সৃষ্টিকর্তার তালাশ

সৃষ্টিকর্তার তালাশ

সৃষ্টিকর্তার তালাশ
সৃষ্টিকর্তার তালাশ

(বিপ্লবী নবী১৭)

মূল : আল্লামা আবদুল কাদির আজাদ সুবহানি
তর্জমা : মওলবি আশরাফ

মাত্র সাত বৎসর বয়ঃক্রমকালেই তাঁর মনে মূর্তি মূর্তিপূজার প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি হয় বিশাল মরুভূমি, সীমাহীন প্রান্তর, সুউচ্চ পর্বতমালা, বাতাস, বৃষ্টি, পানি, অগ্নি, বিদ্যুৎ, নক্ষত্ররাজি সবই তাঁর দৃষ্টির সামনে ছিল, কিন্তু এসবের মধ্যে এমন কোনো আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল না যা সেই মহান চিন্তাবিদের মনে সামান্যতম সময়ের জন্যও ধারণা জাগাতে পারে যে, মানুষ জগতের সৃষ্টিকর্তা হওয়ার নামমাত্র যোগ্যতাও এগুলির কোনোটার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে

জীবজন্তুর প্রতি লক্ষ্য করে তিনি দেখতে পেলেন যে, এরা শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও মানবশিশু প্রজননে অক্ষম; এমনকি, এরা একটি মাছির প্রজনন ঘাসের একটি দানা উৎপাদনেও সক্ষম নয় তাছাড়া বহু শক্তিশালী জীবজানোয়ারও মানুষের বাহন হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকেমানুষের হাতে যন্ত্রণা ভোগ করে এবং মানুষের হাতেই প্রতিপালিত হয় অবশ্য, এমন হিংস্র জানোয়ারও রয়েছে মানুষকে যারা আহত করতে বা মেরে ফেলতে সক্ষম কিন্তু সেগুলিও মানুষের হাতে মারা পড়ে সুতরাং এরাও যে মানুষের চেয়ে বড় নয় তা প্রমাণিত হয় আর, তাছাড়া হত্যা করা আর সৃষ্টি করা এক কথা নয় হত্যা সৃষ্টি এই দুইটির মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে অনেক সময় মানুষ আত্মহত্যাও তো করে থাকে

পালিত পশু অনেক উপকারে আসে, সন্দেহ নাই

কিন্তু উপকার করা স্বতন্ত্র কথা, আর সৃষ্টি করা পৃথক ব্যাপার তাছাড়া, পালিত জানোয়ার মানুষের যতখানি উপকারে আসে মানুষও ওর ততখানি উপকার করে থাকে পালিত পশু মানুষকে দুগ্ধ, মাংস দান করে, বহন করে অন্যত্র নিয়ে যায়, এবং গোবর দিয়ে ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে; অর্থাৎ মানুষকে খাদ্যবস্তু দান করে এবং খাদ্যবস্ত সংগ্রহে সাহায্য করে তেমনি মানুষও ওদের খাদ্য দিয়ে থাকে এবং খাদ্য সংগ্রহে সাহায্য করে মানে হিসাবে সমান সমান

জীবজানোয়ারের চেয়ে গাছপালায় অধিক মূল্যবান কিছু নাই তাছাড়া এগুলিও মানুষেরই কাজে ব্যবহৃত হয় মরুভূমি এবং পর্বতমালার ব্যাপারেও তা ! এছাড়া, এর অধিক আর কীইবা সবের কাছে প্রত্যাশা করা যায়? এগুলির দ্বারা মানুষের কোনো কোনো কাজে সাহায্য হয়অথবা মানুষের সামনে এরা নিজেদের বিচিত্র রূপ তুলে ধরে কিন্তু সৃষ্টির সাথে এধরনের সাহায্যের সম্পর্ক কোথায়?

অন্তরীক্ষের ব্যাপ্তি অপরিসীম এতে কোনো সন্দেহ কিন্তু এটি সবসময় একইভাবে নিস্তব্ধ নিস্পন্দ তাছাড়া, বাক্স যেমন সাজসরঞ্জামকে নিজের অভ্যন্তরে স্থান দেয় প্রান্তরও তেমনই জগতের বিভিন্ন অংশকে তার মাঝে স্থান দান করে; এছাড়া আর কী কাজেইবা তা আসতে পারে! মেঘমালা, পানি, অগ্নি প্রভৃতি মানুষের জন্য নিশ্চয়ই উপকারী, কিন্তু এগুলি মানুষের সৃষ্টিকর্তা কখনো নয়; আর, এগুলিও অনেক ক্ষেত্রে মানুষেরই তাবেদারবজ্র ভয়াবহ জিনিস; কখনো কখনো তা মানুষকে মেরেও ফেলে কিন্তু কোনো কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম নয় সুতরাং তুলনা করলে ওটা সাধারণ হিংস্র জানোয়ারের মতোই হ্যাঁ, কখনো কখনো বজ্র আবার মানুষের উপকারও করে থাকে; যেমন বিদ্যুৎ চমকে অন্ধকার বিদূরিত করে, ফলে, পথিকের জন্য পথ চিনে নেওয়া সহজ হয় কিন্তু মানুষকে প্রতিপালনের ক্ষমতা ওর নাই| নক্ষত্র যে উজ্জ্বল, সুন্দর মনোহারী, তা ঠিক, কিন্তু তা আদৌ সৃষ্টিক্ষমতা রাখে না কোনো মৃতকেই তা জীবিত করতে পারবে না, সৃষ্টি করা তো দূরের কথা! নক্ষত্র আলোক প্রদর্শন করে ঠিক, কিন্তু তাও এক নির্দিষ্ট প্রকৃতিগত স্বভাবেরই পরিস্ফুটন ছাড়া আর কিছুই নয়| এছাড়া নক্ষত্র থেকে আর কিছু আশা করা যার না| সেই আলোক বিতরণেও মাঝে যাঝে মেঘমালা বাধার সৃষ্টি করে; কেননা অনেক সময়ে বিরাট আকার মেঘখণ্ড তাকে ঢেকে ফেলে আলোক প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘটিয়ে দেয় এছাড়া সৃষ্টির সাথে আলোক বিকিরণের সম্পর্কই বা কোথায়? প্রতিপালনের সাথেও তো আলোকবিকিরণের কোনো মিল নাই | নক্ষত্রকে রোজই আকাশমণ্ডলে প্রোজ্জ্বল হয়ে ফুটতে দেখা যায়, কিন্তু তাতে তো কোনো মানুষ সৃষ্টি হয় না; মানুষ তো দূরের কথা, তার আলোকচ্ছটায় একটি ঘাসের বীজও তে অংকুরিত হয় না! অংকুরিত হওয়ার জন্য মাটি, পানি বাতাস এই তিনের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়

সৃষ্টিকে দেখিয়ে সৃষ্টিশক্তির স্বরূপ উদঘাটন সম্ভব নয় কারণে, তিনি এক যুগ ধরে সৃষ্টিকে পর্যবেক্ষণ করলেও এই সময়ের মধ্যে কখনো সৃষ্টিশক্তির আভাস পর্যন্ত পান নাই | যে তথ্যই তাঁর সম্মুখে এসে স্থিতিলাভ করেছে এবং কিছুটা লীলা বহন করে এনেছে, তা ছিল একটি গুণ বা স্বভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং প্রদর্শনলীলা মাত্র, এছাড়া আর কিছু নয় কারণ, কোনো একটি গুণ বা স্বভাবে সৃষ্টিশক্তির সেই সামগ্রিক তজল্লি কোথায় যা একাই মানবসৃষ্টি এবং জগৎসৃষ্টির উপকরণ হতে পারে? মানুষ জগৎসৃষ্টির কাজটি কোনো একটি গুণ অবস্থার আয়ত্তাধীন নয় মোটেই অগ্নিতে উত্তাপ রয়েছে এবং তাপদানের ক্ষমতাও তাতে বিদ্যমান কিন্তু কেবলমাত্র উত্তাপের দ্বারাই তো জীবনের উৎপত্তি হওয়া সম্ভব নয়| জীবন শৈত্য এবং স্নিগ্ধতারও মুখাপেক্ষী পানিতে শৈত্য এবং স্নিগ্ধতার স্বভাব বিদ্যমানকিন্তু তাতে উত্তাপ কোথায়? অথচ জীবন উত্তাপও চায়

এমনিভাবে, সৃষ্টিজগতের অংশসমূহে যে সমস্ত স্বতন্ত্র স্বভাব বিতরিত রয়েছে তা স্বতন্ত্রভাবে প্রাণসৃষ্টির ক্ষমতা হতে বঞ্চিত সুতরাং সকল স্বতন্ত্র পৃথক জাগতিক সত্তার স্বভাবগুলি যেসত্তার মাঝে সামগ্রিকভাবে একীভূত বিমূর্ত, উপরোক্ত প্রকার পর্যবেক্ষণ দ্বারা সেই সৃষ্টিশক্তির স্বরূপ কী করে উদঘাটিত হতে পারে? কিছুতেই তা সম্ভব নয় এজন্য, যেসকল লোকের দৃষ্টি কেবল জাগতিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ বস্তুপূজা ছাড়া তাদের পক্ষে আর কিছুরই সন্ধান লাভ সম্ভব হয় নাইসে বস্তুপূজা সামগ্রিকভাবে হোক আর পৃথক পৃথকভাবেই হোক এই ভাবেই সৃষ্টি হয়েছে প্রস্তরপূজক, বৃক্ষপূজক, জীবজন্তপূজক, মানুষপূজক, মেঘপূজক, অগ্নিপূজক, নক্ষত্র অন্যান্য জীবজন্ত বস্তুপূজক দলের|

এইভাবে, কেবলমাত্র মানুষের বাহ্য পর্যবেক্ষণ দ্বারাও সৃষ্টিশক্তির পরিচয় লাভ অসম্ভব; কারণ, মানুষের বাহ্য দিকটিতেও এমন কোনো কিছু নাই যার মধ্যে সৃষ্টিশক্তির পরিপূর্ণ অভিব্যক্তি ঘটেছে

এজন্য কেবলমাত্র মানুষের বাতেন বা অভ্যন্তরীণ দিকটির ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে এখানেও যদি এর সন্ধান পাওয়া না যায় তাহলে এটি আর কোথাও নাই এবং এটি এমন একটি রহস্য যা কোনোক্রমেই বোধগম্য হবার নয় এব্যাপারে ধর্ম পথপ্রদর্শক হতে পারবে না কেন ?— এই জন্য পারবে না যে, ধর্ম কেবল বার্তাই দিতে পারেদেখাতে পারে না কিন্তু সৃষ্টিশক্তির পরিচয় লাভের জন্য দরকার পর্যবেক্ষণের উদ্যম, পর্যবেক্ষণের নেশা| ধর্মের কর্মসূচী একটি বার্তা, একটি নির্দেশ ছাড়া আর কিছুই নয় ধর্মীয় গ্রন্থও একটি বার্তা এবং একটি নির্দেশই বটে ধর্মের পণ্ডিতও একটি নিদর্শন মাত্রসুতরাং সারসত্ত্বার নিদর্শন তিনি কী করে দেখাবেন? সারসত্ত্বা বা হকিকতের অনুসন্ধানে নির্গত ব্যক্তিকেই তো ধর্মের দরবেশ বলে মেনে নেওয়া হয় কিন্তু তো অপরিহার্য নয় যে, তিনি সারসত্ত্বার সাথে পরিচিত হয়েছেন! শুধু তা , কেউ দরবেশিকোর্তা পরিধান করলেও তো তাকে দরবেশ বলেই গণ্য করা হয়ে থাকেতিনি হকিকত বা তত্ত্বঅনুসিন্ধুৎসু মনের অধিকারী হোন বা না হোন সুতরাং ফেরেশতার মুখাপেক্ষী হওয়ার আগেই যার অনুসন্ধিৎসা বহুদূর অগ্রসর হয়ে গেছে, এমন কোন দরবেশ আছেন যিনি তাকে পথ দেখাবেন? অতএব, মানুষের তাঁর নিজের অভ্যন্তরীণ দিকই অবশেষে তাঁর অধ্যয়নপর্যবেক্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয় সৃষ্টিসম্পর্কে চিন্তাভাবনার সাক্ষ্য হিসাবে কি যথেষ্ট নয় যা প্রত্যক্ষভাবে হজরত মুহাম্মদ ()কে সৃষ্টির তথা জগতের ভাবুক হিসাবেও প্রমাণ করছে?

একথা ঠিক যে, সকল সাক্ষ্য নিছক জগৎসম্পর্কে চিন্তাভাবনার আনুষাঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবেই পরিগণিত এগুলি জগৎ সম্পর্কে চিন্তাভাবনার মূল সাক্ষ্য নয় কিন্তু একথাও ভুললে চলবে না যে, এসব সাক্ষ্য সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তাভাবনার প্রাথমিক পর্যায়ের তাছাড়া আরও প্রমাণ রয়েছেতবে সেগুলি সৃষ্টিশক্তির সন্ধানলাভের পরবর্তীকালের ব্যাপার সামনে নির্দিষ্ট স্থানে সেগুলির উল্লেখও করা হবে এক্ষণে, আমাদের সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে চিন্তাভাবনার প্রমাণাদি বিষয়ে আলোচনা করার দরকার এবং তা হতে নির্গত রত্ন সম্পর্কে অবহিত হওয়া উচিত

তবে, হ্যাঁ, সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা শুরুর পূর্বে আরও একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার| জগৎসম্পর্কে চিন্তাভাবনার দ্বারা কি কেবল নেতিবাচক ফলই উৎপন্ন হয়েছে, না এর দ্বারা ইতিবাচক ফলও কিছু লাভ হয়েছে সেই বিষয় জানা কর্তব্য অর্থাৎ সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুতেই স্রষ্টা হওয়ার ক্ষমতা নাই এবং কেবলমাত্র সৃষ্টিজগতের এই গোলকধাঁধার মাধ্যমে স্রষ্টার সান্নিধ্যে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়এই নেতিবাচক সূক্ষ্ম প্রশ্নে পৌঁছেই কি তাঁর চিন্তাশক্তির গতি থেমে গেছিল? নিশ্চয় না, বরং তাঁর হৃদয়ের অস্থির জিজ্ঞসা জগৎ সম্পর্কে তাঁর চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফসলও ফলিয়েছিল সেই ফসলও এমন পরিপূর্ণতা নিয়ে উৎপন্ন হয়েছিল যা জগৎসম্পর্কে সমস্ত আস্তিক চিন্তাবিদের চিন্তার উৎসধারা বলে প্রমাণিত হয়েছে উক্ত চিন্তার ফল হিসাবে যা তিনি পেয়েছিলেন নিচে তার একটি নমুনা তালিকা দেওয়া হলো এই তালিকাটি প্রকৃতপক্ষে পূর্বে প্রদত্ত অনুরূপ একটি তালিকারই সংযোজন হিসাবে পরিগণিত হতে পারে :

() সৃষ্টির সকল বস্তুতেই প্রাণ রয়েছেতবে অধিকাংশের প্রাণই অস্পষ্ট
(২) সৃষ্টির প্রত্যেক বস্তুই মহিমা কীর্তন করে থাকে, তবে তা এমন আওয়াজে যা মানুষের সাধারণ বোধশক্তির আওতার বাইরে।
(৩) সৃষ্টির প্রত্যেক বস্তুই পরিবর্তনশীল এবং চূড়ান্ত স্তরে না পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবর্তনশীল।
(৪) সৃষ্টির প্রত্যেক বস্তুই একটি নির্দিষ্ট ফিতরত ও স্বভাবসম্পন্ন এবং সেই ফিতরত ও স্বভাবের চাহিদানুযায়ী কর্ম করতে বাধ্য।
(৫) সৃষ্টি সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্ত, বিক্ষিপ্ত এবং অবিন্যস্ত নয়; সৃষ্টি একটি শৃঙ্খলস্বরূপ— যার প্রতিটি কড়া পরস্পর সংযুক্ত, বিচ্ছিন্ন নয়।
(৬) সৃষ্টির কোনো অংশই অকারণ নয় এবং কোনো ঘটনাই আকস্মিক নয়; বরং প্রতিটি অংশ এবং প্রতিটি ঘটনাই কারণসিদ্ধ এবং কারণ-পরম্পরায় উদ্ভূত।
(৭) সৃষ্টির প্রতিটি অংশেরই একটি ‘নিকট-হেতু’ ছাড়াও অপর একটি ‘পরম-হেতুও’ রয়েছে।
(৮) সামগ্রিকভাবে সৃষ্টি পরম-হেতুর সাথেই সম্পৃক্ত।
(৯) সৃষ্টি একটি ‘রবুবিয়াত’ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন, যার পৃষ্ঠপোষকতাতেই সামগ্রিকভাবে যেমন তেমনই আংশিকভাবেও সৃষ্টি প্রতিপালিত হচ্ছে— অর্থাৎ, রবুবিয়াতের পৃষ্ঠপোষকতার দ্বারাই সৃষ্টি এবং সৃষ্টির প্রতিটি অংশ স্বতন্ত্রভাবেও প্রতিপালিত হচ্ছে।
(১০) যাকে কেন্দ্র করে সমগ্রভাবে সৃষ্টি আবর্তন করছে তা-ই সেই পরম-হেতু। পৃথিবী যেমন সূর্যের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরছে— অথবা বাহ্যদৃষ্টিতে সূর্য যেমন পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে তেমনই সমগ্র সৃষ্টি আবর্তন করছে এই পরম-হেতুকে।
(১১) পরম-হেতু সৃষ্টির কেন্দ্রে এমন প্রতাপ ও পরাক্রমের সঙ্গে অধিষ্ঠিত আছেন যেমন অধিষ্ঠিত থাকেন সার্বভৌম ক্ষমতার অধিপতি কোনো নৃপতি; পার্থক্য শুধু এই যে, পরম-হেতু রবুবিয়াতের জন্য অধিষ্ঠিত।
(১২) সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুই অপর বস্তুকে আকর্ষণ করছে।
(১৩) সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুই যুগপৎ পরিবর্তনশীল ও উন্নতিকামী।
(১৪) সৃষ্টির উন্নতিকামিতা মিলনমুখী, মিলনবিমুখ নয়; অর্থাৎ সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুর উন্নতিরই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে, সেই লক্ষ্য হচ্ছে পরম-হেতুর সাথে মিলন|

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It