বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের প্রেস বিজ্ঞপ্তি

১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখান করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল। গতকাল (৩ জুন) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস এক প্রেস বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে সরকারের রক্তচোষা সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কর্তৃক প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে উদ্ভুত আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে। যা শিক্ষাখাতের প্রতি সরকারের চরম বানিজ্যিক ও মুনাফালোভী মনোভাবকেই প্রকাশ করে।

বাজেট প্রতিক্রিয়া ২০২১-২২ অর্থবছর- মজলুমের কন্ঠস্বর
মজলুমের কন্ঠস্বরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত
বাজেটের প্রতিক্রিয়া

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর ধারা ৪২ অনুসারে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণের মানদণ্ড ছিল দেশের অার্থ সামাজিক পরিস্থিতি। অথচ বাস্তবতা হল প্রতিবছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের কাছ থেকে লাগামহীনভাবে কয়েকগুণ মুনাফা আদায় করা হয়। তার উপর এই অতিরিক্ত ভ্যাট নিশ্চিতভাবেই শিক্ষার্থীদের উপর অতিরিক্ত বোঁঝা চাপিয়ে দেয়ার পায়তারা। গত কয়েক দশকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একেকটি বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছে সরকার। প্রতিবছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে না তুলে সরকার একটা বড় সংখ্যার শিক্ষার্থীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়তে বাধ্য করছে । ‘টাকা যার শিক্ষা তার’ এই নীতি অবলম্বনকারী সরকার শিক্ষাকে ‘পণ্য’ করার পরিকল্পনায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর ভ্যাট নির্ধারণ করার পায়তারা করছে। যা ছাত্রসমাজ কখনোই বাস্তবায়ন হতে দিবেনা। করোনায় যেখানে আর্থিক সংকটের দরুন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, সেখানে সরকার তাদেরকে সহয়তা দিয়ে ধরে রাখার পরিবর্তে করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। একবছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে তথাপি সবধরনের বেতন ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। তার উপর কর আরোপের প্রস্তাবনা বস্তুত শিক্ষার্থীদের কাছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে ।

উল্লেখ্য ২০১০ ও ২০১৫ সালেও সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর চাপিয়ে দিতে সচেষ্ট হয়েছিল, যা তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাতিল হয়। তখন দেশজুড়ে ছাত্রসমাজের কন্ঠে উচ্চরিত হয়েছিল সেই দুঃসাহসিক স্লোগান, ভ্যাট দিব না, গুলি কর! বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভ্যাটের নামে এই রাষ্ট্রীয় লুটতরাজ বন্ধ করা না হলে আবারও ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে৷ তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেও ছাত্রদের জোয়ার বন্ধ করা যাবে না৷

বিবৃতিতে অবিলম্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর কর আরোপের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে, করোনাকালীন বেতন ফি মওকুফ ও অনলাইন ক্লাসের সহায়ক উপাদান বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার দাবি জানানো হয়।

লিখাটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Date/Time:

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed By Invention-It