করোনাকালকে লুপ্ত ঘোষণা করে চাকরির বয়স বাড়ানোর দাবী ছাত্র ফেডারেশনের

করোনাকালকে লুপ্ত ঘোষণা করে চাকরির বয়স বাড়ানোর দাবী ছাত্র ফেডারেশনের

চাকরির বয়স বাড়ানোর দাবী

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের আয়োজনে “করোনার বছরগুলোকে লুপ্ত বছর হিসেবে ঘোষণার দাবিতে” সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আজ ১১ জুন (শুক্রবার) বিকাল সাড়ে ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক জাহিদ সুজনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক এম এইচ রিয়াদ।

সমাবেশে  বক্তারা বলেন, করোনার দুই বছর চলাকালীন বিপর্যস্ত বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম। সরকারের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে বহুজন হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে শিক্ষা কার্যক্রমের অবস্থাও হয়ে পড়েছে নাজুক। আমরা আরো দেখেছি, করোনার সময়ে রাষ্ট্র ও সরকার জনমানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো পাটকল ও চিনিকলগুলো বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে কর্মহীন করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন বেকার তখন শিল্পায়নের ও কর্মসংস্থানের নতুন কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ না করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় অনবরত ছাঁটাই চলছে। 

বক্তারা জানান, করোনাপূর্ব কালেই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ প্রায়। করোনাকালে বেশির ভাগ নিয়োগ পরীক্ষা আটকে থাকায় সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে অনেকের। সেই সংখ্যা ধরলে এবং করোনার অযুহাতে ছাঁটাইয়ের সংখ্যা বিবেচনায় আনলে বর্তমানে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৫ লক্ষ। সমাজে হতাশা, নৈরাজ্য এসে বাসা বাঁধার একটি অন্যতম কারণ এই বেকারত্ব।

জাহিদ সুজন বলেন, তথাকথিত প্রথম বিশ্বের সকল পরিবেশ বিধ্বংসী শিল্পগুলোকে ঠেলে দেয়া হয়েছে তথাকথিত কম মাথাপিছু আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর পুঁজিবাদী শাসননীতির কারণে দেশীয় শিল্পগুলো একে একে বন্ধ করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের পরিবেশ যেমন ধ্বংস হচ্ছে তেমনি অধিক মুনাফার আশায় মালিকপক্ষ মানসম্মত বেতন নিশ্চিত না করার কারণে বহু শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে একটি সরকারি চাকরির। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও যেভাবে সিভিল সেলারিয়ান তৈরি করছে সরকারের নীল-নকশা বাস্তবায়নে, সেই হারে তৈরি করছে না মানসম্মত গবেষক। ফলে শিক্ষা আর গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ায় তলানীতে বাংলাদেশের স্থান। অথচ উন্নয়ন সূচকে ‘উন্নয়নশীল দেশের ক্যাটাগরীতে বাংলাদেশ’ সরকারি এই গর্বের শেষ নেই। অথচ এখানে বছরে অন্তত কয়েকশ মানুষ চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা করছে।

জাহিদ সুজন, অনতিবিলম্বে দেশীয় শিল্পবান্ধব শিল্পনীতি তৈরি করার পাশাপাশি দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করার জন্য সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা দাবি করেন। যেহেতু নিয়োগ পরীক্ষার হার ১৩% এ নেমে এসেছে, তাই করোনার কালকে লুপ্ত বছর ধরে ২০২০ এর এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের পর থেকে সকল ব্যাচের জন্য চাকরির বয়স উন্মুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতি ন্যূনতম মানবিক থাকলে সরকারকে অবশ্যই এই দাবি মাথায় নিতে হবে।।

তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালে চাকরিতে অবসরের সময় দুই বছর বাড়লেও চাকরিতে যোগদানের বয়স এখনো বাড়ে নি। তাছাড়া ১৯৯২ সালে যখন সরকারি চাকরিতে যোগদানের বয়স সীমা ২৭ থেকে ৩০ করা হয়, তখন আমাদের গড় আয়ু ছিলো ৫৭ বছর। এখন আমাদের গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে। ফলে এই দিক বিবেচনা করলেও সরকারের চাকরিতে যোগদানের বয়স না বাড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ দেখি না। অবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে নেয়া হোক।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক সৈকত আরিফ ও সম্পাদক অনুপম রায় রূপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সজীব হোসেনসহ প্রমুখ।

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It