বিপ্লবী নবী-০৫

বিপ্লবী নবী-০৫

biplobi nibi allama azad subhani

(পঞ্চম কিস্তি)

মূল : আল্লামা আবদুল কাদির আজাদ সুবহানি
তর্জমা : মওলবি আশরাফ

স্বভাব বৈশিষ্ট্য 

হজরত মুহাম্মদ (স) যেমন অত্যন্ত নীরবতাপ্রিয়, অত্যন্ত স্বল্প ও সার-ভাষী ছিলেন তেমনই তিনি ছিলেন অত্যন্ত চিন্তাশীল ও ব্যথাদীর্ণ, ধ্যানমগ্ন, গম্ভীর ও সদা সচেতন।তিনি এত নীরব থাকতেন যে, অপরিচিত ব্যক্তি তাঁকে আজন্ম বােবা বলে ভুল করে বসত; অতিরিক্ত একটি কথাও বলতেন না। যা বলতেন, তা-ও ঠিক প্রয়ােজনমাফিক। গল্পচ্ছলেই গল্প ও অযাচিত কথা বলে জবানকে অপবিত্র করা ছিল তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। যদি কখনাে কোনো অতিভাষী তাঁর নিকট আসত তা হলে সে তার অতিভাষণের অভ্যাসই ভুলে যেত এবং হজরত মুহাম্মদের (স) নীরবতার প্রভাবে পড়ে প্রয়ােজনীয় কথা বলাতেই সন্তষ্ট থাকত। দুর্ভাগ্যবশত যদি কেউ অতিরিক্ত কথা বলতেই থাকত তবে তিনি তা নীরবে শুনে যেতেন। কারণ, না শুনলে হয়তো-বা সে দুঃখিত হবে বা নিজেকে অপমানিত মনে করে বসবে। ‘সহ্য করিব, তবু অন্যের অন্তর দীর্ণ করিব না’—এই নীতি পুরাপুরি অনুসরণের জন্যই যে তিনি এই কাজ করতেন, এতে কোনাে সন্দেহ নাই।

তিনি এত স্বল্পভাষী ছিলেন যে, দিন ও রাতের মধ্যে যা কিছু বলতেন তার হিসাব রাখা অসম্ভব ছিল না। অবশ্য, এজন্য এরূপ ভুল করবার কোনােই কারণ নাই যে, এর ফলে কাজ-কর্ম কম হয়ে থাকবে এবংনির্জনতাপ্রিয়তা প্রাধান্য লাভ করার ফলেই হয়তো তাঁর স্বল্প-ভাষণের অভ্যাস হয়ে থাকবে। এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্তিপূর্ণ।

প্রকৃতপক্ষে, আল্লার রসুলকে এত কাজ করতে হতো যা কখনাে কারাে করতে হয় নাই। তাঁর দৈনন্দিন কার্যতালিকা দেখলে যে-কেউ চমকে উঠবে এবং বলতে বাধ্য হবে যে, দুনিয়ায় আর কারাে এত কাজ করতে হয়নি। এমন ব্যস্ততায় নির্জনতাপ্রিয়তার স্থানই-বা কোথায়? প্রকৃতপক্ষে, তিনি নির্জনতাপ্রিয় নয়, ছিলেন সত্যিকারের সংসর্গ-প্রিয়। কিছুদিনের জন্য তাঁকে অবশ্য নির্জনতা অবলম্বন করতে হয়েছিল, কিন্তু তা-ও ছিল সাময়িক এবং মহাজীবনের প্রস্তুতির জন্যই।

নির্জনতা ও মৌনব্রত অবলম্বনকারী সুফি ও খানকাহ -আখড়াপ্রিয় মোল্লা-মওলবিদের কিংবা যােগী ও সন্ন্যাসীদের কার্যকলাপের প্রতি লক্ষ্য করে আল্লার রসুল সম্পর্কে কেউ কেউ উপরােক্ত ধারণা করছেন কি? কিন্তু তাঁর কার্যাবলীর সাথে এঁদেরসম্পর্ক এবং মিল কোথায়? একথা সত্য যে, হজরত মুহাম্মদ (স)এর সামগ্রিক জীবন-বৃক্ষের একটি শাখা সুফিবাদ সংশ্লিষ্ট। কিন্ত বৃক্ষটিকে পর্যবেক্ষণ করিলে প্রতীয়মান হবে যে ওটা সম্পূর্ণ আলাদা এক দুনিয়া। হজরতের সামগ্রিক জীবন নবুওওতেরই পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। কোনাে একটি বিষয়ের বিশেষ দিক তারপূর্ণ চিত্র ফুটিয়ে তুলতে কিছুতেই সক্ষম হবে না। তাছাড়া, আল্লার বিশেষ গুণেও তা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। সুতরাং, সারা সৃষ্টিজগৎ মিলেও তার পূর্ণ চিত্র আঁকতে সক্ষম নয়। তা হলে হজরত মুহাম্মদ (স)এর জীবনের সাথে নির্জনতার আর কিই-বা সম্পর্ক? আর ইহলৌকিক ও পারলৌকিক— উভয় জগতের কর্মেরই যেখানে সমন্বয় ঘটেছিল সেখানে কাজ ‘কম ছিল’ এ প্রশ্ন উঠতেই পারে না। তবু প্রশ্ন থেকে যায় যে, তাহলে তাঁর এই অস্বাভাবিক নীরবতা ও অতি স্বল্পভাষী স্বভাব কী করে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল? এই অবস্থায় তাে বিশেষ করে শিক্ষাদান, উপদেশ-সংক্রান্ত কার্যাবলী অচল হওয়ারই কথা।

কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার যে, কাজ কেবল কথা ও দীর্ঘ বক্তৃতার দ্বারাই হয় না, ইশারা ও সংক্ষিপ্ত একটি বাক্যে দ্বারাও তা সাধিত হতে পারে।অনেক সময় তাে ইশারারও প্রয়ােজন পড়ে না। যেমন, কোনাে ব্যক্তি তাঁর জনসমষ্টি দ্বারা কোনো কাজ করাবার সংকল্প করেছেন। এক্ষেত্রে ইশারাব্যতীতই তিনি উপস্থিত সকলের দ্বারা তা করাতে পারবেন যদি তিনি স্বয়ং সেই কাজটি করতে শুরু করেন। শর্ত এই যে, উপস্থিত জনতাকে ঝুদ্ধিমানও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তা হলে তিনি কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে সকলেই তাতে অংশ নিতে শুরু করবে।

একথা অবশ্য সত্য যে, অল্প কথা, ইশারা দ্বারা ও ইশারা ব্যতীত কাজ করাবার জন্য যেমন গভীর প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের প্রয়ােজন, তেমনই কর্মটিওসকলের মনঃপূত হওয়া দরকার। আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে, হজরত মুহাম্মদ (স) এবং তাঁর কার্যাবলীর মধ্যে এই দুইটি বিষয়ই পুরা মাত্রায়বিদ্যমান ছিল।

তিনি যে কী পর্যায়ের স্বল্পভাষী ছিলেন এখানে তার দুই একটা নমুনা বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রয়ােজন। একদা মদিনার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গােত্র আউস ও খাজরাজের মধ্যে সংঘর্ষের উপক্রম হলো। পূর্বে তাদের মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান থাকলেও ইসলাম পরম্পরকে প্রীতিবন্ধনে আবদ্ধ করতে সক্ষম হয়। কিন্তু হঠাৎ সেই প্রদমিত শত্রুতা মাথা চাড়া দেওয়ায় জাহিলিয়াতের অভ্যাসানুযায়ী খােলা তরবারি নিয়ে উভয় গােত্রের লােক পরস্পর মুখােমখি হয়ে দাঁড়ালো। হজরত মুহাম্মদ (স) একথা জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ ছুটে গিয়ে তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই একটি বাক্য বললেন : ‘আমি তােমাদের মধ্যে থাকতেই তােমরা আবার জাহিলি যুগের আচরণ শুরু করে দিয়েছ?’

তাঁর এই বাক্যটি দীর্ঘ ও জ্বালাময়ী বক্তৃতার চেয়ে বেশি কার্যকরী হলো। উপস্থিত সকলেই তরবারি খাপবদ্ধ করে অনুশোচিত ও অশ্রুসিক্তনয়নে নিজ নিজ অবস্থানে প্রত্যাবর্তন করল।তাঁর কথার এই যাদুকরী প্রভাব সাময়িক ছিল না— ছিল স্থায়ী। তিনি যতদিন এই দুনিয়ায় অবস্থান করে গেছেন ততদিন এই গোত্রগুলির মধ্যে আর কোনো শত্রুতা ও প্রতিন্বন্দ্বিতার ভাব পরিলক্ষিত হয় নাই।তিনি যে কী রকম সংক্ষিপ্ত সারকথা বলতেন তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ তাঁর হাদিসগুলি। যেকোনো একটি হাদিস নিয়েই বিচার করুন না কেন, দেখতেপাবেন যে, হাদিসটি যেমন সংক্ষিপ্ত, তেমনই সাহিত্যের এক নয়া অবদান। আল কুরআন এবং হাদিস ব্যতীত আর কোনাে কিছুই তার সমকক্ষতা দাবি করতে পারবে না।

সংক্ষিপ্ত ও সারকথা বলার আরও একটি দিক রয়েছে। তা হলো, যা-ই বলা হোক না কেন, উত্তমভাবে বলতে হবে ; অর্থাৎ স্পষ্ট, বীর্যপূর্ণ, প্রত্যেকটি শব্দ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ও গুছানাে হওয়া দরকার। হজরত মুহাম্মদ (স)এর মধ্যে এর প্রতিটি গুণ পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল। তিনি যা কিছুই আর যতটুকুই বলতেন, এমনভাবে তা বলতেন যেন অতটুকু কথা বলাই তাঁর সারাজীবনের কাজ। তিনি প্রতিটি শব্দের ওপরই জোর দিয়ে এবং প্রত্যেক বাক্যই কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করে কথা বলতেন। তিনি যা বলছেন, তা যেন পষ্ট শোনা যায়, সকলেই যেন তা উপলব্ধি করতে ও মুখস্ব করে নিতে সক্ষম হয়, অতঃপর যেন তা হৃদয়ে গেঁথে নিয়ে আবার অপরের নিকট পুনরাবৃত্তি করতে পারে এবং শ্রোতা বা অন্য কেউ যেন তার গুরুত্ব লাঘব করতে না পারে এই সকল বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখেই যেন তিনি কথা বলতেন।

হজরত মুহাম্মদ (স) খুবই চিন্তামগ্ন থাকতেন ; বারবার আসমানের প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন, যেন মাথায় তাঁর কিসের এক চিন্তা, তারই চূড়ান্ত রূপদানের জন্য অন্তরকে তিনি প্রসারিত করেছেন সর্বশক্তিমানের দিকে সাহায্যের প্রত্যাশায়।

তাঁর গভীর নীরবতা ও স্বল্পভাষীতার জন্য খানিকটা দায়ী ছিল তাঁর এই চিন্তামগ্নতা। কারণ, চিন্তা যখন সর্বাঙ্গে প্রভাব বিস্তার করে এবং মনমস্তিষ্ক থাকে সমাধান-অন্বেষায় নিমগ্ন তখন স্বভাবতই গাম্ভীর্যপ্রাধান্য লাভ করে এবং বাকশক্তি মৌন হয়ে যায়। এছাড়া, তাঁর এমন ফুরসতই-বা কোথায় ছিল যে অত অধিক কথা বলবেন। অতিরিক্তকথা বলা তাে শূন্য মস্তিষ্ক ও চিন্তাশক্তিহীনতারই পরিচায়ক। সুতরাং,যখন মনমস্তিষ্ক চিন্তাভাবনায় পরিপূর্ণ তখন অতিরিক্ত কথা বলার উৎসাহ কোথা থেকে আসবে?

তিনি এমন ব্যথিতচিত্ত থাকতেন যে, সারা জীবনে কখনাে তাঁকে উচ্চস্বরে হাসতে দেখা যায় নাই। কখনাে কখনাে স্মিত হাসতেন বটে, কিন্তু সে হাসিতেও বিষাদেরই বিদ্যুৎ চমকে উঠত, যেন একথা বলত যে, এই বিদ্যুৎ আনন্দের উচ্ছ্বাস নয়, বিষাদের মেঘমালা হতেই এটি বের হয়েছে।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধ্যানমগ্ন প্রকৃতির। এমনকি, সর্বকনিষ্ঠা স্ত্রী ও সৌন্দর্যের রানি বিছানায় রয়েছেন, বাহ্যত তাকে ভালবাসা ও প্রীতির পরশেও আপ্লুত করিয়া দিচ্ছেন— কিন্ত প্রিয়তমা স্ত্রী নিদ্রার কোলেঢলে পড়ার পরই তিনি ক্ষিপ্রগতিতে উঠে পড়ছেন এবং পবিত্রতা হাসিলের পর নামাজে দাঁড়িয়ে গেছেন। নামাজে দাঁড়িয়েছেন তাে ভুলে গেছেন যে, প্রকৃত মাশুক ও প্রকৃত আরাধ্য ব্যতীত আর কোনো কাম্য ও প্রিয়জন আছেন যিনি বিশ্বের সৌন্দর্য-ভাণ্ডার নিয়ে তাঁর পাশেই পড়ে রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে হজরত আয়শা বর্ণনা করেছেন: আল্লার রসুল যখন তাহাজ্জুদ নামাজে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়ে পড়তেন তখন তিনি এক এক রাকাত এত লম্বা করতেন যে, আমি বারবার জাগ্রত হতাম এবং তাঁর নামাজ শেষ হবার জন্য প্রতীক্ষা করতাম, প্রতীক্ষা করতে করতেই আবার ঘুমিয়ে পড়তাম, কিন্তু তাঁর প্রথম রাকাত শেষ হতো না। তিনি যখন রুকুতে যেতেন, তখন মনে হতো যে, তিনি বুঝি দাঁড়াবার কথা ভুলেই গেছেন ; আবার যখন রুকু থেকে দাঁড়াতেন তখন মনে হতো, বােধহয় সেজদার কথা ভুলে গেছেন।

তিনি এত সজাগ ও হুঁশিয়ার ছিলেন যে, গাছের একটি পাতা ঝরে পড়লেও তিনি তা টের পেতেন। প্রতিবেশীর কোনাে শিশু কেঁদে উঠল, তিনি হয়তাে তার কারণ অনুসন্ধানের জন্য নিজেই বের হয়েপড়লেন। যুদ্ধের সময়ে অন্ধকার রাত্রে হয়তাে অকস্মাৎ বাহির হয়ে গেলেন আর ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে তৎক্ষণাৎ সমস্ত ফৌজের খবর নিয়ে ফিরেআসলেন। কারাে মলিন মুখ দেখলেই তিনি অনুসন্ধান করে তার কারণ জেনে নিতেন ; যদি জানতেন যে, অমুক ব্যক্তি ক্ষুধার্ত রয়েছে,তা হলে তার আহারাদির ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত তিনি স্বস্তি পেতেন না।

আল্লার রসুল কঠোর পরিশ্রমী, পরম ধৈর্যশীল, অত্যন্ত সন্তষ্ট-চিত্ত এবং অত্যন্ত দৃঢ়-সংকল্প ছিলেন। তিনি এতাে পরিশ্রমী ছিলেন যে, সকলে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও তিনি ক্লান্ত হতেন না। প্রতিদিন এত বেশি কাজ করতেন যা অন্যকারও পক্ষে করা মােটেও সম্ভব ছিল না। এমনকি, হয়তাে কয়েকদিন অনবরত উপবাস যাচ্ছে, তারপরেও তিনি গৃহে নিজ দায়িত্ব এবং বাহিরের সকল কাজই সম্পন্ন করেছেন। এই অবস্থাতেও তিনি শিক্ষাদান, গংগঠন, নেতৃত্ব, বিচার, দর্শনপ্রার্থীদের সাক্ষাৎদান এবং লেনদেন— সকল কাজই সুষ্ঠুভাবে করেছেন। এত কিছুর পরেও শেষ রাত্রে আবার দীর্ঘ ইবাদতে এমনভাবে মগ্ন হয়ে পড়েছেন যে, ভাবতেও বিস্ময়বােধ হয়। এমন ধৈর্য ও গাম্ভীর্যের সাথে তিনি এইসব কাজ সমাধা করতেন যে, মুখে তাঁর সামান্য ‘উঁহ’ শব্দও উচ্চারিত হতো না, যেন বুকে তাঁর ব্যথার লেশ মাত্রও নাই।

এরূপ অবস্থার মধ্যেও তাঁর কাজ এমন নিখুঁত,সুন্দর, সুষ্ঠু এবং সময়মত সম্পন্ন হতো যে, অন্যকারো পক্ষেই সেইভাবে তা সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না। তিনি এত ধৈর্যশীল ছিলেন যে, ভাষায় তার বর্ণনা সাধ্যাতীত। ‘কৃতজ্ঞ-চিত্ত’ বললে বরং তাঁর ধৈর্যশীলতা সম্পর্কে কিছুটা আভাস মাত্র দেওয়া যায়। দুনিয়ায় কেই-বা এমন আছেন সারাজীবনযিনি রিক্ততার মধ্যেই অতিবাহিত করেছেন, সারাজীবন পরিশ্রমে লিপ্ত ছিলেন আর গােটা জীবনটাই কেবল বিপদ-আপদের মধ্যে কাটিয়েওসর্বদা কৃতজ্ঞচিত্ত এবং সারাজীবন সমান কর্মতৎপর ছিলেন, কখনো কোনো অভিযােগ করেন নাই। আর যিনি এমন একটি জাতির স্রষ্টা, যে-জাতি কঠোর পরীক্ষা ও গুরুদায়িত্ব পালনের সময়েও অপূর্ব শ্রমশীলতা ও অসীম ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন।

সারা দুনিয়া ও গােটা মানবজাতির ইতিহাস পর্যালােচনা করলে এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব অল্পই দেখা যাবে।

তাঁর পরিশ্রম ও কঠোর জীবনযাপনের কাহিনী এত প্রসিদ্ধ যে, তা বিস্তারিত তাে দূরের কথা, সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করারও প্রয়ােজন পড়ে না, তবু আমরা এখানে তার ‘যৎকিঞ্চিৎ’ আলোচনা করব।(1)

প্রথম কিস্তি ।। দ্বিতীয় কিস্তি ।। তৃতীয় কিস্তি।। চতুর্থ কিস্তি

টীকা :
(1) সামনের অধ্যায়গুলোতে করা হবে।

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It