রব্বানিয়াত উপলব্ধি

রব্বানিয়াত উপলব্ধি

রব্বানি

(বিপ্লবী নবী- ১৩)

[ বিপ্লবী নবীর পূর্ব প্রকাশিত অংশ সমূহঃ

কিস্তি-০১ ।। কিস্তি-০২ ।। কিস্তি-০৩ ।। কিস্তি-০৪ ।। কিস্তি-০৫ ।। কিস্তি-০৬ ।। কিস্তি-০৭ ।।  কিস্তি-০৮ ।। কিস্তি-০৯ ।। কিস্তি-১০ ।। কিস্তি-১১ ।। কিস্তি-১২ ।। কিস্তি-১৩ ]

মূল : আল্লামা আবদুল কাদির আজাদ সুবহানি
তর্জমা : মওলবি আশরাফ

আপন সত্তার রব্বানি উপলব্ধি :
এটা রব্বানি চিন্তাভাবনার দ্বিতীয় বিষয়বস্তু। এ উপলব্ধির ফলে খুদি আরও বিস্তারিতভাবে উন্মোচিত হয়। এই প্রশস্ততর পটভূমিকায় দাঁড়িয়ে তিনি জানতে পারেন— তাঁর প্রকৃতিতে কোন কোন বিষয়ে অধিকতর ক্ষমতা রয়েছে— যে-ক্ষমতা অল্প বা অধিক পরিশ্রমের ফলে অচিরেই অথবা বা বিলম্বে সেই জীবনকালের মধ্যেই প্রাণবেগে ব্যক্ত হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে, এবং তা এমন ব্যাপকভাবে ব্যক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে, সেই সব সামর্থ নিজ-নিজ প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বৃহৎ বৃহৎ সৃষ্টিধর্মী কার্য সম্পাদন করতে এবং সাড়া জাগাতেও সক্ষম। এই পর্যায়ে অধ্যয়নের ফলেই তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর প্রকৃতিগত যোগ্যতা কোনো ক্ষেত্র বিশেষে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ক্ষমতার সকল ক্ষেত্রই তাঁর আয়ত্তাধীন; জীবন তাঁর রূপায়ণের জন্য যত রকম কর্মক্ষেত্রের উদ্ভাবন করতে পারে তাঁর মধ্যে এর সকল ক্ষেত্রেরই যোগ্যতা বিদ্যমান রয়েছে। এই অধ্যয়নই তাঁর মধ্যে দৃঢ়তা ও ও উদ্যম সঞ্চার করে যার সম্মুখে স্বর্গ-মর্ত্যের সকল শক্তি স্তিমিত প্রতিপন্ন হয়।

বুদ্ধিবৃত্তির রব্বানি অনুশীলন :
বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলনের ফল এই হয়েছিল যে, তাঁর এই ক্ষমতা পূর্ণ ও প্রাপ্তি এবং চূড়ান্ত সত্যে পৌঁছার পূর্বক্ষণ পর্যন্ত কোথাও স্থিতিলাভ করতে পারে নাই । ফলে হজরত মুহাম্মদ (স)এর রব্বানি চিন্তার সম্মুখে যত প্রকারের আপাত সত্য এসেছে এবং এমনকি, চরম পর্যায়ের সত্য রূপেও প্রতীয়মান হয়েছে, তার, সকলকেই সত্যের ভাণ ত্যাগ করে পথ ছেড়ে দিতে হয়েছে এবং অবশেষে চূড়ান্ত সত্যকে তার আবৃতস্বরূপ উন্মুক্ত করতে হয়েছে— পর্দার পর পর্দা দিয়ে যা ছিল আবৃত।
অন্তঃকরণের রব্বানি সম্প্রসারণ :
হৃদয়ের এই বিস্তৃতি, যা সম্ভব হয়েছিল এবং যা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল— সব কিছুর জন্যই এটি তাঁর হৃদয়কে প্রশস্ত করেছিল এবং সকলের জন্যই এটি মুহাম্মদি প্রেমের স্নেহপূর্ণ কোল উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। তারপর, তাঁর স্নেহসিক্ত কোলকে এমনভাবে প্রসারিত করে দেওয়া হয়েছিল যে, যাঁর ইচ্ছা সে-ই সে কোলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারত। এবং তাতে দেহ কিংবা আত্মা, মণিমুক্তা কিংবা কাঁচ, ইহলৌকিক বা পারলৌকিক, আপনজন কিংবা পর, বন্ধু অথবা দুশমন— যেকোনো জনকেই একমাত্র সন্তানের মতোই ম্নেহে এবং দুগ্ধপোষ্য শিশুর মতোই প্রতিপালন করা যেত। শুধু তা-ই নয়, বরং যদি কেউ এই কোলে না আসত তার জন্যও এই মমতার কোল সবসময় উন্মুক্তই থাকত। এমনকি, হৃদয়ের এই উদারতা তাঁর অপরকে বশ করার শক্তি এবং প্রকৃতি-অনুসন্ধিৎসাকেও সাহায্য করেছে। এমনিভাবেই, সমগ্র বিশ্বের জন্য পরম সত্তার সাথে মুহাম্মদি সত্তাও স্বীয় কল্যাণীশক্তি প্রয়োগ করতে থাকে।

প্রভাব বিস্তারের রব্বানি শক্তি :
এই শক্তি তাঁর কর্মস্পৃহাকে প্রখর এবং সাহসকে জয়যুক্ত করেছিল। মুহাম্মদ (স)এর প্রকৃতি যখন উপলব্ধি করতে পারল যে, তাঁর প্রত্যেক কর্মেরই এবং প্রতিটি পদক্ষেপেরই প্রভাব বিদ্যমান এবং প্রতি স্থানেই সেগুলির প্রভাব রয়েছে, তখন স্বভাবতই তাঁর প্রকৃতির সাহসটি আল্লাহ্‌র হিম্মতের প্রতিবিম্বে পরিণত হয় এবং তাঁর কর্মস্পৃহাও রূপান্তরিত হয় গ্রহ-নক্ষত্রের গতিশীলতায়। কেবল তা-ই নয়, বরং গ্রহ-উপগ্রহ যেমন একস্থানে এক মুহূর্তও অবস্থান করতে পারে না, পৃথিবী যেমন এক
সেকেন্ডও আবর্তন থেকে বিরত থাকতে পারে না— দিবারাত্রি কেবল আবর্তন আর বিবর্তনে ঘূর্ণায়মান ও গতিশীল রয়েছে, তেমনই মুহাম্মদ (স)এর প্রকৃতিও বিরামহীন কর্মে আত্মনিয়োগ করেছিল— যা মৃত্যুর পূর্বক্ষণ তথা শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত একট মুহূর্তের জন্য কখনো বিশ্রাম গ্রহণ করে নাই। বলা-বাহুল্য, হজরত মুহাম্মদ (স) সমগ্র জীবনের মধ্যে আরাম কাকে বলে কখনো তা জানতে পারেন নাই । এমনিভাবে আরও বহু ব্যাপারে তাঁর এই প্রভাব-শক্তি সাহায্য করেছে।

রব্বানি জিগীষা :
প্রভাব-বিস্তারে রব্বানি শক্তি যে উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগ্রত করে রব্বানি জিগীষা তাকে আরও বেগবান ও তীব্রতর করে তোলে। অনন্য প্রভাব-বিস্তারের রব্বানি শক্তি কর্মস্পৃহা ও কর্মোদ্দীপনাকে বিকশিত করে, তাতে প্রাথমিক পর্যায়ে গতিচাঞ্চল্য এনে দেয়; রব্বানি জিগীষা তাকে পরিণত করে  সাহায্যকারী শক্তিতে।

রব্বানি প্রভাবজাত প্রতিক্রিয়া :
প্রতিক্রিয়া এমন একটি অবস্থা, যা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কোনো প্রভাবশালী অবস্থার প্রভাবে সৃষ্টি হয়। এই অবস্থাটিও তাঁর সংকল্প ও কর্মকে অনেকখানি বেগবান করেছে এবং তাতে যথেষ্ট শক্তি জুগিয়েছে। আর, যেহেতু বিশ্বের সমগ্র অবস্থায় সাড়া দেবার যোগ্যতা হজরত মুহাম্মদ (স)এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল সেজন্য এই অবস্থাটি তাঁকে কর্মনিরত হওয়ার ব্যাপারে বিপুল সাহায্য করেছে।

[ বিপ্লবী নবীর পূর্ব প্রকাশিত অংশ সমূহঃ
কিস্তি-০১ ।। কিস্তি-০২ ।। কিস্তি-০৩ ।। কিস্তি-০৪ ।। কিস্তি-০৫ ।। কিস্তি-০৬ ।। কিস্তি-০৭ ।।  কিস্তি-০৮ ।। কিস্তি-০৯ ।। কিস্তি-১০ ।। কিস্তি-১১ ।। কিস্তি-১২ ।। কিস্তি-১৩ ]

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It