিজ্ঞান, চেতনা বনাম চেতনা বিরোধী, প্রগতিশীল বনাম হেফাজত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বনাম আমজনতার সন্তান, পুলিশ বনাম জনগন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনাম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আদিবাসী বনাম বাংগালী, পাহাড়ি বনাম সমতলবাসী যে বাইনারি সরকার রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে তৈরী করেছে তার ফাঁদে পা দিয়ে আমরা কেবল এই জুলুমে জাহেলিয়াতকেই প্রলম্বিত করে যাচ্ছি কি না? 

যদি সত্যিকার অর্থে এই ভূখন্ডে জনগনের রাজনীতি বিনির্মাণ করতে হয় তবে বিচ্ছিন্নভাবে নয় বরং এই সমস্ত বিষয় একসাথে ভাবতে হবে আমাদের গ্রামে যেভাবে বলে, নলেজে রাখতে হবে। সম্মিলিতভাবে প্রশ্ন করতে হবে আমরা কি ভাইস্যা আসছি? 

জাফর মুহাম্মদ
রাজনৈতিক কর্মী ও চিন্তক

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It