বিপ্লবী নবী-০৮

বিপ্লবী নবী-০৮

biplobi nobi 08 বিপ্লবী নবী

মূল : আল্লামা আবদুল কাদির আজাদ সুবহানি
তর্জমা : মওলবি আশরাফ

আত্মমর্যাদা 

তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ ছিল অতিশয় তীক্ষ্ণ ; কিন্তু উপযুক্ত ক্ষেত্রেই তা প্রকাশ পেত, অনুপযুক্ত ক্ষেত্রে নয়। আনন্দানুভবের ক্ষমতাও তাঁর যথোপযুক্ত পরিমাপেই ছিল। মধুর আওয়াজ ও আনন্দদায়ক কাজের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হতেন, সন্দেহ নাই। কিন্তু তাঁর এই আকর্ষণ এমন কোনো স্থানে কেন্দ্রীভূত হতো না যা অশোভনীয়। তাছাড়া, এই আনন্দানুভূতি তাঁর গাম্ভীর্যকে কখনো সামান্যতমও হালকা করে দিতে পারত না। অনিচ্ছাক্রমে অপর কোনো রমণীর ওপর দৃষ্টি পড়ে গেলে তাতে তাঁর নফস যে প্রভাবিত হতো না তা নয়; কিন্ত কখনো দ্বিতীয়বার তিনি সেই দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না। এটা তো ছিল তাঁর পবিত্রতা রক্ষার বাহ্যিক বিধি ; কিন্ত অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা রক্ষাবিধি অনুযায়ী কখনো কখনো তৎক্ষণাৎ তিনি স্ত্রীদের নিকট চলে যেতেন এবং তাদের মধ্যে কোনো একজনের সাথে অন্তঃপুরে সময় কাটিয়ে মনকে পবিত্র করে নিতেন। সুমধুর কোনো ধ্বনি কানে আসলে তাতে তিনি বাধা দিতেন না, কিন্তু সেই ধ্বনি দ্বিতীয়বার শুনতে চাইতেন না। এই জন্য দেখা যায়, সারা জীবনে কেবলমাত্র তিনি একবার সঙ্গীত শ্রবণ করেছেন : তাও তাঁরই সম্বর্ধনা উপলক্ষে।[1] তবে হ্যাঁ, একটি সঙ্গীত ছিল যা তিনি প্রত্যহ পাঁচবার শুনতেন, উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে মুগ্ধ হয়েই তা শুনতেন। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কে আছে যে এই সঙ্গীত শোনার জন্য তাঁর চারিত্রিক দুর্বলতা আবিষ্কার করতে সক্ষম হবে? এই সঙ্গীত ছিল মুয়াজ্জিন বিলালের, যা আজানের মধ্য দিয়ে কানে মধু ঢালত। এই ধ্বনি এমনই ছিল যে তা বড় বড় সুর-সম্রাট ও স্বরধ্বনির সমঝদারকেও অন্য সঙ্গীত হতে উদাসীন করে তার প্রতি আকৃষ্ট করে তুলত। অতঃপর এই ধ্বনির আমেজ বহন করেই তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন, সেখানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে লাভ করতেন চিত্তের পরিপূর্ণ প্রসন্নতা। 
নৃত্যও একদিন তিনি দেখেছিলেন কিন্তু সে নৃত্য মেয়েদের নয়, পুরুষদের। যদিও তিনি তা আর দ্বিতীয়বার করতে দেন নাই। তাছাড়া, এই সবের সময় কিংবা তাঁর জীবনের লক্ষ্যের সাথে এইগুলিরসামঞ্জস্যই-বা ছিল কোথায়?

জীবনােপভোগ 

রসুল করিমের মধ্যে উপভােগস্পৃহাও ছিল—যেমন উত্তম খাদ্য, উত্তম বস্ত্র, উত্তম সুগন্ধি ও উত্তম যানবাহন তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিল। কিন্তু তাই বলে এই সব ‘উত্তম কিছুতেই’ তাঁর চিন্তা কেন্দ্রীভূত হতো না। কখনো কখনাে তিনি বলে ফেলতেন : ‘মাংস খাবারের মধ্যে প্রধান খাবার’, ‘সিরকা খুব ভালো জিনিশ’, ‘খেজুর উৎকৃষ্ট’, ‘মধুও উত্তম’ এবং ‘দুধের মধ্যে আরােগ্যের উপাদান বিদ্যমান’। ইয়েমানি চাদর তিনি পছন্দ করতেন। খোশবুও খুব ভালবাসতেন। এ সব জিনিস কখনাে পেলে তা তিনি আনন্দেরসাথেই গ্রহণ করতেন এবং স্বচ্ছন্দেই উপভােগ করতেন। কিন্তু এসব জিনিস পাওয়ার অন্বেষণে তিনি মন-মগজ কখনো নিয়ােজিত করতেন না।কিংবা এসব পাওয়ার জন্য এরূপ লালায়িতও থাকতেন না যে, তা অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, সময়ের অপচয় হবে, সামান্যতমও লক্ষ্যচ্যুতিঘটবে কিংবা প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধনের পথে তা এতটুকুও বাধা সৃষ্টি করবে। অথবা, এ সব জিনিসের প্রতি এমন আকর্ষণও তাঁর ছিল না যে, না-পাওয়ার বেদনায় তা তাঁর মানসিক ভারসাম্য বিনষ্ট করে ফেলতে পারে, গাম্ভীর্যে সামান্যতমও চাঞ্চল্য আনয়ন করতে পারে কিংবা এগুলি পাওয়ার চেষ্টা তাঁর ব্যক্তিত্বকে কিঞ্চিৎ খাটো করে ফেলতে পারে।

বহুবিবাহ 

একথা অবশ্যই সত্য যে, বহুবিবাহের আকাঙ্ক্ষাও তাঁর মধ্যে ছিল। কিন্তু এও তাে ঠিক যে, এই আকাঙ্ক্ষাকে তিনি পঁয়তাল্লিশ বৎসর বয়স পর্যন্ত দাবিয়ে রেখেছিলেন। অথচ, এটাই ছিল এইআকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রকৃষ্ট সময় । এসময়ে তাঁর আকাঙ্ক্ষা কমজোর ছিল এবং সেইজন্য তিনি তা দাবিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন— তাও ঠিক নয় ; বরং, প্রকৃত উদ্দেশ্যের ধ্যান তথা সত্যের চরম মার্গেউপনীত হওয়ার কামনাটিই এই সময় অপেক্ষাকৃত প্রবল ছিল। এই জন্যই তাঁর প্রথম বিবাহটি সম্পন্ন হয়েছিল অনাসক্তির মধ্য দিয়ে। না ছিল কোনো চাহিদা, না ছিল কোনাে আকাঙ্ক্ষা। এটি ছিল কেবলমাত্র ‘প্রস্তাব’ ও ‘গ্রহণের’ একটি আনুষ্ঠানিক কার্য। অবশ্য এও সত্য যে প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন নাই। এর কারণ এই নয় যে, আকাঙ্ক্ষার তীব্রতা আপনা আপনিই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, প্রকৃত ব্যাপার এই যে, প্রথম স্ত্রী তাঁর মনে উচ্চস্থান লাভ করেছিলেন। তারপরে ছিল চিরসত্য ও সুন্দরের জন্য তাঁর প্রবল প্রেমাসক্তি। এও সত্য যে, প্রথম স্ত্রীর ইন্তেকালের পরেও কিছুদিন সেই আকাঙ্ক্ষাকে তিনিদমন করে রেখেছিলেন; কিন্তু তার কারণও এ নয় যে, এ সময় তাঁর আকাঙ্ক্ষাটি নির্জীব হয়ে পড়েছিল ; বরং এটি ছিল তিনি যে ইনকিলাব ঘােষণা করেছিলেন তার প্রথম পর্যায়ের এমন একটি চূড়ান্ত স্তর অতিক্রমণের সময়— যখন যেকোনো মুহূর্তে সমগ্র ব্যাপারটিই যেকোনাে দিকে গতি পরিবর্তন করতে পারত। সুতরাং, এমনই সংকট-সন্ধিক্ষণে কোনো কামিল মানুষের পক্ষে কী করে এ সম্ভব যে, তিনি কোনাে ক্ষণভঙ্গুর আকাঙ্ক্ষাকে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দিবেন, সেই আকাঙ্ক্ষাটি যত বৈধ এবং যত প্রয়ােজনেরই হোক না কেন! এ সম্ভব হতে পারে অপরিপূর্ণবা ‘নাকেস’ মানুষের পক্ষে ; কিন্তু হজরত তো কেবল কামিলই ছিলেন না, তিনি ছিলেন কামিলের ওপরেও কামিল—সর্বাপেক্ষা পূর্ণ মানব।

অতঃপর এই সকল বাধা-বিঘ্ন অপসারিত হলো এবং পদার্পণ করল এক নতুন যুগ। এটি প্রথম যুগ তুলনায় যুদ্ধ-বিগ্রহ-ক্লিষ্ট ও সংশয়-সংকটপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এর ভিত্তি ছিল স্বস্তি ও শান্তির প্রলেপে আচ্ছাদিত ;কারণ, ইতিমধ্যেই হুকুমতের বাহ্য ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছিল। এখন বাকি ছিল কেবলমাত্র তাকে দৃঢ়-ভিত্তির উপর শক্তিশালী করে তােলা ও তাতে স্থিতিশীলতা আনয়ন। অপরপক্ষে, সাহায্য ও বিজয়ের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিসহ আল্লাহর নির্দেশও ইতিমধ্যেই অবতীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এই প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসবাণীর চেয়ে তাঁর কাছে অধিকতর স্বস্তি ওশান্তিপ্রদ আর কিছুই হতে পারত না । এই সময়েই তাঁর পূর্বোক্ত আকাঙ্ক্ষাটি প্রবলভাবে আত্মপ্রকাশ করে। এ ব্যাপারে তাঁকে পূর্ণস্বাধীনতাও প্রদত্ত হয়েছিল এবং এতে বাধা-নিষেধ আরােপেরও কোনো কারণ বিদ্যমান ছিল না। কেননা, এই আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ সত্ত্বেও এর সাধ্য ছিল না মহানবীকে তাঁর বিপুল কর্তব্য এবং মহান ও কঠোর জীবনের অজস্র কর্মসম্পাদনে মুহূর্তকালের জন্য বিরত রাখে। এই আকাঙ্ক্ষা যে সামান্যতম সময়ের জন্যও তাঁকে কর্তব্যচ্যুত করতে সমর্থ হয় নাই ইতিহাসই তাঁর জ্বলন্ত সাক্ষ্য। বরং কখনাে যদি তা স্বীয় গণ্ডি অতিক্রম করে তাঁর উচ্চতম আদর্শপূর্ণ মহান জীবনযাত্রার সাথে সংঘাত বাঁধাত তবু তা তাঁর জীবনযাত্রায় কোনাে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারত না; এছাড়াও আকাঙ্ক্ষাই পরাজয় স্বীকার করে নতজানু হয়ে পড়ত আর পরাজিত হয়ে নতজানু হলে পর তিনি তাকে তুলে নিয়ে গলায় জড়িয়ে ধরতেন! কারণ, তা যে প্রিয় ছিল না এমন তাে নয়। তবে তা অপেক্ষাও অপর একটি জিনিস তাঁর অধিকপ্রিয় ছিল ; সেটি তাঁর জীবনের লক্ষ্য অর্থাৎ পূর্ণমর্যাদার সাথে সত্যের প্রতিষ্ঠা ও সৃষ্টির লালন। তারপরেও প্রশ্ন থেকে যায় যে, বহুবিবাহের আকাঙ্ক্ষাটি শেষ পর্যন্ত তাঁর মধ্যে বিদ্যমানই-বা ছিল কেন? কেন তা হতে তিনি নিজেকে মুক্ত করতে পারলেন না? অথবা, সংযম-সাধনা দ্বারা তা তিনি চিরতরে দাবিয়ে দিলেন না কেন, যেমন অনেকেই করেছেন? এও তাে সম্ভব ছিল যে, তিনি সংযম-সাধনা বা বিবাহ-পরিত্যাগের পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তাকে উপেক্ষাও করতে পারতেন, যেমন হজরত ঈসা-মসিহ করেছিলেন। কিংবা এক স্ত্রী নিয়ে সন্তুষ্ট থাকাও তাে তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল, যেমন করেছিলেন হজরত মুসা! বিষয়টি বিবেচনাসাপেক্ষ, সন্দেহ নাই। কিন্তু এখানে এর দীর্ঘ আলােচনা সম্ভব নয়। তবে কয়েকটি অবশ্যক বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে প্রকৃতি-প্রদত্ত ক্ষমতা কখনাে মানবিক বিধানের আওতাধীন নয়। তবে হ্যাঁ, ইচ্ছাশক্তি তার আওতাধীন বটে। সুতরাং, অমুক পবিত্র ব্যক্তি দুর্বল রতিশক্তিসম্পন্ন কেন এ বিতর্ক যেমন নিষ্প্রয়ােজন, তেমনই অমুক পবিত্র ব্যক্তি প্রবল রতিশক্তিসম্পন্ন এবং সুন্দরও বটে, আবার অমুক পবিত্র ব্যক্তি রতিশক্তিহীন এবং অসুন্দরও বটে, এ ধরনের বিতর্কও ভ্রান্তিপূর্ণ। সুতরাং রসুলুল্লাহ (স) কেন অসাধারণ রতিশক্তিসম্পন্ন ছিলেন, এটাও অবান্তর প্রশ্ন। মানবিক আইন কি কখনাে প্রকৃতির উপর স্বীয় প্রভাবের বেড়াজাল বিস্তার করতে সক্ষম? কখনাে কি তা এমন বিধি প্রস্তুত করতে পারে যে কোনাে পবিত্র ব্যক্তিরই অধিক রতিশক্তিসম্পন্ন হওয়া চলবে? এটা কখনােই সম্ভব নয়। কারণ, প্রকৃতি মানবিক বিধানের অধীন তাে নয়ই, বরং এর অনেক উর্ধ্বে।

শুধু তা-ই নয়, প্রকৃতিগত বিষয়ের প্রভাবও আইনের মধ্যে সীমিত নয়, যদি তা সত্যিই প্রকৃতিগত হয়। এ কি সম্ভব যে, ফুলের সুন্দর রঙ এবং মধুর ঘ্রাণ আপত্তিকর হবে না, অথচ তার চিত্তাকর্ষক ও মনােহারি আপত্তির বিষয় হবে? তেমনই কোনো পবিত্র ব্যক্তির অস্বাভাবিক রতিশক্তিসম্পন্ন হওয়া অথচ তাঁর বহুবিবাহ-আসক্তি না থাকা কি করেসম্ভবপর? সুতরাং, হজরত মুহাম্মদ (স)এর বেলায়, তিনি এই আসক্তি হতে মুক্ত হবেন, এ কামনা আমরা কেমন করে করতে পারি? আর যদি তা সম্ভবই না হয় তবে এ নিয়ে বিতর্কই-বা কিসের?

তাছাড়া, প্রকৃতিগত ক্ষমতা ও তার চাহিদাসমূহকে যেকোনো প্রকারে বা যেকোনো পরিমাণেই হোক, চিরতরে দাবিয়ে দেওয়ার নামই তো বৈরাগ্য বা সন্ন্যাসপন্থা অবলম্বন! একথা সত্য হলে, বৈরাগ্য বা সন্ন্যাসবাদের সমাধি রচনার জন্য যাঁর আগমন, প্রকৃতিগত ক্ষমতার চাহিদাকে চিরতরে প্রদমিত করে নিজ হাতে সেই সন্ন্যাসবাদেরই নয়া ভিত্তিস্থাপন কি তাঁর উচিত হতো? কখনাে না। তিনি হজরত ঈসার মতো ‘রহবানিয়াত’ বা সন্ন্যাসবাদ প্রসারিত করতে, কিংবা হজরত মুসার মতো কট্টর বিধিবিধান প্রবর্তন করতে আসেন নাই ; কেননা, এসবের ভিত্তি স্থাপিত সাধারণের ভাবাবেগের উপর, দর্শনের উপর নয়। দার্শনিকতাধর্মী চরিত্রের সাথে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না। রসুলুল্লাহ (স) এসেছিলেন ‘রহবানিয়াত’ বা বৈরাগ্যের স্থলে ‘রব্বানিয়াত’এর সৌধ নির্মাণের জন্য এবং কট্টর বিধিবিধান, যা সাধারণের ভাবাবেগ-সংশ্লিষ্ট, তার পরিবর্তে মধ্যমপন্থী দার্শনিকতামূলক চরিত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। সুতরাং, বহুবিবাহের আসক্তিকে তিনি কেন চিরতরে বিলুপ্ত করে দিবেন আর কেনই-বা তা কঠোর হস্তে দমন করবেন? একথা সত্য যে, দমন করবার ক্ষমতাও তাঁর মধ্যে যথেষ্টই ছিল এবং সে ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশও তিনি ঘটিয়েছেন বারবার। তাঁর এই ক্ষমতার প্রমাণ তিনি শুধু এই জন্যই দিয়েছিলেন যে, কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ যেন প্রত্যক্ষ করতে পারে : রতিশক্তির উত্তাল তরঙ্গকে সংযম-সাধনার শিকলে বেঁধে রাখার যে অদ্ভুত ক্ষমতা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল তার তুলনা এই ধরাধামে নাই। প্রকৃতপক্ষে, প্রয়ােজনাতিরিক্ত অবদমনই ছিল তাঁর নিকট অপছন্দনীয়। কেননা, তা হতো প্রকৃতিগত স্বভাব হত্যারই নামান্তর এবংসন্ন্যাসবাদেরই পােষণ মাত্র। অথচ মহানবী (স) ছিলেন প্রকৃতির অনুসারী এবং সন্ন্যাসবাদের প্রকৃত হন্তা।তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, গভীর চিন্তাশীল এবং অতিশয় পরিণামদর্শী। অপর কথায়, তিনি ছিলেন মহা দার্শনিক। তিনি এত বড় দার্শনিক ছিলেন যে, আল্লাহ না করুন, সারা বিশ্ব কোনো সময় তাঁর নবুওওতকে অথবা সাধারণভাবে নবুওওতকেই অবিশ্বাস করতে চাইলেও তাঁর নবুওওতকে অস্বীকার করা কখনো সম্ভব হবে না, কিংবা তাতে তাঁর পয়গম্বরির কোনো ক্ষতি সাধিত হবে না; কেননা, পয়গম্বর ব্যতীত আর কেই-বা অতি মহান দার্শনিক হতে পারেন?

নির্জন সাধনা 

নির্জনতাপ্রিয়তা তাঁর স্বভাব ছিল না; বরং স্বভাবগত দিক থেকে তিনি ছিলেন সংসর্গপ্রিয়। তাঁর জীবনের মােট সময় থেকে তিনটি বছর বাদ দিলে দেখা যাবে বাকি সমগ্র জীবনটাই তিনি কাটিয়ে দিয়েছে নমজলিশ ও মহফিলের মধ্যে। দিবসের মধ্য ভাগের দুই ঘণ্টা ছাড়া অর্ধ-রাত্রির সামান্য পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাে বাইরেই থাকতেন। তারপর গৃহাভ্যন্তরে গমন করতেন বটে, কিন্তু ফজরের আগেই আবার বের হয়ে পড়তেন। বড়জোর তিনি ছয় ঘণ্টা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করতেন। অবশিষ্ট আঠারাে ঘণ্টা তিনি বাহিরেই কাটিয়ে দিতেন—তাও এমন নয় যে, পুরুষদের বৈঠক অবশেষে মহিলা-বৈঠকে পরিণত হয়েছে ; কারণ, বৈঠকের স্থান ছিল মসজিদ। যার ইচ্ছা সেখানে আসতেন এবং সোজাসুজি তাঁর কাছে গিয়ে নিজের প্রয়ােজন মিটিয়ে নিতেন।

তবে, প্রয়ােজনবশত তিন বৎসরের জন্য তিনি নির্জনতাকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই নির্জনবাসও একটানা ছিল না, বিরতিসহই ছিল।তাঁর নির্জনবাসের স্থানটি ছিল একটি গুহা মাত্র। হেরা নামক পাহাড়ে যার অবস্থিতি। আজও মানুষ সেই গুহা পরিদর্শনে গিয়ে থাকে।

এই ভয়াবহ ও বিপদসংকুল নির্জন স্থানে দিনের পর দিন ও রাতের পর রাত অবস্থান করে তিনি কী কী করতেন এবং তার ফলে কোন দুষ্প্রাপ্য ফলই-বা তিনি সেখানে লাভ করেছিলেন তা সত্যিই ভাববার বিষয় । তাছাড়া, হিংস্র শ্বাপদ ও বন্য জন্তুর কবল থেকেই-বা তিনি সেখানে কী করে রক্ষা পেতেন? আর কী করেই-বা তিনি এমন নির্ভয়ে সেখানে অবস্থান করতেন?— এ সকল প্রশ্ন স্বভাবতই সকলের মনে উদিত হয়। কিন্ত সেখানে তিনি কী করতেন তা তিনি স্বয়ং কখনো বলেন নাই, অপর কেউ তা বলতে পারে নাই। সত্যি বলতে কী, এই রহস্যটির ওপর আছ পর্যন্ত লৌহজাল বিস্তার করেই রয়েছে— এমন কেউই নাই যে তা উন্মোচন করতে পেরেছে! ব্যাপারটি হজরতের জীবন-চরিতের সামগ্রিক চিত্র লেখকের পক্ষেও একটি মস্ত বড় রহস্য হয়ে রয়েছে। পরিতাপের বিষয়, চৌদ্দশ বছর পার হতে চলল, অথচ কোনো জীবনীরচয়িতাই তাঁর জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন নাই । আমি নিজেও এই রহস্য-পর্দা উন্মোচনের জন্য নিজেকে সর্বাংশে উপযুক্ত বলে দাবি করতে পারি না। তবে আমার পক্ষে এই-ই সৌভাগ্য যে আমি নিজের এই অযোগ্যতা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন । মুসলিম জাহান তথা সারা বিশ্বের তথ্যানুসন্ধানকারীদের প্রতি আমি আহ্বান জানাচ্ছি যে, হজরত মুহাম্মদ (স)এর জীবনের এই রহস্যপূর্ণ দিকটির প্রতি সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা উচিৎ। 
হেরা গুহার তিনি কী কী ফল লাভ করেছিলেন তাঁর জীবনীকারগণ এর সঠিক বিবরণ দিতে অপারগ | প্রত্যেক জীবনীকারই এতটুক উল্লেখ করেই এগিয়ে যান যে, হেরা গুহায় ফেরেশতা আগমন করেছিল এবং ‘ইকরা বি-ইসমি’ পড়ে পবিত্র কুরআন অবতারণের উদ্বোধন করা হয়েছিল । হেরা গুহায় তিনি যে এই ফল লাভ করেছিলেন তা তো সর্বস্বীকৃত কথা। কিন্তু এটা ছাড়া অন্য ফলও যে সম্ভব, ঘটনাটিকে যুগপৎ এশী দৃষ্টিকোণ ও পার্থিব দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে তা উপলব্ধি করা যেতে পারে I 
আমার দৃষ্টিতে, তাঁর এই নির্জনবাসের পার্থিব একটি ফল হচ্ছে ভীতি-শূন্যতা ও প্রকৃতির নিবিড় পরিচয় লাভ— যে-কারণে তিনি নিসর্গ প্রেমিক হয়ে পড়েছিলেন। এছাড়া, তিনি নিসর্গের অব্যক্ত বাণী শ্রবণ করবার এবং নিজের বক্তব্য নিসর্গের গোচরীভূত করার ক্ষমতাও লাভ করেছিলেন। তাঁর এই ক্ষমতা দুইটি ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। দুঃখের বিষয়, এখানে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা করার অবকাশ নাই। তবে মোটামুটি একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা অবশ্যই করা হবে।

নিসর্গের সাথে নিগূঢ় সম্পর্কের ফলে তাঁর প্রথম লাভ এই হয়েছিল যে, দুই, চার কিংবা দশ-বিশটি ব্যক্তিকে বাদ দিলে সমগ্র মানবজাতির অসহযোগিতা ও অবন্ধুত্ব যখন তাঁকে বেষ্টন করেছিল, তখনো তিনি ভীতির শিকারে পরিণত হন নাই। এই সময় বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো তিনি নিসর্গের নিত্য সাহায্য লাভ করেছিলেন এবং নিসর্গ তাঁর নীরব বন্ধুত্ব ও অব্যক্ত সমবেদনার দ্বারা তাঁকে পূর্ণ স্বস্তি ও পূর্ণ শান্তি দান করেছে; শুধু সেই কয়টিদিন তিনি এই প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত ছিলেন যখন ওহি প্রাপ্তি বন্ধ থাকার ফলে তিনি বিষাদ-সমুদ্রে নিপতিত হয়েছিলেন। একথা নিশ্চিত যে, তাঁর ওপর রব্বানি প্রশান্তি অবশ্যই বর্ষিত হতো। কিন্তু নিশ্চিত করে একথা কে বলতে পারবে যে, রব্বানি শান্তিধারা কেবল ‘ওহি’ এবং ফেরেশতার মাধ্যমেই অবতীর্ণ হতো? সম্ভবত,আর সম্ভবতই-বা বলি কেন, খুব সম্ভব বাহ্য-প্রকৃতিও শান্তিধারা অবতারণের উৎসভূমি হিসাবেই ব্যবহৃত হতো। বাহ্য-প্রকৃতির কথা বলার ক্ষমতা নাই ঠিক, কিন্ত কথার পটভূমি সৃষ্টির ক্ষমতা তার নিশ্চয় রয়েছে। 

বাহ্য-প্রকৃতির সাথে সম্পর্কের ফলে দ্বিতীয় যে লাভটি হয়েছিল তা এই যে, তিনি মানুষের অভ্যন্তরীণ প্রকৃতির সুদক্ষ চিকিৎসক হয়ে গিয়েছিলেন। মুখে কিছু না বলেও তিনি মানুষের অভ্যন্তরীণ প্রকৃতির গভীরে প্রবেশ করতে পারতেন এবং তা পাঠ করে সেই মানুষের সম্পূর্ণ স্বরূপ জেনে নিতে সক্ষম হতেন। মোদ্দা কথা, হেরা গুহার কঠোর নির্জনবাসে তিনি কেবল শ্রেষ্ঠতম ফেরেশতারই সাক্ষাৎ লাভ করেন নাই, বরং সেখানেই তিনি লাভ করেছিলেন মহান প্রকৃতির সন্ধান যা সেই দিগন্তবিসারী সীমাহীন বিজন প্রান্তরের চতুর্দিকেই বিস্তৃত ছিল এবং একজন পর্বতে অবস্থানকারী প্রান্তরবাসীই কেবল যা লাভ করতে সক্ষম। অন্য কথায় বলা যায়, হজরত হেরা গুহায় সাধনার পুরস্কার হিসাবে শুধু নবুওওতই পান নাই, সঙ্গে সঙ্গে দার্শনিকতাও অর্জন করেছিলেন, যা মর্যাদার দিক দিয়ে নবুওওতেরই কাতারভূক্ত। পার্থক্য শুধু প্রথম ও দ্বিতীয় আসনের। উপরোক্ত আলোচনার অর্থ তো এই দাঁড়ায় না যে, তাঁর উন্মতদেরও তাঁর মতোই প্রান্তরবাসী এবং পর্বতগুহায় অবস্থানের সুন্নত পালন করতে হবে? তা হয়ে থাকলে অতিশয়োক্তি হয় নাই। কারণ, সমাজের মধ্যে কিছু বাঁধাধরা নিয়ম পালন, খাদ্যের মধ্যে লাউ ও সিরকা-প্রীতি, দিবসে খাওয়ার পর খানিকক্ষণ বিশ্রাম গ্রহণ (কায়লুলা) এবং নিদ্রা গিয়ে জেগে থাকা অবস্থায় রাত্রিযাপন (নাউম বায়নাল ইয়াকজাতাইন)[2]— এই সব সহজ পদ্ধতি প্রতিপালনের মধ্যেই তাঁর সুন্নত (সংস্কৃতি) সীমিত নয়। এই সব সহজ তীর দিয়ে ফিনিক্স পাখি সদৃশ মুহাম্মদিয়াত শিকার সম্ভব হলেও পরে দেখা যাবে যে, সেই মুহাম্মদিয়াতরূপী ফিনিক্স পাখিটি চিল বা কাক! নামকাওয়াস্তে না করে যদি সত্যিকারভাবে তাঁর সুন্নত অনুসরণের কারো ইচ্ছা থাকে এবং তা থেকে প্রকৃতই কোনো মূল্যবান ফল লাভের আকাঙ্ক্ষা কেউ যদি পোষণ করে তা হলে সেই সুন্নতের শুরু হতে পারে প্রান্তরবাস ও পর্বতগুহায় সাধনার মাধ্যমে। শেষোক্ত ক্ষেত্রে ওটা ছাড়া শুরু করার অন্য কোনো কেন্দ্রবিন্দুই নাই।  

কেউ হয়তো মনে করতে পারে, আর কেউ-বা বলি কেন, সারা বিশ্ববাসীরই একটি ধারণা রয়েছে যে, উপরোক্ত অস্বাভাবিক, নিরলস ও ক্লেশপূর্ণ সাধনাটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট ছিল, তাঁর উম্মতের জন্য এর প্রয়োজন নাই। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রকৃতপক্ষে তাঁর সকল ক্লেশপূর্ণ কার্যই তাঁর উম্মতদের জন্যও অপরিহার্য! অবশ্য কেবলমাত্র ‘মাগফিরাত’ ও ‘নাজাত’ লাভের জন্য নয়; কেননা, এর জন্য তো শরিয়তের সংক্ষিপ্ত বিধিবিধান, যা ‘রাহে নাজাত’ ও ‘মা লা বুদ্দা মিনহু’ পুস্তিকায় সন্নিবেশিত রয়েছে, তা পালন করাই যথেষ্ট! তরল খাদ্যের একটি লোকমা যেমন গালে পুরলেই পেটে গিয়ে পড়ে, এটি তেমনি সহজ কাজ! কিন্ত জিজ্ঞাসা করি, তাঁর আগমন কি শুধু ‘মাগফিরাত’ ও ‘নাজাত’এর পদ্ধতি বাতলানোর জন্যই হয়েছিল? নিশ্চয় নয়। তাঁর আগমন, যে-আগমনের কোনো তুলনা বিশ্বে হতে পারে না, তাহা কেবল ‘মাগফিরাত’ ও ‘নাজাত’এর জন্য হয় নাই, বরং মানবতার পর্যায়ক্রমিক উন্নতি ও চরম পূর্ণতা বিধানের জন্যই তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন। আর, এই পরম উন্নতি ও চরম পূর্ণতা বিধানের পদ্ধতিটি ‘রাহে নাজাত’ও ‘মা লা বুদ্দা মিনহু’তে সন্নিবেশিত মাসআলা-মাসায়েলের জালে আয়ত্ত করা যাবে, এটা কখনোই সম্ভব নয়। 

আমি যে রহস্যটি এখানে উদ্ঘাটন করছি তা যে অস্পষ্টই রয়ে গেছে এমন ধারণা করারও কোনো কারণ নাই। মুহাম্মদিয়াতের এই উচ্চ পর্যায়ের বিধিবিধানের অনুশীলন বরং সর্বদাই সন্ন্যাসবাদে পর্যবসিত হয়ে রয়ে গেছে। মুসলমানদের প্রকৃত সুফিদল ও প্রথাগত সুফিদলের মধ্যে বিরাট পার্থক্য বিদ্যমান। অপর পক্ষে, অমুসলমানদের মধ্যে ইউরোপের প্রকৃতিবাদীগণ মুহাম্মদিয়াতের এই উচ্চ পর্যায়ের বিধিবিধানকে নিশ্চিতই উপলব্ধি করেছেন। তারা এর যথাযথ মূল্য দিয়েছেন এবং এর ভিত্তিসূত্রের প্রথম পর্যায়ে সাহসের সাথে অবতরণ করে অপরের কাছে যা সম্পূর্ণ অস্পৃশ্য বলে প্রতীয়মান তারই মাণিক্য আহরণ করেছেন। তাই আমরা দেখতে পাই, এই দুই দল দুনিয়াকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেছেন। ইউরোপের প্রকৃতিপন্থীগণ পার্থিব জগতকে চোখ ঝলসানো আলোকে উদ্ভাসিত করে দিয়েছেন, আর মুসলমানদের সুফিগণ আধ্যাত্মিক জগতকে করে তুলেছেন এমনই ক্ষমতাবান যে, পার্থিব জগত একে উপেক্ষা করতে সাহসী হয় নাই । 

এক দিকে নিউটন ও ডারউইনের মতো ব্যক্তিগণ পার্থিব জগতকে আসমানের ওপর উঠানোর সুস্পষ্ট ভিত্তি স্থাপন করেছেন। এমন কে আছেন যিনি তাদের এই ভিত্তি প্রতিষ্ঠার কীর্তিকে তাচ্ছিল্যভরে অস্বীকার করার কথা মুখেও আনতে সাহসী হবেন— তা তিনি সংসারবিরাগী মওলবি অথবা রেশম পরিধানকারী সুফি যে-ই হোন না কেন? অপরপক্ষে, জুনায়দ বাগদাদি ও হুসাইন বিন মনসুর হাল্লাজের মতো ব্যক্তিগণও তাদের কেরামতি বা অলৌকিকত্বের সামনে পার্থিব জগতের শক্তিশালী গর্দানকে অবনত করে দিয়েছেন! 

আমার একান্ত ইচ্ছা, রসুলের প্রত্যেক খাঁটি উম্মতেরই প্রথমে প্রান্তরবাসী ও পর্বতগুহায় সাধনানিরত হয়ে পরে তার খানকায় প্রবেশ করা উচিত। কিন্ত পরিতাপের বিষয়, সমগ্র উম্মতে মুহাম্মদিই হিম্মতহারা হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্য থেকে মুহাম্মদিয়াতের প্রাণপাখিই উড়ে গেছে। এখন রয়েছে কেবল মুহাম্মদিয়াতের লাশখানি আর সেই লাশের আড়ম্বরপূর্ণ পূজা! একথা অবশ্য সত্য যে, ইউরোপবাসীদের কাছেও মুহাম্মদিয়াতের কেবল পার্থিব দিকটাই উদ্‌ভাসিত হয়েছে এবং তারাও কেবল এর সীমানার মধ্যেই ঘুরপাক খেয়ে ফিরছে। কিন্তু মুহাম্মদিয়াতের আধ্যাত্মিক দিগন্তটিও যে তাদের নিকট অনাবিষ্কৃত থাকবে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে, তাদের নিকট উন্মোচিত হলেও তাঁর বর্তমান মুসলিম উন্মতদের কাছে তা অজ্ঞাতই থেকে যাবে! মনে হয়, এদের কেউই এই দিগন্ত উন্মোচনের জন্য চেষ্টা করবে না, যতক্ষণ না কোনো পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব এদের সম্পূর্ণ নতুন জিনিসে রূপান্তরিত করে দিতে সক্ষম হয়! 

টীকা :
[1] একাধিকবার আল্লাহর রসুল (স)এর সঙ্গীত শোনার বিষয়টি হাদিসে আছে। সম্ভবত আজাদ সুবহানি সেই সব হাদিস সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন না অথবা ভুলে গেছিলেন।
[2] মুমিন ব্যক্তির দুইটি অন্তর রয়েছে বলে ধরা হয়। রাতে ঘুমানোর সময় একটি অন্তর ঘুম যায়, অপরটি জেগে থেকে আল্লাহ্‌র ধ্যান করে। ‘নাউম বায়নাল ইয়াকজাতাইনের’ ভাবার্থ এটাই। 

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It