একদিকে সম্ভাবনা অন্যদিকে ধ্বংসের আয়োজন!

একদিকে সম্ভাবনা অন্যদিকে ধ্বংসের আয়োজন!

al-amin-shaikh

বনিক বার্তায় সরেজমিনে করা আজকে প্রকাশিত একটা রিপোর্টে বলা হয়েছে, হাকালুকি হাওড়ে এবার মাছ উৎপাদন বেড়েছে ৫ শতাংশেরও বেশি। মৌসুমের শেষ দিকে এসে ধরা পড়ছে প্রচুর পরিমাণের দেশী প্রজাতির মাছ। জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, করোনাকালে হাওড়ে মানুষের চাপ কম থাকায় মাছের স্বাভাবিক প্রজননের সুযোগ বেড়েছে। বিপন্ন প্রজাতির মাছের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। রিপোর্টে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, উৎপাদন থেকে যে লাভ হবে তার প্রায় পুরো অংশই যাবে পুঁজি মালিকের ঘরে। কারণ সমিতির মাধ্যমে ইজারা সিস্টেম থাকলেও তা বিভিন্নভাবে পুঁজি মালিকদের সুযোগ করে দেয়। সেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়তো আরো গভীরভাবে করতে হবে। আরেকটি নিউজ গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় দেখলাম, গারো পাহাড়ে তরমুজের ফলন বেড়েছে, পিরোজপুরে তরমুজ চাষীদের বাম্পার ফলনের খবরও সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। কিছুদিন আগে আমি আমাদের গ্রাম ও আশেপাশে এলাকা ঘুরে দেখেছি এই মৌসুমে ইরি ধানের ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তাছাড়া উৎপাদন ভালো হওয়ায় অনেকে নতুন ফসল উৎপাদনের দিকে আগাচ্ছেন। কৃষি ক্ষেত্রে নতুন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রযুক্তির সুবিধা এক্ষেত্রে কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহ জোগাচ্ছে।

কিন্তু অন্যদিকে তাকালে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই, ধ্বংসের সমস্ত আলামত আমাদের সামনে হাজির হয়। কিছুদিন আগে ঢাকা ট্রিবিউনের খবরে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কথা কোট করে বলা হয়েছে, তিনি বলেছেন,

যে হারে কৃষি জমির পরিমাণ কমছে এভাবে চলতে লাগলে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে আর কোন কৃষি জমি অবশিষ্ট থাকবেনা। 

গতকাল দেশ রূপান্তরের রিপোর্টে খুলনার ভয়াবহ পানি সংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আজকের ডেইলি স্টারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সারা পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ২০ বছরে গড় হিসাবে ১.৫ ভাগ বেড়েছে। যা ভয়ঙ্কর! কিন্তু তার চেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো,  রিপোর্টে বলা হচ্ছে, গত ২০ বছরে ঢাকা শহরে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমাদের দেশের প্রধান শহরগুলোর অবস্থাও নাকি প্রায় একই রকম! অস্বাভাবিক তাপবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে: অধিক জনসংখ্যা, সুউচ্চ বিল্ডিং, সবুজ বনায়ন না থাকা। পুরো সিস্টেম এভাবে চলছে, পুঁজিবাদে সর্বনাশা গ্রাসে সবকিছু আক্রান্ত! আগে শুধু ঢাকা শহরের পরিবেশের কথা বলা হতো এখন দেশের অন্য বড় শহরগুলোতেও একই অবস্থা তৈরি হয়েছে। গ্রাম ধ্বংস করা হচ্ছে, বছর বছর শহরের আকার বাড়ানো হচ্ছে। উন্নয়নের ঝলকানিতে গাছের রংও বদলে যাচ্ছে অথচ চোখের সামনে কতোশত সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এখানে পুঁজির মালিকেরা ব্যক্তি পুঁজি বাড়ানোর স্বার্থে প্রাণ-প্রকৃতি, নদী-নালা, কৃষি জমি ধ্বংস করছে। আর এসব চলছে সরাসরি সরকারের পৃষ্টপোষকতায়। এখন সময় আমাদের করণীয় ঠিক করা।

আল-আমীন শেখ
রজনৈতিক কর্মী
সংগঠক, পাটকল রক্ষা শ্রমিক আন্দোলন

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It