হাম দেখেঙ্গে

হাম দেখেঙ্গে

faiz ahmed faiz,urdu poet

কবি : ফয়েজ আহমদ ফয়েজ

পূর্বকথা : দুটো শব্দ দেশ ও সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে সবসময় একই অর্থ বহন করে— জালেম ও মজলুম। যিনি মজলুম, দুনিয়ার যেখানেই তার আবাস হোক, তিনি মজলুম। এই কালোত্তীর্ণ কবিতাটি লিখেছেন পাকিস্তানের কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজ। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের পক্ষে লেখা বিভিন্ন কবিতা নিবন্ধ প্রকাশসহ একাধিক বিবৃতি প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ সরকার যেই ১১ পাকিস্তানি নাগরিককে মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করেছিল তাঁদের একজন ছিলেন ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ।

এই কবিতার শিরোনাম ‘ও য়াবকা ওজহু রব্বিক’— যা কুরআনের সুরা আর-রহমানের ২৭ নম্বর আয়াত, সেখানে বলা হয়েছে : ‘সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে, শুধু বাকি থাকবে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর চেহারা।’ তো জালেম যে সিংহাসন নিয়ে আজ দম্ভভরে কথা বলে, কোথায় থাকবে তখন সে?

সুফি কবিতার আদলে লেখা এই কবিতায় ফয়েজ আহমদ ফয়েজ মনে করিয়ে দেন যে, মানুষ আল্লাহরই প্রতিছায়া। যে ‘আনাল হক’ হুসাইন বিন মনসুর হাল্লাজ বলেছেন, তা আমি আপনি প্রত্যেকেরই অন্তস্তলের আওয়াজ, কেবল খুঁজে পাই না জাগতিক কোলাহলের কারণে। আদমি খুদা সে জুদা নেহিঁ। চাইলেই, সচেষ্ট হলে আমরাও হতে পারি আল্লাহতে বিলীন—‘ফানা ফিল্লাহ’। সুতরাং ধর্মের নামে কিংবা যেকোনো যুক্তিতে মানুষের ওপর জুলুম করা মানে খোদার ওপর খোদকরি। খোদা কখনোই তা সহ্য করবেন না, শুধু শোধরাবার জন্য ছাড় দিবেন কিছুদিন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের জুলুমবাজির বিরুদ্ধে লেখা এই কবিতাটি সুর দিয়েছিলেন বিখ্যাত গায়িকা ইকবাল বানো। জিয়াউল হক পাকিস্তানে ‘হিন্দুয়ানি পোশাক’ আখ্যা দিয়ে শাড়ি নিষিদ্ধ করেছিলেন, তাই ১৯৮৫ সালে লাহোর স্টেডিয়ামে পঞ্চাশ হাজার জনতার সামনে ইকবাল বানো একটি কালো শাড়ি পরে এই কবিতাটি গান। পুরো স্টেডিয়াম ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে গর্জে ওঠে সেদিন।

পরবর্তীতে কবিতাটি হয়ে ওঠে মজলুমের কণ্ঠস্বর।

আমরাও দেখমু
এইডা জাইন্যা রাখ, আমরাও সাক্ষী হমু সেইদিন—
যেইদিনের ওয়াদা দেওয়া হইছে আমাগো
যেইদিনের কথা লেখা আছে আল্লাহর আরশে

যহন তোমাগো পাহাড়সমান জুলুমের গদি
তুলার মতো ফরফরাইয়া উড়ব
আমরা যারা তোমাগো পায়ের তলায় থাকি
থরথর কইরা কাঁইপা উঠব সেই তলা

আর তোমরা যারা বন্দুকের নল দাগাইয়া
হুকুমের পোদ্দারি করো, তোমাগো চাঁদকপালে
আসমান ভাইঙ্গা ঠাডা পড়ব

আমরা দেখমু
সেদিন তোমাগো চেহেরা
যহন খোদার জমিনে খোদার ঘর থিকা
সব খোদকরির ভূত তাড়ানো হইব
আমরা মজলুম আমজনতাগো
আমরাই বসামু ক্ষমতার মসনদে
তারপর ছুইড়া ফালামু তোমাগো
রক্তমাখা রাজমুকুট আর সাধের সিংহাসন
সেইদিন আমরা দেখমু

নাম থাকব কেবল আল্লাহর
যিনি গায়েব আবার হাজির-নাজির
যাঁরে দেখা যায় তাঁর সৃষ্টির চেহেরায়
যিনি দেখে রাখেন আমাগো সবাইরে
‘আনাল হক’ স্লোগানে কাঁইপা উঠব দুনিয়া
যেই নামের হকদার আমিও, তুমিও

আর রাজত্ব করমু আমরা খোদার সৃষ্টিরা
সেই রাজত্ব হইব আমাগো, সেই রাজত্ব হইব জনতার।

মূল উর্দু উচ্চারণ :
হাম দেখেঙ্গে
লাযিম হ্যায় কি হাম ভী দেখেঙ্গে;
ওঃ দিন কি জিস কা ওয়াদা হ্যায়
জো লওহে-আযল মেঁ লিখ্‌খা হ্যায়
হাম দেখেঙ্গে

জব যুলম-ও-সিতাম কে কোহে-গিরাঁ
রুঈ কি তারাহ উড় যায়েঁগে
হাম মহকুমোঁ কে পাওঁ-তলে
ইয়ে ধারতী ধার-ধার ধারকেগী
অওর আহলে-হাকাম কে সার-উপার
জব বিজলি কার-কার কারকেগী
হাম দেখেঙ্গে

জব আরযে-খোদা কে কা’বে সে
সব বুত উঠায়ে জায়েঙ্গে
হাম আহলে-সাফা মারদুদে-হারাম
মসনদ পে বিঠায়ে জায়েঙ্গে
সব তাজ উছালে জায়েঙ্গে
সব তখ্‌ত গিরায়ে জায়েঙ্গে
হাম দেখেঙ্গে

বাস্‌ নাম রাহেগা আল্লাহ কা
জো গায়িব ভী হ্যায় হাযির ভী
জো মানযার ভী হ্যায় নাযির ভী
উটঠেগা ‘আনাল-হক’ কা না’রা
জো ম্যায়ঁ ভী হুঁ অওর তুম ভী হুঁ

অওর রাজ করেগী খল্‌কে খোদা
জো ম্যায়ঁ ভী হুঁ অওর তুম ভী হুঁ।

তর্জমা :
মওলবি আশরাফ (পিকোলো আশরাফ)
লেখক ও অনুবাদক

পিকোলো আশরাফ, মওলবি আশরাফ, অনুবাদক, লেখক,

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It