নবী মুহাম্মদ (স) এর কার্যের উপকরণ

নবী মুহাম্মদ (স) এর কার্যের উপকরণ

মুহাম্মদ (স)

(বিপ্লবী নবী থেকে)

মূল : আল্লামা আবদুল কাদির আজাদ সুবহানি
তর্জমা : মওলবি আশরাফ

নবী মুহাম্মদ (স) এর এত বিপুল কর্মের এত বিপুল উপকরণ কোথা থেকে এসেছিল? নিশ্চয় তা বাহির থেকে আসেনি, ভিতর থেকেই এসেছিল। প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন ব্যক্তিমাত্র ছিলেন না, ছিলেন গোটা একটি জগৎ। সেই জগতও অসম্পূর্ণ জগৎ ছিল না, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জগৎ ছিল। আমার এ কথাটি ভাবাবেগপ্রসূত নয়, সম্পূর্ণ বাস্তব সত্য। এই সত্যটিও এমন নয় যে, এতে সামান্যতম ভেজাল মিশ্রিত হয়েছে ; বরং এটি একেবারেই নির্ভেজাল সত্য। আমি এই পূর্ণ জগতের বাতেনি দিকটিকে বহুদিন ধরে দেখছি। এবং তা থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করছি; কিন্ত সত্য বলতে কি, এই সমুদ্রের কোনো কিনারা আমি কখনো পাইনি। অবশেষে আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছি যে, হজরত মুহাম্মদ (স) জগৎ, আর জগতই হজরত মুহাম্মদ (স), শুধু তা-ই নয়, তিনি হচ্ছেন স্বয়ং মহাজগৎ। এই জগতে কী কী রয়েছে তা জানবার চেষ্টা না করাই ভালো।

সুতরাং, এমন মহান ব্যক্তির পক্ষে কর্ম-সম্পাদনের জন্য বাহিরেরর উপকরণের প্রয়োজনই-বা ছিল কোথায় ?

তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, ভিতর থেকে উপকরণের এই জগৎ কী করে উন্মোচিত হলো? আল্লাহ থেকে যেমন সমগ্র জগৎ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই হজরত মুহাম্মদ (স)এর ভিতর থেকেও কার্যোপকরণের জগৎভাণ্ডার বিকশিত হয়েছে । সকলেরই হয়তো জানা আছে যে, বাহ্যত যা দৃশ্যমান গৃঢ়তও তা বিদ্যমান এবং গৃঢ়ত যা বিদ্যমান তা-ই মূল, আর বাহ্যত যা বিদ্যমান তা মূলেরই প্রতিবিম্ব মাত্র। সুতরাং মূল থেকে তার প্রতিবিম্বকে বের করে আনা খুবই কঠিন কোনো কাজ নয়।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, হজরতের এত বিরাট ও মহান কার্যের উপকরণ কোথা থেকে এসেছিল, এবং কিভাবে তা বিকশিত হয়েছিল এই প্রশ্ন অবান্তর! প্রকৃত প্রশ্ন হলো, কী করে এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলির সন্ধানলাভ সম্ভব হয়েছিল? এছাড়া, এপ্রশ্নও উঠতে পারে যে, তাঁর এই বিরাট ও মহান কার্য সাধনের জন্য কী কী উপকরণের প্রয়োজন হয়েছিল এবং সেই উপকরণগুলির তালিকা কী? এটা নিশ্চিত যে, অতি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণেরই প্রয়োজন হয়েছিল। আমি শুধু একথাই বলবার চেষ্টা করেছি যে, উপকরণসমূহের প্রয়োগকর্তা উপকরণ অপেক্ষা অনেক বেশি বড়ো ও মহৎ; আর এই সকল উপকরণ যেহেতু তাঁর নিজের মধ্যেই ছিল সেহেতু এসবের সন্ধান লাভ কী করে কঠিন হতে পারে? এজন্য প্রয়োজন ছিল কেবল চিন্তায় নিমগ্নতার এবং বক্ষপ্রসারণের; আর, এ দুটি অমূল্য অস্ত্রও এই ‘লাহুতি’ (1) ব্যক্তির কাছে বিদ্যমান ছিল। এই অস্ত্র দুইটির দ্বারাই তিনি তাঁর গূঢ় জগৎ তথা বাতেনি আলমকে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাতে বিদ্যমান উপকরণরাজ্যের সন্ধান লাভ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, তিনি কী কী উপকরণ লাভ করেছিলেন, আর এই সব উপকরণ তাঁর মধ্যে কীভাবেই-বা বিন্যস্ত ছিল? এইবার তা-ই বর্ণনা করছি :

উপাদান-উপকরণের তালিকা:

  • ১। রব্বানি চিন্তা-ভাবনা অভ্যাস।
  • ২। আপন তবিয়ৎ ও ফিতরতের অর্থাৎ আপন সত্তার স্বভাবে রব্বানি উপলদ্ধি।
  • ৩। স্বভাব-নিহিত যোগ্যতার রব্বানি ধারণা।
  • ৪। বৃদ্ধিবৃত্তির রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৫। অন্তঃকরণের রব্বানি প্রশস্ততা।
  • ৬| প্রভাব বিস্তারের রব্বানি শক্তি।
  • ৭। অন্যকে বশ করার রব্বানি বাসনা।
  • ৮। মর্মোপলব্ধির রব্বানি অবস্থা।
  • ৯। জাগতিক বিশৃংখলার রব্বানি তদারক।
  • ১০। সৃষ্টির খিদমতের রব্বানি উদ্দীপনা।
  • ১১। প্রগতির রব্বানি ধারণা।
  • ১২। পূর্ণতার রব্বানি নকশা।
  • ১৩। সৃষ্টির অপূর্ণতার রব্বানি জ্ঞান।
  • ১৪। সৃষ্টির বিবর্তন সম্পর্কে রব্বানি সিন্ধান্ত।
  • ১৫ | স্থুল-বস্তর রব্বানি সূক্ষতা।
  • ১৬। সূক্ষ-বস্তুর রব্বানি স্থুলতা।
  • ১৭। অণুপরমাণুর সংযোগ সাধনে রব্বানি নির্বাচন।
  • ১৮। অণুপরমাণুর রব্বানি সংযোগ সাধন।
  • ১৯। জনমতের রব্বানি পর্যবেক্ষণ।
  • ২০। জনমত হতে রব্বানি সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
  • ২১। জনমতের প্রতি রব্বানি নিষ্ঠা।
  • ২২। সততার প্রতি রব্বানি নিষ্ঠা।
  • ২৩। সমালোচনার প্রতি রব্বানি অভিনন্দন।
  • ২৪। সংস্কার-সংশোধন মেনে নেবার রব্বানি চরিত্র।
  • ২৫। তত্ত্ব-তালাশের রব্বানি উৎসাহ উদ্দীপনা।
  • ২৬। সংকল্পে রব্বানি চরিত্র।
  • ২৭। স্থৈর্যে রব্বানি অটলতা।
  • ২৮ | চরম ও মধ্যপন্থার রব্বানি সমন্বয়।
  • ২৯। ভাবোন্মত্ততা ও সজ্ঞানচিন্তার মধ্যে রব্বানি সামঞ্জস্য।
  • ৩০। আদি ও অন্তের রব্বানি সঙ্গতি।
  • ৩১। সারল্য ও বৈচিত্র্যের রব্বানি সমাবেশ।
  • ৩২। পঞ্চেন্দ্রিয়ের রব্বানি বিকাশ।
  • ৩৩। নয়টি মহাতত্ত্বের রব্বানি উদঘাটন।
  • ৩৪। নয়টি বস্তজগতের পূর্ণ রব্বানি জ্ঞান।
  • ৩৫। পরম উন্নতির রব্বানি সামর্থ।
  • ৩৬। পর্যটন ও পর্যবেক্ষণের রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৩৭। প্রগতিপ্রিয়তা ও দুর্লভ বস্ত-অনুসন্ধানের রব্বানি ফিতরত।
  • ৩৮। সত্য ও তত্ত্ব-অনুসন্ধানের রব্বানি প্রেরণা।
  • ৩৯। পরীক্ষণ ও নির্বাচনের রব্বানি যোগ্যতা।
  • 8০। সত্যপ্রিয়তা ও সত্যকথনের রব্বানি হিম্মত।
  • ৪১। পরম রব্বানি শৌর্য।
  • ৪২। পরম রব্বানি বদান্যতা।
  • ৪৩। পরম রব্বানী গাম্ভীর্য।
  • ৪৪। পরম রব্বানি মধুরতা।
  • ৪৫। পরম রব্বানি কমনীয়তা।
  • ৪৬। পরম রব্বানি বুদ্ধিমত্তা।
  • 8৭। পরম রব্বানি শ্রম ও অধ্যবসায়।
  • ৪৮। পরম রব্বানি স্নেহ ও দয়া।
  • ৪৯। পরম রব্বানি ভালোবাসা ও সমবেদনা।
  • ৫০। পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা।
  • ৫১। পূর্ণ দৈহিক বল।
  • ৫২। পরম সাংগঠনিক শক্তি।
  • ৫৩। পরম রব্বানি সৃজনী শক্তি।
  • ৫৪। উপলব্ধির পরম রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৫৫। পরম রব্বানি প্রচারক্ষমতা।
  • ৫৬। পূর্ণতা দানের পরম রব্বানি সামর্থ।
  • ৫৭। কোনো কিছু করা-না-করার পরম রব্বানি শক্তি।
  • ৫৮। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র‍্য রক্ষার পরম রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৫৯। সামাজিকতার পরম রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৬০। ব্যক্তিগত চূড়ান্ত রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৬১। চূড়ান্ত যৌথ রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৬২। পরম রব্বানি চিন্তাশক্তি।
  • ৬৩। পরম রব্বানি কর্মশক্তি।
  • ৬৪। পরম রব্বানি শৃঙ্খলা শক্তি।
  • ৬৫। পরম রব্বানি স্বী-করণশক্তি।
  • ৬৬। বিশদ বিবৃতির পরম রব্বানি ক্ষমতা।
  • ৬৭। পরম রব্বানি শিক্ষাদান শক্তি।

উপরোক্ত উপাদান-উপকরণগুলি অধিক কিছু নয়, বরং প্রয়োজনানুযায়ী অল্প বলে মনে হয়। তবু এই উপাদান-উপকরণই সারা বিশ্বকে জয় করার জন্য যথেষ্ট। আমার এই দাবির সত্যতার বাস্তব প্রমাণও রয়েছে। বাস্তবে প্রয়োগ করলে যেকেউই এর সত্যতার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে সক্ষম হবেন। হজরত যখন সমগ্র বিশ্বকে জয় করার জন্য আবির্ভূত হয়েছিলেন তখন এই সব ব্যতীত আর কী উপাদান-উপকরণই-বা তাঁর নিকট ছিল? এই সূক্ষ্ম বিষয়টি অবগত হওয়ার জন্য অন্য একটি বিষয় জানা দরকার । বিষয়টি হলো : জগৎ বাহিরেও বিদ্যমান— অভ্যন্তরেও বিদ্যমান। বাহিরে কেবল ফলিত রূপ বিকশিত— অভ্যন্তরেই এর আসল সত্য বিদ্যমান । বাহিরে শাখা, অভ্যন্তরেই এর মূল। মনুষ্য সৃষ্টির কৌশলটিই এমন সুন্দরভাবে করা হয়েছে যে, মানুষের অভ্যন্তরে সমগ্র সৃষ্টি-জগৎই যেন সুবিন্যস্ত রয়েছে, ঠিক যেমনভাবে বিস্তৃত প্রান্তরে প্রতিফলিত হয় সমগ্র সৃষ্টিজগতের রূপরেখা । মানুষের এই অভ্যন্তরীণ জগৎ কখনো প্রকাশিত হয়, আবার কখনো তা প্রকাশিত হয় না; অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকও বিকশিত হয়। যখন কারো এই অভ্যন্তরীণ জগৎ পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়, তখন সেই মানুষ আর মানুষ থাকেন না; তিনি স্বয়ংই সৃষ্টিজগৎ হয়ে দাঁড়ান। এই সৃষ্টিজগৎও কোনো কল্পনা বা অনুমানের ব্যাপার নয়, প্রকৃতই তিনি নিজে একটি পূর্ণাঙ্গ জগতে রূপান্তরিত হয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় একজন মানুষ একাই সেই সমস্ত কাজ করতে সক্ষম যা সমগ্র মানবজাতি একত্র মিলেও করতে পারে না। যেহেতু সাধারণ মানুষের নিকট কখনো এই মহা জগতের রূপ পরিস্ফুট ও বিকশিত হয় না সেজন্য কোথাও কারো মধ্যে তা পরিস্ফুট বা বিকশিত হতে দেখলে মানুষ তাকে মোজেজা বা অস্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করে থাকে এবং তার সংশ্রব বর্জন ও তার সাহচর্য হতে দূরে থাকাকেই শ্রেয় মনে করে। শুধু তা-ই নহে, তারপর সেই সান্ত্বনার মধ্যে যে নির্লিপ্ততা বিদ্যমান থাকে তাতেই সে গা ভাসিয়ে দেয়। এর পরিণাম এই হয়ে থাকে যে, এই উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত ব্যক্তির পুজা শুরু হয়ে যায়; আবার কিছু সংখ্যক লোক এই উচ্চ মর্যাদাকেই অস্বীকার করে বসে। তবে সৌভাগ্যের কথা এই যে, এ ধরনের লোকের সংখ্য। খুব বেশি থাকে না, থাকলে অজ্ঞতাই প্রাধান্য লাভ করত।

উপরোক্ত মর্যাদাটি যে ব্যক্তির মধ্যে পূর্ণতম রূপ নিয়ে বিকশিত হয়েছিল, অথবা বলা যায়, যে-ব্যক্তির মধ্যে তাঁর অন্তর্জগৎ সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়েছিল, যাঁর অন্তর্জগতের প্রত্যেকটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুও পরিস্ফুটিত হয়েছিল এবং একটি কোণও অবিকশিত থাকে নাই, কেবলমাত্র হজরত মুহাম্মদই (স) তেমন ব্যক্তি হিসাবে প্রমাণিত হতে পারেন। কারণ, তাঁর মধ্যে যেভাবে সকল বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ও সব কিছুরই পূর্ণতা বিদ্যমান তা একজন তো দূরের কথা, সমগ্র মানব জাতির মধ্যেও পরিলক্ষিত হয় না। উপরে বর্ণিত বিষয়সমূহই হচ্ছে সেই সব উপকরণ-উপাদান যা তাঁর অন্তর্জগতকে সম্পূর্ণ বিকশিত করেছিল এবং তাঁকে করেছিল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জগৎ।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, উপরোক্ত উপকরণ-উপাদানগুলি কত মহামূল্য। সমগ্র বিশ্বের মধ্যে যা কিছু বিদ্যমান তা জয় করবার জন্য এগুলি কি যথেষ্ট নয়? তবে প্রশ্ন হলো— এই উপাদানগুলিই কর্মসংগ্রামে পূর্ণ সাফল্যদান করতে সক্ষম কিনা, অথবা এইগুলি কর্ম-সংস্থানের কোনো পন্থা উন্মুক্ত করে দেয় কিনা? একথা প্রমাণ করা অতি সহজ। উপরে যেসব বিষয় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে হজরত নিশ্চয়ই সেসব সম্পাদন করেছিলেন। যদি বলি, তাঁর জীবনে উপরোল্লিখিত কাজগুলি সম্পন্ন হয় নাই তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, তবে আর কী হয়েছে? তাঁর সামগ্রিক কীর্তির মূল কথাই তো এই ছিল যে, তিনি যেমন একদিকে সমগ্র জগৎকে অতুলনীয়তাবে জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন অপরদিকে তেমনই রব্বুল আলামিনের ইচ্ছার ছায়ায় মানবতাকে পরম পূর্ণতার দিকে উন্নীত করারও চেষ্টা করেছেন। এই প্রসঙ্গে স্মরণীয় যে, প্রত্যেক কর্মের জন্যই উপাদান ও উপকরণের প্রয়োজন হয়। সুতরাং রসুল করিমের এই মহান কীর্তির জন্যও নিশ্চয়ই কিছু উপাদান-উপকরণের প্রয়োজন হয়েছিল। আর, এই উপাদান-উপকরণ যে উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলি ছাড়া আর কিছু ছিল না তাতে বিন্দুমাত্রও সন্দেহ নাই। তাছাড়া, জগৎ জয় তো তিনিই করতে পারেন যিনি জগৎকে অতিক্রম করেছেন। বিজয়ী ব্যক্তি স্বয়ং এবং তার শক্তি ব্যতীত আর কীই-বা জগৎ অতিক্রম করতে পারে! সুতরাং, উপরে বর্ণিত উপাদান-উপকরণগুলি, যা মহানবীর মূর্ত পরিচয় বহন করছে— এগুলিই তাঁর কর্মসংগ্রামের সমান হিসাবে পরিগণিত হতে পারে। মানবতাকে পূর্ণতর সৌভাগ্যের দ্বার-প্রান্তে উপনীত করার অনুরূপ পন্থার কথাও জগতের মুখ থেকে শোনা যাবে বলে আশা করা যায় না। কেননা, জগৎ বেচারা তো একেবারেই নিশ্চুপ; আর মানবতার কর্তা ব্যক্তিদের যা দৌড়, তারাও কখনো তা করতে পারবে না! তাহলে আর বলবে কে? অনুসন্ধানকারীদের আপন দৃষ্টির উপর নির্ভর করা ছাড়া এ ক্ষেত্রে গত্যান্তর নাই।

যাই হোক, কিছুটা ঘটনা-বিশ্লেষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি উপলব্ধি করতে সক্ষম হলে প্রকৃত ব্যাপারটিও সহজেই উপলব্ধি করা সম্ভব! তবে, এই পর্যায়ের বর্ণনার জন্য শুধু আভাস দিয়েই ক্ষান্ত থাকব।

টীকা :

(1) সুফি সাধনামতে সেই স্তরের নাম ‘লাহুত’ যেখানে পৌঁছলে সাধকের সত্তা ঐশী প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যায়। এখানে মুহাম্মদ (স) কে ‘লাহুতি’ বলে সে অর্থই বুঝানো হয়েছে।

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It