শিশুর মানসিক বিকাশে প্রয়োজন বয়স অনুপাতে খেলনা এবং ব্যায়াম

শিশুর মানসিক বিকাশে প্রয়োজন বয়স অনুপাতে খেলনা এবং ব্যায়াম

child helth, child psucology

আমি খুব ভালো করে জানি বাংলাদেশে শিশুদের সুযোগ সুবিধা কেমন।তাদের জন্য কর্তব্য আর অধিকার নিয়ে ভাবনা কোথায় কতটুকু পরিষ্কার। আর তাই বাংলাদেশের কোনো কিছু আমাকে চিন্তিত করলেও অবাক বা অসম্ভব মনে হয় না। তেমন একটা ব্যাপার মোবাইল না দিয়ে কি দিয়ে বাচ্চাদের সময় সুন্দর হয়ে উঠবে সে বিষয়ে সঠিক সচেতন হবার আয়োজন কম বুঝতে পারা।

মানে আমি বুঝতে পারলাম অনেকেই বলতে চাচ্ছেন মোবাইল না দিয়ে কি দিবো। মোবাইল না দিয়ে শিশুকে বয়স অনুযায়ী খেলনা এবং ব‌ই দিবেন। আজকে সেই সব তথ্য দিয়ে আমার লেখা সমৃদ্ধ করছি।

শিশুর বয়স আটাশ দিন হলে সে নতুন বিকাশ চায়। মানে সে যে দুনিয়ায় এসেছে এতদিন ধরে সে সেটাকে বুঝতে শিখেছে। এখানে তার লেপ কম্বল, মা বাবা,ভাই বোন ,জামা কাপড় এসব সে আন্দাজ পেয়েছে। এর মধ্যে যারা তার হাত পা সোজা করে দিয়েছেন অর্থাৎ তার শরীর সম্পর্কে তাকে জানান দিয়েছেন। তাকে বুঝতে দিয়েছেন তুমি এখন পেটে না। তোমার পা হাত এখন সোজা করার মত জায়গা আছে। তারা ভালো করেছেন। তারা প্রথম ব্যায়াম করে ফেলেছেন। আপনাদের কে ধন্যবাদ।

এই ধন্যবাদ খুব কম মা বাবা নিতে পেরেছেন। কারণ সবার ধারণা হাত পা সোজা করে দিলে বাচ্চা ব্যাথা পাবে। তাই সেটা করা হয় না। এ ভাবে আমরা বাচ্চাদের জীবনের সিদ্ধান্ত ভুলভাবে নেই।

আঠাশ দিন পর ( ব্যাতিক্রম থাকবে। চিকিৎসকের সাথে কথা বলা ভালো) বা শিশুর শরীরের বেড়ে ওঠা লক্ষ্য করে চিকিৎসকের অনুমতিক্রমে ব্যায়াম শুরু করা ভালো।

ঊনত্রিশ দিন থেকে দুই মাস সময়ের মধ্যে শিশুর ঘুমের একটা ভালো নিয়ম স্হায়ী করে নিতে হবে। ফলে সে কখন খাবে সেটাও নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। বাকি রইল কখন সে অবসর থাকে। দুই মাসের শিশু জেগে থাকলে নিজেই কিছু নড়াচড়া করে। মানে সে খেলা করে। এই সময়ে মা বা একজন বড় মানুষ তার সময়কে সুন্দর করতে কথা বলতে পারে। কথা বলার সময় চোখে চোখ রাখতে হবে। শিশু সব কথায় হোয়ো,বুয়ে,গ্যে এ বললে আমিও বার বার বলতে পারি হ্যাঁ। সব কথার জবাবে বলব আচ্ছা। ঠিক আছে। ঠিক বলেছ। হাসি মুখে থাকবো। এই বয়সের খেলা “মেরী গো রাউন্ড”। এই বয়সের একটা খেলনা আমি তৈরী করতে পরিকল্পনা করছি। তৈরী হলে জানাবো ইনশাআল্লাহ।

বয়স ছয় সপ্তাহ হলে সে উপুড় হতে পারে। তাকে কিছু সময় উপুড় করে রাখলে ঘাড় শক্ত হবে। এখন সে একদম নিয়মিত ব্যায়াম পায়। ফলে তার ঘুম ভালো হয়। ঘুম আর খাওয়া ভালো হলে শিশু খোশ মেজাজে থাকে।

তিন/ চার মাস বয়সে তাকে ঝুনঝুনি, কাপড়ের ব‌ই, নরম পুতুল দেয়া যায়। উপুড় করে দিলে সে এগুলো একটু চটকিয়ে দেখে।আমি দিতে পারি বিচির বালিশ। যা তার হাতের বিকাশে অনন্য।

পাঁচ মাস বয়সে সে মোবাইল দেখে অভ্যাস করে ফেলতে পারে কারণ সে মোবাইল দিয়ে মা বাবার কথা বলাটা খেয়াল করেছে। এখন এর জন্য একমাত্র পরামর্শ মোবাইল ক্ষতিকর এটা জেনে সতর্ক থাকাটুকু মনে রাখলেই হবে। কারণ এখন সে তার ব্যায়ামগুলো খুব উপভোগ করে। ব্যায়াম হলে সে খলবল করে হাসে। খেলনা এখন থেকে দু দিন চারদিন পর পর বদল করে দিলে ভালো। এখন তার সব খেতে ভালো লাগে। এটা তার অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করার চেষ্টা।

ছয় মাসে সে নিজেই উল্টে যেতে পারে। এখন তাকে একটা কৌটাতে বোতাম রেখে মুখ শক্ত করে বন্ধ করে হাতের কাছে দেয়া যায়। বোর্ড কাগজে তৈরি ব‌ই এখন সে ধরতে চেষ্টা করে। তাকে ব‌ই থেকে ছবি পরিচয় করে দিতে হবে। ছবিগুলো ভালো ,নরম, আদর এভাবে যেটা যেমন তেমন করে বলতে হবে। বলার ভাষা এবং কন্ঠ কৃত্রিমতা ছাড়া হতে হবে।

বয়স আটমাস হলে সে ঘোড়া হতে পারে। আর একটু করে দুলে। সামনে পিছনে যায় না। কিন্তু আলো ঝরা আনন্দের হাসি দেয়।তার কৃতিত্ব থেকে সে অবশ্যই এখন প্রশংসা আর ভালোবাসা পেতে পারে। পায়ে একটা বেলুন সুতায় বেঁধে দিলে সে খেলতে পারবে। বেলুনের ভিতরে দুটা ছোট কিছু দেয়া যায় যা হাল্কা শব্দ করবে।

দশমাসে সে হামাগুড়ি দেয়। খেলনা হবে: বল, গাড়ি

যে খেলনা এতদিন ছিল সব থাকবে। দশম মাসে সে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে এটা ব্যায়ামের সুফল। এখন সে একটা কিছু পেলে টেবিলে বা চেয়ারে মেরে শব্দ করতে পারে।

এক বছর বয়সে সে হাঁটতে পারবে। যদি এতদিন ব্যায়াম হয়ে থাকে । ভালো করে হাঁটতে শিখলে তাকে ঠেলা গাড়ি দেয়া যায়। দেড় বছর বয়সে বসে পা দিয়ে চালানো রোলার। এখনো এটা সে একা পারবে না। সাহায্য লাগবে।

বয়স তিন বছর হ‌ওয়া পর্যন্ত দুপুরে এক ঘন্টা ঘুমানো আর রাতে আটটা সাড়ে আটটায় ঘুমিয়ে সকালে সাড়ে ছয়টায় ওঠা তার অভ্যাস হয়ে যাবে। শিশুর খেলনা তেমন হবে যা সে করতে পারে। এবং প্রতি ছয় মাসে তাকে পরবর্তী ধাপের খেলনা দিয়ে দেখতে হবে সে কখন সেদিকে আগ্রহী হয়।

বয়স তিন থেকে পাঁচ বছরের বাচ্চাদের সাইকেল, জাম্পিং গদি, ঘোড়া, রোলার,ব‌ই, পুতুল, হাড়িপাতিল, মোমরং, দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে ঘুরে বেড়ানো কোনো খেলনা,লাঠি দিয়ে ঠেলা খেলনা,সাবানের পানির বল, কিচেন টিস্যুর রোল দিয়ে তুলা ফু দিয়ে সরানো, কাপড়ের ক্লিপ দিয়ে খেলা ( বর্ণনা করা হলো না) বোর্ড দিয়ে গোল করে দশটা কার্ড বানিয়ে (মিস্টির বাক্স দিয়ে বানানো যায়) মেঝেতে ছিটিয়ে দিয়ে তার উপর হাঁটতে বলা। এই খেলাগুলো উপকারী।

বাবা মা কর্মজীবী এমন ছোট পরিবারের বাচ্চাদের জন্য আছে ডে কেয়ার সেবা। মোবাইল মুক্ত রাখার জন্য শিশুর ডে কেয়ার এ যাওয়া বেশী ভালো। সেখানে সে সঙ্গী চেনে। শেয়ার করতে শিখে, দায়িত্ব পালন করে।ডে কেয়ার এ সারাদিন আনন্দ করার পর মা বাবা অফিস থেকে ফিরার সময় তাকে আনবে এই বিশ্বাস তার জন্য আনন্দময় হয়।

পাঁচ বছর হবার পর তাকে একটা টি ভি কার্টুন দিনে একবার দেখতে দেয়া যায়।

যা বলেছি নিজের প্র্যাকটিস থেকে বলেছি।যার অসুবিধা হবে তিনি না করতেই পারেন। মানুষ মাত্রই স্বাধীন চিন্তার অধিকারী। ভিন্ন মত মানেই ভিন্ন লক্ষ্য না। শিশুর জন্য যা কিছু ভালো সেটাই আমাদের লক্ষ্য। শিশু থেকেই আমাদের সতর্ক যত্ন থাকলে মানবসম্পদ তৈরী হবে। ধন্যবাদ।

মনিরা ইসলাম
প্রবাসী লেখিকা
প্রাক্তন ছাত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাক্তন শিক্ষক ক্যম্ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাংলাদেশ
প্রাক্তন শরীরচর্চা প্রশিক্ষক
শিশু প্রতিপালন বিশেষজ্ঞ (প্যাডাগগ)

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It