প্রান-প্রকৃতি রক্ষার লংমার্চ

প্রান-প্রকৃতি রক্ষার লংমার্চ

Alimul kabir on mazloom voice

বিস্তীর্ণ দুপারের, অসংখ্য মানুষের-
হাহাকার শুনেও,
নিঃশব্দে নীরবে- ও গঙ্গা তুমি-
গঙ্গা বইছ কেন?

শিল্পীঃভূপেন হাজারিকা

রাজনৈতিক কর্মসুচী হিসেবে লংমার্চের উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত চায়নীজ জনগণ। ৫০ এর দশকে চায়না কমিউনিষ্ট পার্টির নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদীদের দালালদের শাষন উচ্ছেদ করে জনগণতান্ত্রিক চীন গড়ে তুলতে ঐ লংমার্চের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভুমিকা ব্যাপক। সেই লংমার্চ ছিলো লম্বা সময় ধরে চলা, প্রবল স্রোতস্বিনী ঢলের মতো অপ্রতিরোধ্য জোয়ার হয়ে সকল বাঁধা ডিঙ্গিয়ে বিজয়ী হওয়া, জনপদের সকল মানুষের জীবনে আমূল প্রভাব বিস্তারকারী। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম লংমার্চ হয়েছিল মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে তারিখে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে। চীনের লংমার্চের তুলনায় এটা হয়তো কিছুই নয়, কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে সেটাই প্রথম ও শেষ নজীর।    

১৯৭৬ সালের মে মাসে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী পিজি হাসপাতাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ ঘোষণা করেছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অনেক আপত্তি ও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি সত্বেও তিনি থামেননি। তাঁকে যখন রাজশাহী নেওয়া নিয়ে অনেকে গড়িমসি করছিলেন বলে মওলানা সাহেব প্রকান্ড হুঙ্কার ছেড়েছিলেন- ‘কি মনে কর মিঞা, তোমাগো শরীরে মানুষের রক্ত নি আছে! চল, সামনে চল।’ কেন তিনি এতোটা উতলা হয়েছিলেন জীবনের অন্তিম সময়ে এসে? একেবারে ভারতীয় সীমান্তের নিকটবর্তী কানসাট গ্রামে মিছিল থামল যখন মাওলানার অবস্থা তখন সঙ্গিন। প্রায় সংজ্ঞালুপ্ত অবস্থায় তিনি দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে কানসাটের জনসভাটিতে বজ্র কঠোর কন্ঠে গুরুগম্ভীর ভাষায় দেড় ঘন্টাব্যাপী জীবনের বিদায় হ্বজের ভাষনের মতো শেষ বক্তৃতায় কি কথা বলতে তিনি উদগ্রীব হয়েছিলেন এতো?  

Mowlana bhashani on farakka long march

এই প্রশ্নগুলোর কিছুটা মেলে লংমার্চে অংশগ্রহণকারী আহমদ ছফার বর্ননায়। মওলানা ভাসানী প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘পেশাবের বেগ তিনি ধরে রাখতে পারছেন না, বেদনায় তাঁর সমস্ত মুখ ফ্যাকাশে হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে সর্বনাশ ঘটছে এটা তাঁর চেয়ে কেউই আর এতো স্পষ্ট করে বোঝেনি। ফলে জীবনের শেষ সেকেন্ডগুলো তিনি হিশাব করে খরচ করছিলেন।
মওলানা তাঁর বক্তৃতায় বলেন-‘গঙ্গার পানি আমাদের ন্যায্য হিস্যা, এটা আমাদের প্রাকৃতিক অধিকার, এই অধিকার শুধু মানুষের একার নয়, পশু-পাখি, গাছপালা, কীটপতঙ্গ প্রাণবান সবকিছুর একান্ত জন্মগত অধিকার। যারা এই অধিকার হরণ করছে তারা প্রাণের বিরুদ্ধে জুলুম করছে। ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে এই অঞ্চলে প্রাণের বিকাশ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে চাইছে। বাংলাদেশের প্রাণবান মানুষ এই জুলুম কিছুতেই মেনে নিতে পারে না এবং ভারত জুলুমবাজি করে শেষ পর্যন্ত কোনদিনই জয়যুক্ত হতে পারে না।’   

ইন্দিরা গান্ধীর কাছে চিঠি লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন দেশে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে তদবির করেছেন, ওয়াইসিতে বিল উঠানোর জন্য মহাসচিবকে ফোন করেছেন, শেষে এসে জনগণের সাথে করে লংমার্চ করেছেন। ফারাক্কা বাঁধ বিরোধী তাঁর এই সংগ্রাম বিচ্ছিন্ন কিছু ছিলোনা। মওলানার ‘পালনবাদী’ রাজনীতি সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সকলকেই জীবন ও প্রকৃতির উপহার দান করেন; বিধর্মী, কাফের বা নাস্তিককেও কখনো তিনি সূর্যের আলো, পানি, বাতাস বা তার রিজিক থেকে বঞ্চিত করেন না। তিনি যতটা “প্রভু” বা “শাসনকর্তা” তাঁর চেয়েও বেশি হলেন ‘পালনকারী’। এই প্রকৃতিজগত হচ্ছে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া সৃষ্টিকর্তার আমানত। সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে প্রাণ-প্রকৃতির এই লালনপালনের দ্বায়িত্ব মানুষের উপরে কর্তব্য আকারে বর্তিত। প্রাণ-প্রকৃতিকে ব্যক্তিগত কিংবা জাতীয় সম্পত্তি জ্ঞান করে দখল করা এবং তার উপরে অন্যদের দাবীকে উপেক্ষা করা তাই সৃষ্টিকর্তার সাথে বেইমানি করা। আশরাফুল মাখলুকাত সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ট সৃষ্টি হিসেবে মানুষের দ্বায়িত্ব হচ্ছে পালনকারীর ভুমিকায় থেকে প্রাণ-প্রকৃতিকে রক্ষা করে সবার হক নিশ্চিত করা। 

মওলানা ভাসানী সারা পৃথিবীর সামনে প্রান-প্রকৃতি-জলবায়ু রক্ষার প্রশ্নে এক নতুন রাজনীতির সূচনা ঘটাচ্ছিলেন ফারাক্কা বাঁধ বিরোধী তাঁর এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ৯৬ বছরের অশীতিপর বৃদ্ধ রাজনীতিবিদ তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার না থাকায় তা করতে ব্যর্থ হলেও আজকের দিনে এসেও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার সেই রাজনীতি আরোও জরুরি বিবেচনায় হাজির হয়েছে। বর্তমানে বৃহৎ পুজির ব্যাবসায়িক স্বার্থ ও পানিসম্পদবিষয়ক আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্য থেকে ভারত কিংবা চীন আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ যেসব নদী কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে তার বিরুদ্ধে দেশে দেশে ‘জনগণের মৈত্রী’ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আবারো মওলানা ভাসানী ও তাঁর ‘পালনবাদী’ রাজনীতি সামনে নিয়ে এসেছে। 

ফারাক্কা ব্যারাজের ভারতীয় কাঁটাতারে নিহত প্রাণ-প্রকৃতি 

কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ঠিক রাখা এবং ভাগীরথী ও গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহের ঘাটতি যাতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে ফারাক্কা ব্যারাজ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শুরুতে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকার। হুগলী-ভাগীরথী নদীর নাব্যতা ধরে রাখার পথ খুঁজতে ১৮৫১ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে পাঁচটি সমীক্ষা করা হয়েছে। এসব সমীক্ষার লক্ষ্য ছিল একটিই, কীভাবে গঙ্গার পানি ঘুরিয়ে হুগলী-ভাগীরথীর যৌবন অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত থেকে ভারতের মাত্র ১৮ কিলোমিটার ভেতরে ফারাক্কার মূল নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে। প্রায় ৭,৩৫০ ফুট লম্বা এই ব্যারাজ বানাতে তখনকার হিসাবে খরচ পড়েছিল প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। সহায়তা করেছিল সোভিয়েত রাশিয়া!  

১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ভারতের সাথে গঙ্গার পানি প্রশ্নে জরুরি আলোচনা শুরু করে এবং গঠিত হয় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন (JRC)। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে শেখ মুজিবর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী এক যৌথ ঘোষণা দেন যে, ফারাক্কা প্রকল্প চালু করার আগে গঙ্গায় বছরে সর্বনিম্ন প্রবাহের সময়কালে অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমের পানি ভাগাভাগির পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে কোন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আগে ফারাক্কা বাঁধ চালু করা হবে না। ১৯৭৫ সালে ভারত পরীক্ষামুলকভাবে ফারাক্কা বাঁধের ফিডার ক্যানাল চালু করতে বাংলাদেশের কাছে অনুরোধ করে এবং সেসময় ভারত ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১০ দিন ফারাক্কা থেকে ৩১০-৪৫০ কিউবিক মিটার/সেকেন্ড গঙ্গার প্রবাহ প্রত্যাহার করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অনুমতি চায়। বাংলাদেশ বন্ধুত্বের বিশ্বাসে  এতে সম্মতি জ্ঞাপন করে। ভারত বাঁধ চালু করে দেয় এবং চুক্তি ভংগ করে নির্ধারিত সময়ের পরেও একতরফাভাবে গঙ্গার গতি পরিবর্তন করতে থাকে যা ১৯৭৬ সালের পুরা শুষ্ক মৌসুম পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।   

Farakka Long March

ভারত মুজিব-ইন্দিরা যৌথ ঘোষণার দ্বিতীয় বর্ষ পুর্তির দিনে মওলানা ১৯৭৬ সালে ১৬মে মওলানা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লংমার্চের ডাক দেন। উপমাহাদেশের রাজনীতিতে আলোড়ন তোলা এই লংমার্চে বাংলাদেশের বিপুল অধিকাংশ মানুষ তাড়িত হন প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের আসন্ন ধ্বংসযজ্ঞের কথা ভেবে। ভারতকে একতরফাভাবে গঙ্গার পানি প্রত্যাহার থেকে বিরত করতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ এব্যপারে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হয়। ১৯৭৬ সালের ২৬ নভেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি সর্বসম্মত বিবৃতি গৃহীত হয় যাতে অন্যান্যের মধ্যে ভারতকে সমস্যার একটি ন্যায্য ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর জের ধরে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর দুই দেশ ফারাক্কায় প্রাপ্ত শুষ্ক মৌসুমের জলবণ্টনের ওপর ৫ বছর মেয়াদি (১৯৭৮-৮২) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১৯৮২ সালের অক্টোবর মাসে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আর গঙ্গার জলের ভাগবাটোয়ারা হয়নি। বণ্টন সংক্রান্ত এই অস্থায়ী ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকায় বিভিন্ন খাতে গঙ্গার পানির আরও অর্থবহ ও সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।

পরবর্তীকালে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৗড়া ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বহুল আলোচিত গঙ্গা চুক্তি” তে স্বাক্ষর করেন। ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, নদীতে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে দুই দেশ সমান সমান পানি ভাগ করে নেবে। পানির পরিমাণ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে ৪০ হাজার কিউসেক পাবে বাংলাদেশ, অবশিষ্ট প্রবাহিত হবে ভারতে। আবার নদীর পানির প্রবাহ যদি ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হয় তাহলে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাবে ভারত, অবশিষ্ট পানি প্রবাহিত হবে বাংলাদেশে। তবে কোন কারণে যদি ফারাক্কা নদীর পানির প্রবাহ ৫০ হাজার কিউসেকের নীচে নেমে যায় তাহলে দুই দেশে কে কী পরিমাণ পানি পাবে সেটা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। গত ২৫ বছর ধরে চলা অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে বহুল আলোচিত এই চুক্তির শুভঙ্করের ফাকি হলো- চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় অংশে পানি পরিমাপ করা হয় ফারাক্কা ব্যারাজ পয়েন্টে, সেখানেই শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না। গঙ্গার উৎপত্তি হিমালয় থেকে, গঙ্গার উজানে উত্তর প্রদেশ, বিহারসহ আরো অনেক প্রদেশে অনেক বাঁধ ও ড্যাম আছে৷ সেখান থেকে ব্যপকভাবে পানি প্রত্যাহার হচ্ছে ফলে ফরাক্কা পয়েন্টে পানি মাপার আগেই অনেক পানি প্রত্যাহার হয়৷ ওই পয়েন্টে এমনিতেই অনেক কম পানি থাকে৷ ফলে মোট পানি প্রবাহের হিস্যা বাংলাদেশ পায় না। উত্তর প্রদেশ বা বিহারে অবাধে পানি প্রত্যাহার করে ভারত৷ এর হিসেবও স্বচ্ছভাবে দিতে চায় না ৷ ভারত উজানের দেশ হিসেবে নদীর পানি প্রত্যাহার করে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তাতে প্রলুব্ধ হয়েছে চীন। চীনও ব্রহ্মপুত্রের পানি একতরফা সরিয়ে নিতে প্রস্তুত এখন, যেখানে এখন ভারতের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে । ২০১৯ সালে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ওয়াটার কাউন্সিলের করা একটি স্বাধীন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শতকরা ৬৫ ভাগ সময়ে বাংলাদেশ তার নায্য হিস্যা পায়নি।
(সুত্রঃ https://iwaponline.com/wp/article/21/2/259/66094/A-critical-review-of-the-Ganges-Water-Sharing

ভারত কর্তৃক শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির ব্যাপক প্রত্যাহার বাংলাদেশের গঙ্গা-নির্ভর এলাকার জনগণের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মনুষ্যসৃষ্ট এই দুর্বিপাক দেশের সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে। গত ৪৫ বছর একটানা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশকে কৃষি, মৎস্য, বনজ, শিল্প, নৌপরিবহণ, জলসরবরাহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বাংলাদেশের এসব ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরোক্ষ ক্ষতি হিসাবে আনলে এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
(সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া)  

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে অত্যধিক লবণাক্ততার আক্রমণ নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের দক্ষিণ উপকূলের নদ-নদীর পানিতে ক্রমেই বাড়ছে লবণাক্ততা। সেই বৃদ্ধির হার এতটাই যে মিঠাপানির নদী কীর্তনখোলাতেও তা বিস্তৃত হয়েছে। বরিশাল মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) জরিপ অনুযায়ী, সাগরের কাছের বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুরের বলেশ্বর, পায়রা, বিষখালী, আন্ধারমানিক, লোহালিয়া, রামনাবাদ, আগুনমুখা প্রভৃতি নদ-নদীর পানিতেও লবণাক্ততার মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে এবং দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। বছর দশেক আগেও এসব নদ–নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা বাড়ত এপ্রিল থেকে মে-জুনে। এখন এসব নদ–নদীতে লবণাক্ততার মাত্রা বাড়ে ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকেই, আর ভারী বৃষ্টি না হলে লবণাক্ততা আর কমে না। পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় তাদের পরীক্ষাগারে এ অঞ্চলের ১০টি নদ-নদীর পানি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। এর মধ্যে কীর্তনখোলা নদীর পানি পর্যবেক্ষণ শুরু হয় গত বছর থেকে। নদীর তিনটি স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তারা এর মান পরীক্ষা করে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কীর্তনখোলার পানির গুণগত মান ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খুবই স্বাভাবিক ছিল। ওই সময়ে নদীর পানির তড়িৎ পরিবাহিতা বা ইলেকট্রিক্যাল কনডাক্টিভিটি (ইসি) ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ মাইক্রো সিমেন্স/সেন্টিমিটার পর্যন্ত। কিন্তু মার্চে নাটকীয়ভাবে এই মান বেড়ে হয় ১,৩৬২ সিমেন্স/সেন্টিমিটার। কিন্তু এর সহনীয় মাত্রা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১,২০০ সিমেন্স/সেন্টিমিটার।
(সুত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ৯ এপ্রিল ২০২১)।

স্বাদুপানির প্রবাহ হ্রাস নদী প্রবাহের লবণাক্ততার ওপর কি প্রভাব বিস্তার করে এটি তা ইঙ্গিত করে। শুষ্ক মৌসুমে স্বাদু পানির সরবরাহ হ্রাসের কারণে ভূগর্ভস্থ পানিস্তরে লবণ পানির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। হ্রাসমান পৃষ্ঠপ্রবাহ অথবা এই অঞ্চলে জলের উপরিভাগে লবণ পানির অনুপ্রবেশ, পুনঃসঞ্চারণ, প্রত্যাহার ও প্রাকৃতিক অবমুক্তির বেগবান ভারসাম্যকে ক্ষুন্ন করবে। এই অঞ্চলের বর্তমান লবণাক্ততা এখানকার কৃষি, মৎস্য চাষ, রসায়ন ও শিল্প-কলকারখানাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। 

অন্যদিকে ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়  সাম্পতিক বছরগুলোতে প্রবল বন্যার জন্য দায়ী করা হচ্ছে  ফারাক্কা বাঁধকেই। এসব রাজ্যের জেলাগুলোকে প্রতিবছরের বন্যার কবল থেকে রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন বিহারে পানিসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার ঝা। ২০১৯ সালের বন্যা সামলাতে না পেরে  তিনি বলেছেন, গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধটি হয় সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলতে হবে না হলে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো নিশ্চিত করতে যেকোন  ‘টেকসই সমাধান’ বের করতে হবে।
(সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, ০২ অক্টোবর ২০১৯)

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারও ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিহারে গঙ্গা অববাহিকায় বন্যার জন্য ফারাক্কা বাঁধ দায়ী। বক্সার থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত গঙ্গার নাব্যতা অনেকটাই কমেছে। ফলে জল জমে তা দু’পার ছাপিয়ে যাচ্ছে এবং বন্যা কবলিত এলাকা বাড়ছে। তাই ফারাক্কা বাঁধের পুনর্মূল্যায়ন জরুরি। ফারাক্কা বাঁধ ভেঙে দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন নীতিশ। বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য তিনি একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর দাবি জানালে মোদি তা মেনে নিয়েছেন।
(সূত্র: আনন্দবাজার, ২৪ অগাস্ট ২০১৬) 

মহাপ্রাচীরের দেশ চীনের ব্রহ্মপুত্রমহাবাঁধ’! 

তিব্বতের শানান অঞ্চলে ইয়ারলাং সাংপো নদীতে চীনের জলবিদ্যুৎ তথা বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধের খবর বাংলাদেশে তেমন একটা হয়নি, তবে ভারতে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে এসেছে আরেকটি আশংকাজনক খবর। ইতিহাসের বিচিত্র পরিহাস, হয়তোবা এই প্রথম অভিন্ন নদী নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বার্থ একলাইনে দাঁড়াচ্ছে। এবারের ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে পৃথিবীর উচ্চতম নদী ইয়ারলাং সাংপো, এই নদীটি চীনের তিব্বত থেকে নেমে ভারতের অরুণাচল ও আসাম প্রদেশ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিব্বতে এর  নাম সাংপো,  অরুণাচলে সিয়ং এবং আসাম ও বাংলাদেশে এর নাম হয়েছে ব্রহ্মপুত্র। কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোয়ালন্দের কাছে এটি পদ্মায় মিলেছে। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে তিস্তা নদী এসে পড়েছে ব্রহ্মপুত্রে। নিম্ন-ব্রহ্মপুত্রই আবার যমুনা নাম নিয়ে দক্ষিণ দিকে ছুটেছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার রয়েছে চারটি প্রধান উপনদী: দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা এবং করতোয়া ও আত্রাই নদ প্রণালি। সাংপো-ব্রহ্মপুত্র-যমুনা পৃথিবীর দীর্ঘতম এক নদী। পদ্মা ও মেঘনার চেয়ে এর শক্তি ও জলধারা অনেক বেশি। ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মার সঙ্গমস্থলেই বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ সুন্দরবন অবস্থিত। চীনের সাংপো তথা ব্রহ্মপুত্র তাই বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদীব্যবস্থার প্রাণ।  

সাংপো নদীতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা চীন প্রথম বলে তার চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এবং ২০৩৫ অভিমুখী দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্পে। চীনের নতুন পরিকল্পনাধীন ৬০ গিগাওয়াটের এই প্রকল্প হবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এমনিতেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাঁধ নির্মানের রেকর্ড বর্তমানে চীনের দখলেই আছে, সেটা ইয়াংজি নদীতে রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত নতুন বাঁধ হবে এটির চেয়েও অনেক বড়। ইয়াংজি নদীর বাঁধে যে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তার চেয়ে তিন গুণ বিদ্যুৎ এখানে উৎপাদিত হবে। 

world biggest

এছাড়াও একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, চীন তার আন্তর্জাতিক নদী মেকং এর উপরে ১১টি বড় জলকাঠামো তৈরি করেছে, সেসব নিয়ে ভাটিতে থাকা দেশ মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম ক্রমাগত ভোগান্তিতে থাকে, তা থেকে আমাদের তাই শেখার আছে। এসব দেশকে চাপে রাখায় চীন মেকং নদীর পানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এখেত্রেও যথারীতি চীনের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছে নিজেদের নদীতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন চীনের বৈধ অধিকারের মধ্যে পড়ে। যেভাবে চীন বিদ্যমান উপায়ে দীর্ঘসময় ধরে বন্যা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রতিকার এবং জরুরি পদক্ষেপ বিষয়ে দেশ দুটির সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নেয়, সেভাবেই এই বাঁধ নিয়েও দেশ দুটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবে।  

china watercurrent project on river

তিব্বতে হিমালয়ের কৈলাস হ্রদের যেখান থেকে ব্রহ্মপুত্রের জন্ম, সেটি পৃথিবীর ছাদ বলে পরিচিত। সেখান থেকে অরুণাচল ও আসাম পর্যন্ত এলাকা প্রতিবেশগতভাবে খুবই স্পর্শকাতর। যদি জলাধার বানিয়ে পানি সরিয়ে নেওয়া না–ও হয়, তবুও প্রতিবেশের যে ক্ষতি হবে, তা নিচের দিকের জনপদগুলোকেও প্রভাবিত করবে। আজকের দুনিয়ায় প্রতিবেশগতভাবে কয়লাবিদ্যুতের মতো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত। এর কারণ শুধু নদী নয়, নদীর সঙ্গে জলবায়ু, পরিবেশ, কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের মাতৃনালির মতো সম্পর্ক। তাছাড়া আন্তর্জাতিক নদীপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ভূ-রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে দুর্বল ও প্রবাহের নিচের দিকে থাকা দেশগুলোকে সহজেই বেকায়দা অবস্থায় ফেলতে পারে, ভারত-বাংলাদেশের পানি রাজনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ। 

আন্তর্জাতিক নদী আইন কিংবা চুক্তির বরখেলাপঃ ভারত ও চীনের একই নজির

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে একটি নদী যদি একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাহলে ঐ নদীর পানি সম্পদের ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। যেকোন আন্তর্জাতিক নদীর উপর তীরবর্তী রাষ্ট্রের অধিকার সমঅংশীদারিত্বের নীতির উপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক নদী সম্পদের তীরবর্তী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সুষম বন্টনের নীতি আজ স্বীকৃত। জাতিসংঘ Convention on the Law of the Non-navigational uses of International Water Courses-1997-এর ৭ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি দেশ আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ থেকে পানি ব্যবহারের সময় পার্শ্ববর্তী একই অববাহিকার অন্যান্য দেশের যাতে কোনো বড় ধরনের ক্ষতি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

UNEP Convention on Biological Diversities-1992তে বলা হয়েছে, পৃথিবীর প্রতিটি দেশ বিশ্বের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। Helsinki Agreement-1992: Convention on the Protection and Use of Transboundary Water Courses and International Lake-এর ২ (গ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সব পক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আন্তঃসীমানার পানিসম্পদের এমন যুক্তিসঙ্গত ও সুষম ব্যবহারে সেই পানিসম্পদের কোনো আন্তঃসীমা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়। World Commission on Dams (WCD)1998- এ বলা হয়েছে, কোনো নদীতে বড় ড্যাম তৈরি করতে চাইলে সেই নদী বেসিনের মানুষের কাছে অবশ্যই এ ড্যামের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।(খেয়াল করুন, সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নয়, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন)। 

পৃথিবীতে প্রায় ২১৪টি নদী রয়েছে যে নদীগুলো একাধিক দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত। মোট ৯টি নদীর কথা জানা যায়, যা ৬টি বা ততোধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। এক্ষেত্রে কোন একটি একক দেশই এসব পানিসম্পদ ভোগ করেনি।  কিন্তু এটা প্রমানিত যে, আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে এইভাবে ভারত ও চীন আন্তর্জাতিক নদী নিয়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এ ধরনের সব প্রকল্প অবৈধ। আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পের সবক’টি নদীই আন্তর্জাতিক নদী। তাই এসব নদীর একতরফা পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পানি প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বেআইনী এবং অগ্রহণযোগ্য।  

ভারত কর্তৃক উজানে একতরফাভাবে বাংলাদেশের পানি সরিয়ে নেয়ার নীতি খোলাখুলি সমালোচনা পেতে আমরা একজন একজন ভারতীয় বিশেষজ্ঞেরই দারস্থ হবো। রামস্বামী আয়ার এমনই একজন ভারতীয় আমলা যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় পানি বিশেষজ্ঞ হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ১৯৮৭ সালের ভারতের ‘জাতীয় পানি নীতিমালা’র প্রধানতম উদ্যোক্তা তিনি। তাঁর লেখা বই ‘Water Perspectives, Issue and Concerns’ এ তিনি স্পষ্ট করে দেখিইয়েছেন ভাটিতে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা এবং এদের উপনদীগুলো থেকে চীন, নেপাল, ভুটান ও ভারতের ওপর দিয়ে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হচ্ছে আর যাবতীয় কার্য সম্পাদন করতে ভারতেরই কী পরিমাণ পানির প্রয়োজন। তাঁরই হিসাবমতে ২০২৫ সালের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ভারতে পানির সম্ভাব্য প্রাপ্যতা মোট দাঁড়ায় ৬,৫১৫ বিসিএম (বিলিয়ন কিউবিক মিটার), যেখানে নদীর পানি থেকে ১,৯৫৩ বিসিএম, বৃষ্টি ও তুষার গলা পানি থেকে ৪০০০ বিসিএম, রিচার্জযোগ্য পাতালের পানি থেকে ৪২০ বিসিএম, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির পানি হারভেস্টিং থেকে আসে ১৪২ বিসিএম।
(সুত্রঃ http://sk.sagepub.com/books/water)  

তিনি দেখিয়েছেন ভারতের ভারতের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে মাত্র মোট ৯০০ বিসিএম। যেখানে প্রকৃতিগত ভাবে তাঁদের প্রাপ্যতা হচ্ছে ৬,৫১৫ বিসিএম, যাকিনা প্রয়োজনের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি!! অর্থাৎ ভারত তাদের দেশে প্রাপ্ত পানির সামান্য অংশ মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবহার করলেই চলে। ড্যাম, ব্যারেজ দিয়ে এভাবে প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ধ্বংস করতে হয় না। তাতে বাংলাদেশকেও পানিশূন্য করে বিরান ভ‚মিতে পরিণত করতে হয় না। বিশেষজ্ঞ মতামত অনুযায়ী ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা ৫৪টি নদীর একটিতেও ড্যাম বা ব্যারেজ দিয়ে পানি সরানোর কোনো প্রয়োজনই নেই। 

ভারত যা করছে তা বাংলাদেশের সঙ্গে তার নিজের করা চুক্তি ভঙ্গ করেই করছে। ভারত হয়তোবা বাধ্য হয়ে ১৯৯৬ সালে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি করেছিল, কিন্তু মানছে কই? এ চুক্তির Article-IX–এ উল্লেখ আছে Guided by the principles of equity, fairness and no harm to either party both the governments agree to conclude water sharing Treaties/Agreements with regard to other common rivers অর্থাৎ সমতা, সুষম এবং কোনো পক্ষের ক্ষতি না হয়_ এই ন্যায়নীতির ভিত্তিতে উভয় সরকার অন্যান্য অভিন্ন নদীর ক্ষেত্রে পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করবে। কিন্তু বাংলাদেশকে না জানিয়ে সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা ৫৪টি নদীর মধ্যে অধিকাংশ নদীতে বাঁধ দিয়ে ভারত পানি সরিয়ে নিচ্ছে। তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি বণ্টন চুক্তি ভারত নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে। এটা গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ এ ব্যারেজের ভাটির জমিগুলো মরুময় হয়ে উঠেছে। ভারত এজন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আপত্তির কথা বলছে অথচ ভারতের সংবিধানের ২৫৩ নং ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অন্য যেকোনো রাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে চুক্তি করার বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, কোনো রাজ্যের ওজর আপত্তি আমলে নেয়ার কথা নয়। আসলে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে পানি বণ্টনের ব্যাপারে আন্তরিক নয়।  

অন্যদিকে চীন আবার বর্তমানে নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে এশিয়ার মধ্যে আরোও শক্তিশালী অবস্থায় আছে। দেশটি থেকে ১১০টি আন্তর্জাতিক নদী ও হ্রদ বেরিয়ে ১৮টি উজানের দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বাঁধও আছে চীনে। পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে তারা কখনোই এর ব্যবহারে পিছিয়ে থাকেনি। চীনের এসব আন্তর্জাতিক নদীর বেশির ভাগের উৎস হচ্ছে তিব্বতের মালভূমি, যাকে তারা ১৯৫০-এর দশকের শুরুর দিকে দখল করে নিয়েছিল।    
অন্যদিকে আবার গঙ্গা বা ব্রহ্মপুত্র নদীর মতো মেকং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি বিশ্বের দ্বাদশতম দীর্ঘ নদী এবং এশিয়ার সপ্তম দীর্ঘতম নদী। তিব্বত মালভূমির থেকে নদীটি চীনের ইউনান প্রদেশে প্রবেশ করে, এরপরে নদীটি  আরোও পাঁচটি দেশ মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় ১৯৯৫ সালে লাওস, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম মেকং রিসোর্স কমিশন (এমআরসি) প্রতিষ্ঠা করে মেকং নদীর সম্পদের পরিচালনা ও সমন্বয় সাধন করার জন্য। স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে বিশেষত আমেরিকার প্রভাবাধীন থেকে এ অঞ্চলে এই কমিশনের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যায়। এ দেশগুলোর মধ্যে বৈরিতা দীর্ঘদিনের, রাজনৈতিক ব্যবস্খাও ভিন্ন, কিন্তু তবুও দেশগুলো মেকং নদীর পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের একটি সমঝোতায় উপনীত হয়েছিল। সম্প্রতি মেকং নদী নিয়ে সম্প্রতি গঠিত আন্তঃসরকার সংস্থা ল্যানসাং মেকং কো-অপারেশন গ্রুপ (এলএমসি) এর মাধ্যমে চীন বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। পাশাপাশি ২৫ বছরের পুরনো সংস্থা মেকং নদী কমিশনকে (এমআরসি) ‘অকার্যকর’ করে দিয়েছে। এসব সমঝোতার তোয়াক্কা না করেই চীন মেকং নদীতে ১১টি বিশাল বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। তা সত্ত্বেও চীন থামেনি, তারা এই নদীতে আরও কটি বাঁধ নির্মাণ করতে চায়। চীনের দেওয়া ১১টি বাঁধ এই দেশগুলোতে নদীটির প্রবাহকে ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এই অঞ্চলে চীন তার প্রভাব বাড়ানোর উপায় হিসাবে এই নদীর ওপর নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগায়।     

map of makong river

ভিয়েতনাম অংশে মেকং নদীর বর্তমান অবস্থা সে দেশের ছয় কোটি কৃষক ও জেলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের খরা এখানে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নদীর পানির স্তর কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল এবং বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এখানে কম ও তুলনামূলক ছোট মাছ ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে। একইভাবে চীন ইলি নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করায় মরুময় মধ্য এশিয়ায় পানির সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। সম্ভাবনা আছে, কাজাখস্তানের বলখাশ হ্রদ অনেকটাই শুকিয়ে যেতে পারে, যার অবস্থা অনেকটা উরাল হ্রদের মতো হতে পারে। এই বিশাল হ্রদটি ৪০ বছরেরও কম সময়ে একরকম শুকিয়ে গেছে। 

এইভাবে ভারত ও চীন আন্তর্জাতিক নদী নিয়ে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এ ধরনের সব প্রকল্প অবৈধ। আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্পের সবক’টি নদীই আন্তর্জাতিক নদী। তাই এসব নদীর একতরফা পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পানি প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বেআইনী এবং অগ্রহণযোগ্য।  

‘পাকিস্তানের চর’ কিংবা ‘ভারতের চর’ 

১৯৬২ সালেই পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও জলপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য ফারাক্কার তিনটি অভিশাপের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি লিখেছিলেন, ‘ফারাক্কা ব্যারাজের বিরুদ্ধে আমার হুঁশিয়ারি না মানার পরিণতিতে জনগণ দুর্ভোগের শিকার হবে।’ তিনি আরও বলেছিলেন, এই বাঁধ নদীর পলি-ভরাট হওয়া আরও বাড়াবে, ভাটির দেশ পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানের বাংলাদেশ) পানিপ্রবাহ কমাবে এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ আর বিহারের বেশ কটি জেলায় বন্যার প্রকোপ বাড়াবে। নদীর তাজা পানিকে সরাসরি সমুদ্রে পড়তে না দিলে তা ভারতের মৌসুমি বায়ুপ্রবাহেরও ক্ষতি করবে। তাতে করে আরও বেশিসংখ্যক মানুষ পানির কষ্টে ভুগবে।
(সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)

কপিল ভট্টাচার্য দেখিয়েছিলেন, এমনকি ভারতের সাধারণ মানুষের স্বার্থেও না, বাঁধটি তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক কারণে, হয়েছিল বৃহৎ ব্যবসায়ী পুঁজির স্বার্থে, বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে।  তিনি বলেছিলেন, পদ্মার মুখে এই বাঁধ পলি জমিয়ে উজানেও ভয়াবহ দুর্যোগের সৃষ্টি করবে। আজ বিহার, উত্তর প্রদেশের মানুষও সেই বিপদ টের পাচ্ছেন।  এপাড়ে বাংলাদেশের মানুষ তো গত ৪৫ বছর ধরেই বরেন্দ্র অঞ্চলে মরুকরণ, বরিশালে লবনাক্ততা বৃদ্ধি সহ পরিবেশের ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন। নদী নিয়ে দিল্লির চক্রান্তমূলক তৎপরতা জনগণের সামনে প্রকাশ করার জন্য বাংলায় একটি বই লিখেছিলেন যাকিনা বাংলায় নদী বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ “বাংলাদেশের নদ-নদী ও পরিকল্পনা”।
(সুত্রঃ সংহতি প্রকাশন)

Kapil Bhattacharyya
Kapil Bhattacharyya

কপিল ভট্টাচার্য আঞ্চলিক সহযোগিতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, স্বপ্ন দেখেছিলেন পারস্পরিক সুবিধা-অসুবিধা আর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নদী ব্যবস্থাপনার। তাঁর সবগুলি হুঁশিয়ারিই আজ হুবুহু ফলে গেছে, তা আজ সর্বজনবিদিত। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পানি ব্যাবস্থাপনার এই নীতির বিরোধিতা করার জন্য তখনকার দিনে দৈনিক আনন্দবাজার তাঁকে “পাকিস্তানের চর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেলেন। পরিণামে সরকারি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন এই নদীবিশেষজ্ঞ। আমৃত্যু তিনি তাঁর মতে অটল থেকেছেন এবং নিজের ভবিষ্যদ্বাণী নিজেই ঘটে যেতে দেখেছেন। 

Farakka long March

পাকিস্তানি শাসকদের কাছ থেকে সারাজীবন ভারতের চর খেতাব পাওয়া মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা মিছিলের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়েছে তীব্র এবং অনেক সময় কুৎসিত ভাষায়। যেহেতু বাঁধ নির্মাণ করেছে ভারত এবং ফলে ফারাক্কা-বিরোধিতাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ভারত বিরোধিতা হিসেবে। ১৯৭৬ সালেই আজকের দিনের বহুল আলচিত জলবায়ু রাজনীতির মতোই তিনি চেয়েছিলেন পানিসম্পদের ওপর সকল প্রাণের ‘হক’ প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু এই অদৃষ্টপুর্ব “পালনবাদী’ রাজনীতির চাপা পড়ে গেলো জাতীয়তাবাদী ঘৃণা আর বিরোধিতায়। ফারাক্কা ভেঙে দিতে হবে শুধু বাংলাদেশের মানুষ কিম্বা এই ভূখণ্ডের প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়-পানির প্রবাহ বন্ধ হলে ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে-সেখানেও প্রাণ ও পরিবেশ ধ্বংস হবে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আড়ালে মওলানা ভাসানী সীমান্তের দুই পাশের সকল প্রাণ রক্ষার যে রাজনীতি সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, সেটা মার খেয়ে গেলো। ভারতের জনগণের শত্রু বৃহৎ পুঁজির মালিকানাধীন শক্তি ও তাঁদের পক্ষের পত্রপত্রিকা বোঝালো শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে নিহত হবার পরে ফারাক্কা মিছিল ছিল আসলে ইসলামপন্থি প্রতিক্রিয়াশীলদের ভারত-বিরোধী রাজনীতি চাঙ্গা করে তোলার একটি চেষ্টা। মওলানা ভাসানীকে তারা আখ্যা দিলো ভারত বিরোধী ‘পাকিস্থানের প্রেতাত্মা’ হিসেবে। ঠিক যেমনটি বাঁধ বিরোধী পানি বিশেষজ্ঞ কপিল ভট্টাচার্যের কপালেও জুটেছিল।  

প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার সমাধান সুত্র 

জাতিসংঘের  ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস-২০১৯ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা ২০০ কোটি বাড়তে পারে। অর্থাৎ বর্তমানের ৭৭০ কোটি থেকে বেড়ে তা ২০৫০ সালে দাঁড়াবে ৯৭০ কোটিতে। সেসময় বিশেষ করে এশিয়ায় চালের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। বিশ্বের বৃহৎ ধান উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে আটটি দেশ তিব্বতের পানির ওপর নির্ভরশীল। তিব্বতের নদীগুলোর প্রবাহ কমে গেলে পানি-নির্ভর ফসল ধান উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পরবে ও খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে। একদিকে বর্ধিত জনসংখ্যা অন্যদিকে ক্রমহ্রাসমান খাদ্য উৎপাদন  মানবজাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ আকারে আসছে।  কাজেই পৃথিবীতে মানবসভ্যতার সুস্থভাবে টিকে থাকার একটা বড় চ্যালেঞ্জ এখন প্রান, প্রকৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ুগত বিপর্যয়।  

যেকোনো মহাদেশের তুলনায় এশিয়ায় মাথাপিছু পানির পরিমাণ সবচেয়ে কম। ইতিমধ্যেই আমাদের পানির সংকট শুরু হয়ে গেছে, এটা আরও তীব্র হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এশিয়ায় পানির সংকট ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে উঠবে। সাম্প্রতিকসময়ে চীন ও ভারতের সীমান্ত সংঘাত তার জলন্ত সাক্ষ্য। এসব নিয়ে একদিকে এশিয়ার দেশগুলোতে চলছে ব্যাপক মতানৈক্য, অন্যদিকে সুপেয় পানির যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাচ্ছে, তা এশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে সাম্রাজ্যবাদী ও বৃহৎ পুজির ব্যাবসায়িক স্বার্থে পানিসম্পদবিষয়ক আধিপত্য বিস্তার গোটা পৃথিবীর জন্যই হুমকি স্বরূপ। পৃথিবী ও এর প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে দেশে দেশে যেসকল আন্দোলন হচ্ছে তাদের মধ্যে জনগণের মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলাই বাঁচার একমাত্র পথ। দুনিয়াব্যাপী মজলুম জনগণের মৈত্রী গড়ে তুলে জাতি-ধর্ম-রাষ্ট্র নির্বিশেষে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার মওলানা ভাসানীর রাজনীতি যে আবারো জেগে উঠে পারে তাঁর প্রমান মিলছে ৪৫ বছর পরে অনেক ক্ষয়ক্ষতির শেষে গঙ্গার উজানে ও ভাটিতে বিচ্ছিন্নভাবে হলেও মওলানা ভাসানী ও কপিল ভট্টাচার্যরা শ্রদ্ধাভরে ‘চর্চিত’ হচ্ছেন, এখন আর ‘চর’ বলে আর আখ্যা পাচ্ছেননা।         

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It