বিশ্ব মহামারী, রাষ্ট্রপ্রধানদের পাগলামী বনাম চেতনাহীন নাগ‌রিক!

বিশ্ব মহামারী, রাষ্ট্রপ্রধানদের পাগলামী বনাম চেতনাহীন নাগ‌রিক!

বি‌শ্বের যে সব দেশ COVID 19 এ আক্রান্ত ও মৃ‌ত্যুতে শীর্ষ স্থা‌নে ছিল এবং আ‌ছে  সে দে‌শেগু‌লোতে Covid 19 মহামারী প্রচন্ড রূপ ধারণ করারে পেছ‌নে যে সব করণ র‌য়ে‌ছে তার ম‌ধ্যে অন্যতম এবং প্রথম কারণ হ‌চ্ছে ঐ সকল দে‌শের পুঁজীবাদী ও বিকৃত মস্তি‌ষ্কের রাষ্ট্র প্রধানেরাই।  ২য় কারণ হলো ঐ দেশ গুলোর কিছু একগুয়ে, মূর্খ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মান্ধ জনগণ।

চী‌নের প‌রে প‌রেই দ্রুত আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড গ‌ড়ে ইতা‌লি। ইতা‌লি‌তে যখন ‌চি‌কিৎসক ও বি‌রোধীদল গু‌লো যখন দে‌শে লক ডাউন এর সুপা‌রিশ কর‌ছি‌লো তখন ইতা‌লির প্রধানমন্ত্রী  গিসেপে কন্তে সহ ক্ষমতাসীন দ‌লে প্রায় সক‌লেই ছি‌লো লকডাউ‌নের বি‌রোধী। 

প্রধানমন্ত্রী  গিসেপে কন্তে লকডাউন সম্প‌র্কে ব‌লে‌ছি‌লো  এখনও সময় আ‌সে নাই। য‌দিও চি‌কিৎসক ও বি‌শেষজ্ঞ‌দের পরাম‌র্শে লোকজন একটু ভ‌য়ে ঘ‌রে ঢু‌কে‌ছি‌লো  সেই সম‌য়ে তখন 
২০২০ এর ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ সরকারে থাকা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা নিকোলা জিঙ্গারেত্তি মিলানের একটি সভায় ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমাদের ঐ‌তিহ্য ও আচরণ বদলা‌নোর  কোনও প্রয়োজন নেই । আমাদের অর্থনীতি ভয়ের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। সবাই আনন্দ উৎসব কর। কফি খাও, পিৎজা খাও পা‌র্টি কর।’ 

ঠিক ওই দিনই মিলানের মেয়র বেপে সালা একটি ভিডিয়োতে বলেন, ‘মিলান কখনও থেমে থাকে না। সবাই বাই‌রে বে‌রি‌য়ে আস।’ 
ভেনিসের সেন্ট মার্কস স্কোয়ারের বেশ কয়েকটি পানশালা একটি পানীয়ের সঙ্গে একটি বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল। ফাঁকা হয়ে যাওয়া শহরে ক্রেতা টানতে। একমাস চলার কথা ছিল সেই অফার। 
লোকজন উৎস‌বে মে‌তে উঠ‌লো, পানশালা জ‌মে উঠ‌লো।

তারপর  প্রতিদিনই  করোনা ভাইরাস সংক্রমন ও মৃত্যু ইতা‌লি‌তে ই‌তিহাস গড়‌তে থা‌কে। বিশ্ববাসী গণমৃত্যুর ভয়াবহ দৃশ্য দেখ‌তে লাগ‌লো। ইতা‌লি থে‌কে প্রবাসীরা‌ নিজ নিজ দে‌শে ছুট‌তে লাগ‌লো ভয়ানক ক‌রোনা  ভাইরা‌সের বীজ নি‌য়ে। ইতা‌লি ছ‌ড়ি‌য়ে দি‌লো বিশ্ব ব্যা‌পি।  

অব‌শে‌ষে, লকডাউ‌নের প‌থে যেতেই হ‌লো ইতা‌লি‌কে। এমন প্রেক্ষাপটে পরবর্তী সময়ে লোকজনকে ঘরে ঢোকাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। লকডাউন কার্যকর করতে বেগ পেতে হয়েছে প্রশাসনকে।

আর এক মারাত্মক বিরল বিকৃত মস্তষ্কের প্রেসি‌ডেন্ট পে‌য়ে‌ছে ব্রা‌জিলের অধিবাসীগণ। ইতা‌লি তা‌দের ভুল বু‌ঝে তা আবার শোধরা‌তে পে‌রে সামান্য হ‌লেও লাগাম টে‌নে ধ‌রে‌ছে Covid 19 এর সংক্রমন আর মৃত্যু। তবুও লক্ষ লক্ষ মানু‌ষের মৃত্যুর বি‌ভি‌ষিকাময় স্মৃ‌তি  ইতা‌লির জনগণ বহন কর‌ছে। ‌কিন্তু ব্রা‌জি‌লের জনগণের এমনই দূর্ভাগ্য যে সেখা‌নকার  সংক্রমন ও মৃত্যুর সংখ্যা যখন বিশ্ববাসী‌কে শং‌কিত ক‌রে তু‌লে‌ছে, ভা‌বি‌য়ে তু‌লে‌ছে  তখনও প্রেসি‌ডেন্ট বল‌সোনা‌রোর টনক নড়ে না। 

সান্তা ক্যাটরিনা রাজ্যের চ্যাপেকো শহরে এক বক্তব্যে জোড়ালো ভাবে প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলেছিলেন,
 “We’re not going to accept this politics of  stay home and shut everything. There will be no national lockdown.”
“বাড়িতে থাকুন এবং সমস্ত কিছু বন্ধ রাখুন” এই রাজনীতি আমরা মেনে নেব না। এখানে কোনও জাতীয় লকডাউন হবে না।”

প্রেসিডেন্ট বলসোনারো ক‌রোনা ভাইরা‌সের টিকা নেওয়া নিরুৎসাহিত  করে বলেই চ‌লে‌ছে একের পর এক  বিত‌র্কিত মন্তব্য। করোনা প্রতিরোধের টিক নিলে মেয়েরা ছেলে মত আর ছেলেরা মেয়েদের মত হয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলেন, “এই টিকা নিলে মেয়েদের মুখে দাড়ি গোঁফ উঠবে,  মেয়েদের কণ্ঠ ছেলেদের মত হবে।”

 করোনায় আক্রান্ত হয়ে একদিনে চার হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও প্রেসিডেন্ট বলসোনারো বলেন,” মানুষ করোনায় মরছেনা, মানুষ মরছে খাদ্যের অভাবে। করোনায় ভয়ে ঘরে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না।”

প্রেসিডেন্ট বলসোনারো

প্রেসিডেন্ট বলসোনারো এর সাথে সাথে তার অন্ধভক্তরাও বলসোনারোর মতোই মানছে না  কোনো স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম কানুন ।

বরাবরেই আক্রান্ত আর মৃত্যুর শীর্ষে থাকাকালিন ততকালিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পও বিকৃত মস্তিষ্কের আর একজন।
ক‌রোনার শুরু থে‌কেই মা‌র্কিন প্রেসি‌ডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পও সীমা ছাড়া ভুলভাল বকা শুরু ক‌রে। লকডাউ‌নের কথা কো‌নো ম‌তেই কা‌নে তু‌লে নাই। লকডাউন সম্পর্কে বলেন,
“There won’t be necessity. Lockdowns cost lives and they cause a lot of problems. The cure cannot be worse than the problem itself,” 
এ‌দি‌কে মৃ‌তের সংখ্যা যখন পঞ্চাশ হাজার ছা‌ড়ি‌য়ে গে‌ছে তখন নিজে  নি‌জেই ডাক্তা‌রি শুরু ক‌রে দেয়। জনগণ‌কে খে‌তে ব‌লে হাই‌ড্রো‌ক্সি ক‌লো‌রোকুইন আর এ‌জি‌থ্রোমাই‌সিন। হাই‌ড্রো‌ক্সি ক‌লো‌রোকুইন আর এ‌জি‌থ্রোমাই‌সিন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট বলেন

“I think people should take hydroxychloroquine. If it were me, in fact, I might do it anyway. I may take it … I have to ask my doctors about that. But I may take it.

“আবার শরী‌রে আল্ট্রাভা‌য়ো‌লেট রশ্মী প্রবেশ করা‌তে ব‌লে ক‌রোনার জীবানু মুক্ত কর‌তে। পাগলামীর চুড়ান্ত রুপ দেখা‌দেয় যখন জীবানু নাশক শরী‌রে ইন‌জেকশন নি‌তে ব‌লে। প্রেসিডেন্ট এর পাগলামী দে‌খে চি‌কিৎসকরা প্রমাদ গুণ‌তে শুরু ক‌রে। প্রেসিডেন্ট এর পাগলামী কর্মকাণ্ডে জীবানু নাশক তৈ‌রির প্রতিষ্ঠানগু‌লোও  প্রকা‌শ্যে বল‌তে থা‌কে তা‌দের জীবানু নাশক মানু‌ষের খাদ্য বা ইন‌জেকশ‌নের জন্য নয়। কে শু‌নে কার কথা? প্রেসি‌ডেন্টএর   কথায় ঔষুধ খে‌য়ে আর  জীবানু নাশকগ্রহণ ক‌রে বে‌ঘো‌রে প্রাণ হারা‌লো শখা‌নেক মানুষ। জীবানু নাশক ইন‌জেকশন নি‌য়ে হাসপা‌লে ভ‌র্তি অ‌নে‌কে। ক‌রোনায় লক্ষ লক্ষ মানু‌ষের মৃ‌ত্যুতে ট্রাম্পের কোন অনু‌শোচনা নাই।  তার পরেও বলতে থাকেন-

“Ideally we won’t go to a lockdown. This administration will not be going to a lockdown. Hopefully… whatever happens in the future,  Who knows which administration it will be. I guess time will tell. But I can tell you this administration will not go to a lockdown,” 

“আদর্শভাবে আমরা কোনও লকডাউনে যাব না । এই প্রশাসন কোনও লকডাউনে যাবেনা । আশা করি … ভবিষ্যতে যা কিছু ঘটবে , এটি কোন প্রশাসন হবে তা কে জানে I  আমার ধারণা, সময়ে বলে দিবে।  তবে আমি আপনাকে বলতে পারি, এই প্রশাসনও কোনও লকডাউনে যাবে না।”

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নতদেশ হলেও  এদেশেও আছে ঘাড় তেড়া কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ। সব মিলিয়ে আমেরিকা কোভিট-১৯ আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা শীর্ষে ধরে রেখার গৌরব অর্জন করেছে।

এবা‌রে আ‌সি ভার‌তের দি‌কে। আক্রান্ত আর মৃত্যুর দিক দি‌য়ে তা‌লিকার দ্বিতীয় স্থা‌নে আ‌ছে বৃহত্তর এই দেশ‌টি। ‌কেন্দ্রী সরকার ও রাজ্য সরকারগু‌লো যথা সাধ্য চেষ্টা ক‌রে যা‌চ্ছে ক‌রোনার লাগাম টে‌নে ধর‌তে। কিন্তু জনগণের বিশাল অংশ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোড়ামীর বিশ্বা‌সের ফ‌লে থোরাই কেয়ার কর‌ছে স্বাস্থ্য স‌চেতনতা বি‌ধি। কো‌ঠোর বি‌ধি‌নি‌ষেধ স্ব‌ত্বেও ধর্মীয় গণজমা‌য়েত চল‌ছেই । সর্ব‌শেষ কুম্ভ‌মেলায় ক‌য়েক হাজার থে‌কে ক‌য়েক লক্ষ লো‌কের গণজমা‌য়েত ঘ‌টে। ফলশ্রু‌তি‌তে গত ১৪ এ‌প্রিল ২০২১ তা‌রি‌খে স‌র্বোচ্চ সংখ্যক প্রায় ২লক্ষ লোক এক‌দি‌নে কো‌ভি‌টে আক্রান্ত হয়। সরকার স‌চেষ্ট হ‌লেও জনগণ স্বাস্থ্য বি‌ধি‌নি‌ষেধ মান‌ছে না বা সরকারও বি‌ধি নি‌ষেধ মানা‌তে পার‌ছেনা।

পু‌জিবা‌দী সরকার নিয়ন্ত্রিত দেশগু‌লো‌তে প্রায় একই সমস্যা। সরকারগু‌লো  মহামা‌রিতে মানু‌ষের মৃত্যুর চে‌য়ে আ‌র্থিক ক্ষ‌তি‌কে বড় ক‌রে দেখ‌ছে। তা‌রা হাজার কিংবা লক্ষ মানু‌ষের মৃত্যুকে  মে‌নে  নি‌বে কিন্তু আার্থক লোকসান মে‌নে নি‌তে পর‌ছে না।

বাংলা‌দেশের সরকারও  এই পুজীবাদী নী‌তি‌তে প‌রিচা‌লিত বিধায়। করোনার চে‌য়ে আ‌র্থিক  লোকসা‌নের দি‌কে বে‌শি গুরুত্ব দি‌চ্ছে। প্রথম থে‌কেই করোনা নি‌য়ে উদা‌সিনতা আর ক‌রোনা আক্রান্ত আর মৃত্যুর প‌রিসংখাণ  নি‌য়ে ছি‌লো লু‌কোচু‌রি খেলা।  পর্যাপ্ত টে‌ষ্টের অক্ষমতা কা‌টি‌য়ে উঠ‌তে পা‌রেনাই। এক দি‌কে সরকার কো‌ঠোর লকডাউন দি‌চ্ছে অন্য দি‌কে ব্যাবসায়ী সংগঠণ গু‌লোর আবদার মে‌নে মিলকারখানা চালু রাখ‌ছে শ্রমিকরা দল‌বে‌ধে ‌দে‌শের প্রত্যন্ত অঞ্চ‌লের বা‌ড়ি ফির‌ছে ক‌রোনা নি‌য়ে আবার পরক্ষ‌ণে  কারখানা  ‌খোলার সিদ্ধা‌ন্তে আবার দল‌বে‌ধে কর্মস্থ‌লে ফি‌রত যাবার জন্য   মানু‌ষের   ঢল ছু‌টে রাজধানী‌তে।  ডাক্তার সাব‌রিনা ও সা‌হে‌দের মত অ‌নে‌কে  বা অ‌নেক প্রতিষ্ঠানে ভুয়া ক‌রোনা টে‌ষ্ট  সনদ বি‌ক্রিক‌রে হাজার কো‌টি অ‌বৈধ‌ টাকার উপার্জন ক‌রে। সেই অ‌বৈধ‌ অর্থই আবার  সরকার  দে‌শের  জি‌ডি‌পি দে‌খি‌য়ে গর্ব ক‌রে বুক ফুলি‌য়ে

COVID -19 মহামা‌রির শুরুর পর থে‌কেই  সরকার মাহামা‌রি মোকা‌বেলা করার প্রস্তু‌তির নেওয়ার  প্রচুর সময় পে‌লেও মো‌টেও গুরুত্ব দেন নাই। য‌দিও স্বাস্থ্য মন্ত্রী জা‌হিদ মা‌লিক বারবার ফাঁকা বুলি ছো‌ড়ে ” COVID 19 মোকা‌বেলায় আমা‌দের সব প্রস্তু‌তি সম্পন্ন। আমা‌দের  কোনো কিছুর ঘাট‌তি নাই।” সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কা‌দের ব‌লেন “আমরা ক‌রোনার চে‌য়েও শ‌ক্তিশালী।”  

স্বাস্থ্য মন্ত্রী জা‌হিদ মা‌লিক

মার্চ ২০২০ পর থে‌কে দেখা গে‌লো আসল দৃশ্য, সরকা‌রের প্রস্তু‌তির এ‌কেবা‌বে লে‌জে গোব‌রে অবস্থা। পি‌পিই সংকট, অ‌ক্সি‌জেন সংকট, চি‌কিৎসা,  আই‌সিইউ সংকট, চি‌কিৎসক সংকট, বেড সংকট।   প্রথম লকডাউ‌নে কো‌নো অ‌ধিদপ্ত‌রের সা‌থে অন্য কোন অ‌ধিদপ্ত‌রের সমন্বয় নাই, যোগা‌যোগ নাই। ১ম লকডাউন ছি‌লো এক অরাজকতা। দৈ‌নিক খে‌টে খাওয়া নিম্ন আ‌য়ের মানুষ গু‌লোর বিকল্প ব্যবস্থা না নি‌য়ে, খা‌দ্যের ব্যবস্থা না করে লকডাউন ঘোষণায় এরা প‌রে যায় বিপা‌কে। প‌রে ব্যক্তিগত এবং সরকা‌রি উ‌দ্যো‌গে ত্রান বিতর‌ণে ছি‌লো না কো‌নো সমন্বয়। নিয়মনীতি না থাকায় মানুষ দলহ‌য়ে এখান থে‌কে ওখা‌নে ত্রান সংগ্রহ করার জন্য ছু‌টে‌ছে। বি‌ভিন্ন স্থা‌নে বা এলাকা ভি‌ত্তিক ছোট ছোট বাজার না বসা‌নোর ফলে কে‌ন্দ্রিয় বাজা‌রেই লোক বে‌ধে দেওয়া সম‌য়ের ম‌ধ্যেই গাদাগা‌দি ক‌রে বাজার ক‌রে‌ছে। সং‌কির্ণ সময়ের জন্য ব্যাংক গু‌লো‌তে ছি‌লো লোকজ‌নের পারাপা‌রি অবস্থা। যা লকডাউ‌নের উ‌দ্দেশ্যকেই  মা‌টি  ক‌রেছে। প‌রে  সী‌মিতকা‌রে  লকডাউনের না‌মে চলেছি‌লো সব‌কিছুই উদ্দাম। কি হয় নাই? বি‌য়ে আ‌কিকা জন্ম‌দিন, বিলাস ভ্রমন,সমুদ্র স্নান, মি‌টিং মি‌ছিল, বি‌ক্ষোভ, নির্বাচন, ভিআই‌পি জানাজা, জন্মশতবা‌র্ষি‌কি উৎযাপন, সুবর্ণ জয়‌ন্তি পালন, মদী আ‌নো আ‌ন্দোলন, মদী ঠেকাও আ‌ন্দোলন, বই মেলা, বি‌সিএস পরীক্ষা, মে‌ডি‌কেল ভ‌র্তি পরীক্ষা যেখা‌নে ছি‌লো দেড় লক্ষ পরীক্ষর্থীর সা‌থে তিন লক্ষ অ‌ভিভাকক এর সমাগম। অর্থাৎ COVID-19 বাংলা‌দে‌শে আক্রম‌নের পর হ‌তে এক বছ‌রের সারমর্ম এই যে, বাংলা‌দের জনগণ চেতনাহীন আর সরকার হ‌লো এক নম্বর চু‌তিয়া ফাঁপরবাজ। ফলাফল COVID -19 এর দ্বিতীয় ধাক্কা আর প্রতি‌দিন রেকর্ড গড়া আক্রান্ত আর মৃত্যু। ১৪ এ‌প্রিল ২০২১ থে‌কে চল‌ছে ২য় দফায় খোলা‌মেলা কঠোর লকডাউন।  আজ যখন ১৬ এ‌প্রিল ২০২১ এ লেখা‌টি লেখ‌ছি, তখন আজ‌কে এক‌দি‌নে স‌র্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ১০১অ‌তিক্রম  ক‌র‌লো। কিন্তু প্রকৃত হিসাব আল্লাহ মালুম। কারণ সরকার শুরু থে‌কে প্রকৃত তথ্য গোপন ক‌রে আস‌ছে।  এভা‌বেই বাংলা‌দে‌শের ভ‌বিষ্যত এক  অনিশ্চয়ার  প‌থে ছুট‌ চলছে। 

 বাংলা‌দেশ  সরকার  COVID 19 মোকা‌বেলায় একলা চল নী‌তি‌তে চল‌ছে। বি‌শেষজ্ঞ‌দের মতামত না নি‌য়ে  চল‌ছে ব্যাবসায়ী‌দের মতাম‌তের ভি‌ত্তি‌তে। ‌মহামারী নিয়ন্ত্রনে  কো‌নো Country plane গ্রহন করা হয় নাই। সকল রাজ‌নৈ‌তিক দল, ধর্মীয় নেতা, সমাজ‌বিদ, পরি‌বেশবিদ, ম‌নো‌বিদ, শিক্ষা‌বিদ, গ‌বেষক , চি‌কিৎসক, ‌সি‌ভিল প্রশাসন এবং বি‌ভিন্ন অ‌ধিদপ্ত‌রের  স‌ম্মি‌লিত মতাম‌তের ভি‌ত্তি‌তে খুব দ্রুতই এক‌টি  Country plan গ্রহণ করা উ‌চিৎ। অন্যথায় সরকার কখনই একা মহামারী নিয়ন্ত্রনে আন‌তে পার‌বে না।

মহামারীর প্রভাবে দে‌শের সকল শ্রেণির মানুষ অর্থ‌নৈ‌তিক মন্দার কব‌লে প‌রে‌ছে। বেকার‌ত্বের হার বে‌ড়ে‌ছে, জীবন যাত্রার মান কম‌তে কম‌তে অমান‌বিক পর্যা‌য়ে নে‌মে আসা শুরু ক‌রে‌ছে। 

কিছু পুঁ‌জিপ‌তি ‌ব্যবসায়ী আর সরকা‌রি কর্মকর্তা কর্মচারী ছাড়া ‌বা‌কি সক‌লেই চরম অর্থ‌নৈ‌তিক মন্দায় নিম‌জ্জিত।  ত‌ড়িৎ মহামারী নিয়ন্ত্রনে না আন‌লে বেকারত্ব,  স্বাস্থ্য ঝুঁকি, খাদ্যাভাব আর  আ‌র্থিক মন্দার কা‌র‌ণে দে‌শে মারাত্মক অরাজকতা শুরু হ‌বে।    

সরকার সক‌লকেই সা‌থে নি‌য়ে স‌ম্মি‌লিতভা‌বে হ‌য়ে COVID-19 মোকা‌বেলায় উ‌দ্যোগী হ‌লে অ‌তি শীগ্রই  বাংলা‌দেশ COVID -29 মুক্ত হ‌বে।

মোঃ  সা‌জেদুর রহমান সাজু
শিক্ষক এবং রাজনৈতিক সংগঠক

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It